প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
সাত বছর পর ভারত সফরে শি জিনপিং: ব্রিকস সম্মেলনে মুখোমুখি মোদি-জিনপিং
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালের লাদাখ সীমান্ত সংঘাতের পর তৈরি হওয়া কূটনৈতিক তিক্ততা কাটিয়ে সাত বছর পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। ভূ-রাজনৈতিক টানা-পোড়েনের মাঝে এই সফরকে দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।ব্রিকস আয়োজক কমিটির সূত্র অনুযায়ী, চীনা প্রতিনিধি দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বর্তমানে দিল্লিতে হোটেল চূড়ান্ত করা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে সর্বশেষ ভারত সফরের সময় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় ২০০ জন কর্মকর্তা ছিলেন। তবে দীর্ঘ বিরতির পর এবারের সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে প্রায় ৪০০ জন কর্মকর্তা অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে, যা এই সফরের গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরে।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের সফরের পরই ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মারাত্মক ধস নামে। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে উভয় দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ও সামরিক উত্তেজনা বজায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বরফ গলতে শুরু করে।বিশেষ করে, দীর্ঘ সাত বছরের বিরতি কাটিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বেইজিং সফরের পর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় সংলাপে গতি ফেরে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যকার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির সম্পর্কের সমীকরণ এবং সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান কতটুকু সম্ভব হয়, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ