প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
পারমাণবিক পরীক্ষা আস্থা নষ্ট করে, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ায়: গুতেরেস
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা আন্তর্জাতিক আস্থা নষ্ট করে এবং নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দেয়। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী সব দেশকে পরীক্ষার ওপর বিদ্যমান স্বেচ্ছামূলক স্থগিতাদেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তি (CTBT) কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পারমাণবিক অস্ত্রধারী সব দেশকে পারমাণবিক পরীক্ষার ওপর বিদ্যমান স্বেচ্ছামূলক স্থগিতাদেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তি (CTBT) কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গুতেরেস বলেন, পারমাণবিক পরীক্ষা আন্তর্জাতিক আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দেয়।তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি চুক্তিটি কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন আমরা পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি।”প্রতি বছর ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী দিবস হিসেবে পালিত হয়। পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সচেতনতা বাড়ানো এবং এ ধরনের পরীক্ষা বন্ধে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা জোরদার করাই এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।১৯৯১ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম বৃহত্তম পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র কাজাখস্তানের সেমিপালাতিনস্ক পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে দিনটিকে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রতীক হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।জাতিসংঘ ১৯৯৬ সালে বিশ্বের সব ধরনের পারমাণবিক বিস্ফোরণ বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তি (CTBT) গ্রহণ করে। চুক্তিটির উদ্দেশ্য হলো সামরিক বা অন্য যেকোনো উদ্দেশ্যে পারমাণবিক বিস্ফোরণ বন্ধ করা।তবে চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। কারণ, নির্ধারিত কিছু রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পূর্ণ না হওয়ায় এর কার্যকারিতা শুরু হয়নি।গুতেরেসের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো, যখন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের অবস্থান হলো, পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো কার্যকর করা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ