জর্ডানের সেনাবাহিনী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে দেশটির দিকে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। জর্ডানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে ১০টি প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। বাকি তিনটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে অনেক দূরের দুর্গম অঞ্চলে পড়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এটি জর্ডানের ওপর দ্বিতীয় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
জর্ডানের সেনাবাহিনী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছে যে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে তাদের দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে রাজ্যটি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “জর্ডানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করেছে এবং সেগুলোর মধ্যে ১০টিকে প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। আর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে অনেক দূরে দুর্গম অঞ্চলে পতিত হয়েছে।”
সেনাবাহিনী জানায়, “অনুমোদিত কার্যপ্রণালি অনুযায়ী হামলাটি মোকাবিলা করা হয়েছে” এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, বিশেষায়িত দলগুলো ক্ষেপণাস্ত্র পতনের স্থানগুলো নিরাপদ করার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী নাগরিকদের কোনো অপরিচিত বস্তুর কাছে না যেতে এবং তা সরানোর চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের কোনো বস্তু দেখা গেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ছড়িয়ে না দিয়ে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আনাদোলুর এক সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবরের মধ্যেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জর্ডানের বেশ কয়েকটি প্রদেশের বাসিন্দারা তাদের ফোনে সতর্কতামূলক বার্তা পান।
পরবর্তীতে নাগরিকদের কাছে আরেকটি বার্তা পাঠানো হয়। এতে জানানো হয়, বিপদ কেটে গেছে এবং তিনটি গভর্নরেটে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যেতে পারে।
৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে জর্ডানের ওপর এটি দ্বিতীয় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
হরমুজ প্রণালীর কাছে লারাক দ্বীপকে লক্ষ্য করে রবিবারের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে সোমবার ভোরে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত কোনো বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা অস্বীকার করেছে। তবে তারা একটি ইরানি ড্রোন মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ শুরু করে। এর অংশ হিসেবে তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে এবং ওই অঞ্চলে তাদের দাবিকৃত “আমেরিকান ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে” হামলা চালিয়ে এর জবাব দেয়।
২০২৬ সালের ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান শত্রুতা অবসান এবং হরমুজ প্রণালী নৌচলাচলের জন্য খুলে দিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে এর বাস্তবায়ন এবং জলপথটির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।
গত জুলাইয়ে সংঘর্ষ আবার শুরু হয়। এরপর মঙ্গলবার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেয়।