ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ে বৃহন্নমুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (বিএমসি) পরিচালিত কুপার হাসপাতালে বোরকা ও হিজাব পরা থাকায় দুই মুসলিম নারীকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভারতে মুসলিম ধর্মীয় পোশাক ও পরিচয়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের আরও একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। মুম্বাইয়ের বিএমসি পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী কুপার হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের কাছে বোরকা ও হিজাব পরা দুই মুসলিম নারীকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত তাদের এক পুরুষ আত্মীয় পুরো ঘটনাটি মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করেন।
এ ঘটনার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) বিধায়ক রইস শেখ ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "আমি ডেপুটি মিউনিসিপাল কমিশনারের (জনস্বাস্থ্য) সঙ্গে কথা বলেছি এবং এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের কারণে কোনো নারীকে বৈষম্যের শিকার হতে দেওয়া যায় না।"
অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান ভুক্তভোগী জোহরা শেখকে পাশে নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এ ধরনের আচরণ দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যারা প্রতিদিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়, তারাই নারীদের বোরকা ও হিজাবকে নিশানা বানাচ্ছে। মুসলিম নারীরা বোরকা ও হিজাব পরেন এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও পরবেন। তাদের কেউ থামাতে পারবে না। যে নিরাপত্তাকর্মী রোগীকে দেখতে আসা নারীকে বোরকা পরার কারণে আটকেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"
হাসপাতাল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ (বিএমসি) এখন পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।