প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে ইরান-মার্কিন সংঘাত: নিহত অন্তত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তীব্র প্রাণহানি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বিভিন্ন হামলায় অন্তত ২০ জন নাবিক ও বন্দরকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই নৌপথে বেসামরিক নাবিকদের ওপর অব্যাহত হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা হরমুজ প্রণালি এখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক নৌপথে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এই নৌপথে মোট ৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৩৫ জন এবং ১ জন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।আইএমও-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে গড়ে প্রতি ২.৬ দিনে একটি করে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা বা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই ঘটনাগুলোর সিংহভাগই দুর্ঘটনা নয়, বরং সরাসরি সামরিক হামলা বা লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের ফলাফল।হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে চলমান সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চরম প্রভাব ফেলছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক নৌ-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্য তরীর নাবিক ও বন্দরকর্মীরা নির্দোষ বেসামরিক নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের জীবন চরম ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক মহল এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ এবং সামরিক উস্কানি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ