প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
দেশের সর্ববৃহৎ সংকট বিজেপি, ঘৃণা ছড়ানো ছাড়া কোনো এজেন্ডা নেই: আখিলেশ যাদব
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) দেশের ‘সবচেয়ে বড় সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সভাপতি আখিলেশ যাদব। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাখিবন্ধন উৎসবে নিজের পৈতৃক গ্রাম সাইফাইতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সমাজে ঘৃণা ছড়ানো ছাড়া বিজেপির আর কোনো উন্নয়নমূলক এজেন্ডা নেই। উত্তর প্রদেশের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, বিজেপি যদি ক্ষমতা থেকে সরে যায়, তবেই দেশের সকল সংকটের নিরসন ঘটবে।ভারতে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নীতি ও ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে সমাজবাদী পার্টির প্রধান আখিলেশ যাদব বলেছেন, এই দলটিই বর্তমান ভারতের সবচেয়ে বড় জাতীয় সংকট।নিজের নিজ গ্রাম সাইফাইতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সমাজতন্ত্রের আদর্শ ত্যাগ করে এবং জয়প্রকাশ নারায়ণের ঐতিহ্যকে বিক্রি করে রাজনীতি করছে বিজেপি।আখিলেশ যাদব বলেন, "বিজেপি যখন গঠন করা হয়, তখন তারা নিজেদের সমাজবাদী দল হিসেবে জাহির করতে জয়প্রকাশ নারায়ণের ছবি ব্যবহার করেছিল। আর আজ তারা জয়প্রকাশ নারায়ণ আন্তর্জাতিক কেন্দ্র (জেপিএনআইসি) বেসরকারি খাতে বিক্রি করে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বিজেপিকে কেনার মতো কোনো ক্রেতা বাজারে নেই; থাকলে তারা নিজেদেরও বিক্রি করে দিত।"মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতির দুরবস্থাদেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান। তিনি দাবি করেন, কর্পোরেট শিল্পপতিদের মুনাফা বাড়াতে এবং দলীয় নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে দিচ্ছে।পেট্রোলে ইথানল মেশানো এবং চিনির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভেজালবিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে সরকার কিছু ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিকে জনগণের পকেট কাটার সুযোগ করে দিয়েছে। চিনি, ডিজেল ও পেট্রোল চড়া দামে বিক্রি করে কোম্পানিগুলোকে বিপুল মুনাফার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।"স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাউত্তর প্রদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর চরম অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালে ওষুধের সংকট, অকার্যকর অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং সর্বত্র পুলিশের চাঁদাবাজিতে সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চরম অনিয়ম হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।স্বাধীনতার প্রায় আট দশক পরও মিডিয়ার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়ন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আখিলেশ। তিনি বলেন, "ব্রিটিশরা চলে গেলেও আমরা এখনো সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে পারিনি। আজ সাংবাদিকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থার ছবি তুললে বা সত্য প্রকাশ করলে তাদের জেলে পাঠানো হয়।"শিক্ষা ব্যবস্থা ও কৃষকদের সংকটবিজেপিকে 'প্রশ্নভীতিতে আক্রান্ত দল' উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা সাধারণ মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে চায় না। তিনি বলেন, "বিজেপি সবচেয়ে বেশি ভয় পায় প্রশ্নকে। যারা প্রশ্ন ভয় পায়, তারা গণতন্ত্রকে দমন করবে এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানের মূল্যবোধকে আঘাত করবে।"কৃষি খাতের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, সঠিক সময়ে সার ও বীজ না পাওয়া এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ায় কৃষকরা চরম সংকটে। "আগে শুনতাম বস্তা থেকে সার চুরি হতো, আর এখন আস্ত সার বস্তাই গায়েব হয়ে যাচ্ছে। এর দায় কার?" প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কৃষকদের লোকসানের মুখে ফেলে সরকার বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানির সাথে সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষর করছে।নেপালের বন্যায় সাহায্যের আহ্বানপ্রতিবেশী দেশ নেপালে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি, গবাদিপশুর ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখিলেশ যাদব। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেপালকে সর্বাত্মক ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানের জন্য ভারত সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ