প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
সীরাতের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনানীতিই জুলাই অভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা পূরণের পথ: চরমোনাই পীর
পবিত্র ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রদত্ত এক বিশেষ বার্তায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আনীত দ্বীন ও সীরাতের আলোকেই কেবল বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথ ও নীতিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ নিয়ে আগমন করা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র মিলাদ ও সীরাত স্মরণে এক বাণীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবসভ্যতার ইতিহাসের সেরা মানব হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। তাঁর আনীত দ্বীন কেবল ব্যক্তিগত এবাদত-বন্দেগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী প্রদান করেছে।তিনি তাঁর বার্তায় ইতিহাসের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—মহানবী (সা.)-এর আনীত জীবনব্যবস্থা যখনই রাষ্ট্র পরিচালনায় বাস্তবায়িত হয়েছে, তখনই পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যায়-অবিচার ও নৈতিক ধসের প্রেক্ষাপটে টেকসই শান্তি ফেরাতে হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট জীবন বিধানই একমাত্র সমাধান।বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, "বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম এবং তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে অনুকরণ ও অনুসরণ করেন। সুতরাং, একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর মহান নীতি ও আদর্শকে অনুসরণ করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।"তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে জুলাই আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে, তার পেছনে সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা ছিল ন্যায়বিচার ও শোষণের অবসান। এই পবিত্র দিনে মহানবী (সা.)-এর সেই সুমহান রাষ্ট্রীয় নীতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি রাষ্ট্রনেতা ও সর্বস্তরের তাওহীদি জনতার প্রতি আহ্বান জানান।একই সাথে তিনি মুসলিম উম্মাহকে নিজেদের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ, সুন্নাহ চর্চা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শরিয়াহর অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সুন্নাহর এই আদর্শ আঁকড়ে ধরার মাধ্যমেই মানুষের দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় জীবন শান্তিময় হয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ