প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা ব্লকে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার সংকেত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ঐতিহাসিক 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি'কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে বাংলাদেশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোয় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নতুন ভৌগোলিক-রাজনৈতিক মেরুকরণে ঢাকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর অংশ হিসেবেই বিষয়ের ওপর নজর রাখছে সরকার।মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা ও সামরিক আত্মনির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগসন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কৌশলগত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করেছেন যে, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের যৌথ সামরিক চুক্তি 'মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট'-কে বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এবং প্রয়োজনবোধে মুসলিম উম্মাহর এই ঐতিহাসিক নিরাপত্তা জোটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আমাদের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছি। সুতরাং, মধ্যপ্রাচ্যে যদি কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়—বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা জোট গঠিত হয়—তাহলে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কোনো অস্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না। দেখা যাক সামনে কী ঘটে, আমরা এটিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।"তিনি আরও বলেন, বিশ্বমঞ্চে ও মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ এখন এক সম্মানিত ও গুরুত্ববহ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ ঢাকা ও বাংলাদেশের নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে গভীরভাবে আগ্রহী। প্রতিমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, পবিত্র নগরী মক্কা ও সউদী ভূমির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে অপরিসীম শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের টান। "মক্কা রয়েছে প্রতিটি বাংলাদেশির হৃদয়ের গহীনে," যোগ করেন তিনি।ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’চলতি মাসের শুরুর দিকে পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।চুক্তির ধারা অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করা হলে তা তিনটি রাষ্ট্রের ওপরই যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে—যা অনেকটা ন্যাটোর (NATO) ৫ম ধারার মতো কার্যকর সম্মিলিত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। পারমাণবিক শক্তির অধিকারী পাকিস্তান, সামরিক প্রযুক্তিতে বিশ্বসেরা সামরিক শক্তি তুরস্ক এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী সৌদি আরবের এই জোট মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিতকরণে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। বাংলাদেশও এই প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক মনোভাব দেখানোয় গোটা দক্ষিণ এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বে এক নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ভারসাম্যের নতুন আশা জাগাচ্ছে।সৌদি যুবরাজের আহ্বানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফরের প্রস্তুতিএদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই নতুন অধ্যায়ে দ্রুতই সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এক সরকারি পত্রে সৌদি সফরের উষ্ণ নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন।সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ এই আমন্ত্রণপত্রটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। পত্রে দুই দেশের ভাতৃপ্রতিম জনগণের সার্বিক স্বার্থ ও সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সৌদি যুবরাজ। গ্রীষ্ম মৌসুম শেষেই রিয়াদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সফরটি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ