প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
যেকোনো বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলায় মিশরীয় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: সিসি
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলা এবং মিশর ও এর সম্পদ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বুধবার নবীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।সিসি জানান, তিনি মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা সরাসরি এবং নিরন্তর পর্যবেক্ষণ করছেন। ভূমধ্যসাগরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলার কয়েক সপ্তাহ পর এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে তাঁর এ বক্তব্য সামনে এলো।মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বুধবার নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো বাহ্যিক হুমকি থেকে মিশর এবং দেশটির সম্পদ ও সক্ষমতা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।মিশরের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র প্রকাশিত নবীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে সিসি এ কথা বলেন।সিসি বলেন, “আমি নিশ্চিত করছি যে, মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে মিশর এবং এর সক্ষমতাকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।”তিনি আরও জানান, মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতার মাত্রা তিনি ঘনিষ্ঠভাবে, সরাসরি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।সিসির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর এই তদারকি কেবল সামরিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও এর আওতায় রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নতি করা এবং কয়েক দশক ধরে জমে থাকা ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা।মিশরের প্রেসিডেন্ট বলেন, নাগরিকদের সরকারি সেবা দিতে গিয়ে যেসব অসুবিধা বা ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, সেগুলো দূর করার কাজও অব্যাহত রয়েছে।মিশরীয় সরকারের ভাষ্যমতে, গত ২৯ জুলাই ভূমধ্যসাগরের দামিয়েত্তা বন্দরে একটি ড্রোন হামলার ঘটনায় দুটি গ্যাস ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।দামিয়েত্তা বন্দরের ওই ঘটনার পরই সিসি দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে এ মন্তব্য করলেন। হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে কায়রো জানিয়েছে, হামলার পরিস্থিতি ও পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে মিশর সরকার।আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সময় এ ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এমন আশঙ্কাও রয়েছে যে, চলমান উত্তেজনার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে মিশরের প্রেসিডেন্টের সামরিক প্রস্তুতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্যকে দেশটির নিরাপত্তা অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ