প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
ইসলামকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম বললেন ভারতের হিন্দু মন্ত্রী
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ইসলামকে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও শ্রেষ্ঠ জীবনব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি রাজ্যের কোপ্পল জেলার কুকনূর শহরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং মন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা ও বরখাস্তের দাবি তোলে।ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডি বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক আলোচনা ও ইসলামের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে ইসলামকে ‘অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।রাজ্যের কোপ্পল জেলার কুকনূরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বাসবরাজ রায়ারেড্ডি বলেন, ইসলাম ধর্ম মানুষকে বাস্তবসম্মত ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের সঠিক পথ দেখায়। মানবকল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এ ধর্মের আদর্শ অত্যন্ত অনন্য ও গ্রহণযোগ্য। পর্যাপ্ত অধ্যয়ন ও সঠিক জ্ঞানের অভাবের ফলেই বর্তমানে অনেকে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও ভুল ধারণা পোষণ করে থাকেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।নিজের ধর্মীয় উপলব্ধি ও জ্ঞানচর্চা তুলে ধরে কর্ণাটকের এই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী আরও জানান, কোনো অন্ধবিশ্বাস বা আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি বিভিন্ন ধর্ম, দর্শন ও ইতিহাস নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে গবেষণা ও পড়াশোনা করেন। সেই জ্ঞানপিপাসা থেকেই আব্রাহামিক ধর্মসমূহ, বিশেষ করে ইসলামের মানবিক ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগের সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে মন্ত্রীর এই সত্যনিষ্ঠ ও প্রশংসাসূচক মন্তব্যের পরই কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বিজেপির কর্ণাটক রাজ্য সভাপতি আর. অশোক এক বিবৃতিতে অবিলম্বে বাসবরাজ রায়ারেড্ডিকে তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহার করে রাজ্য ও দেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার যেন তাঁকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করেন-এমনটাই দাবি করেন বিজেপি সভাপতি। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রীকে বরখাস্ত না করা হলে প্রমানিত হবে যে মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির দর্শনের রাজনৈতিক কৌশল কেবলই ভোটের স্বার্থে প্রদর্শনী।ভারতে বর্তমানে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টির প্রক্রিয়ার মাঝেই এক হিন্দু মন্ত্রীর নিরপেক্ষ ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সত্য ও নিরপেক্ষ জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে ইসলাম বিদ্বেষ মোকাবেলার গুরুত্ব এই ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ