প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক মসজিদে ৭ বছরে ৩ বার হামলা: মুসলিমদের মাঝে গভীর উদ্বেগ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি মসজিদে বিগত সাত বছরে তিনবার বর্বরোচিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক এই হামলায় মসজিদ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি পবিত্র কুরআনের আয়াত সম্বলিত ফ্রেম ভাঙচুর এবং ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি এঁকে দেওয়া হয়। বারবার একই উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করায় স্থানীয় মুসলিমদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী সম্প্রদায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে 'নফরত বা ঘৃণা প্রসূত অপরাধ' হিসেবে গণ্য করে অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন নিশ্চিত করে যে, ওহাইওর ‘ওয়েস্টউড ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার’-এ গত ৩ আগস্ট প্রত্যুষে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। তারা তার কাটার যন্ত্র দিয়ে চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনী কেটে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং ভবনের কাচ ভেঙে ভেতরে ঢোকে।হামলাকারীরা কেবল ভাঙচুরেই ক্ষান্ত হয়নি, কেন্দ্রের প্রশাসনিক কার্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়ে জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করে। নিরাপত্তা ক্যামেরা ও টেলিভিশন মনিটরসহ একাধিক মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায় তারা। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তারা দেওয়াল থেকে ঝুলানো পবিত্র কুরআনের আয়াত সম্বলিত দুটি ফ্রেমের কাচ ভেঙে ফেলে এবং হোয়াইটবোর্ডে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ, চরম বিদ্বেষপূর্ণ বাক্য ও প্রাণনাশের হুমকি (‘মৃত্যু’) লিখে রেখে যায়।প্রশাসনের উদাসীনতা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভহামলার পর থেকে স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নাশিদ শাকির জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ এসে আলামত সংগ্রহ ও প্রাথমিক রিপোর্ট সম্পন্ন করলেও পরবর্তীতে তদন্তের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। শাকিরের ভাষায়, "পুলিশ এসে ফরমালিটি পালন করেছে, কিন্তু পরে কোনো কার্যকরী অনুসরণ বা অগ্রগতি হয়নি।"গত ৭ বছরের মধ্যে এই নির্দিষ্ট সেন্টারটিতে এটি তৃতীয় হামলা। এর আগের ঘটনাগুলোতেও মসজিদের দেওয়ালে বর্ণবাদী ও মুসলিমবিদ্বেষী কথা লিখে রেখে যাওয়া হয়েছিল, অথচ আজও কোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়নি।আইনগত স্বীকৃতি ও কড়া পদক্ষেপের দাবিসিনসিনাটি অঞ্চলের মুসলিম প্রতিনিধি তালা আলী জানান, এলাকাটিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে বারবার এই ধরনের বিদ্বেষ ও হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো এই ধরনের বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক হুমকি ও তটস্থ করার অপচেষ্টাকে প্রকাশ্যে এবং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানানো।পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এমন এক সময়ে এই হামলাটি সংঘটিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতি ও সমাজনীতিতে মুসলিম ও আরব-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর বিপরীতে কট্টরপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষী মহল নতুন করে বিদ্বেষ ও কুসংস্কার ছড়াতে তৎপর হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতি মেনে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মার্কিন প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ