রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

আর্কাইভ দেখুন

দিল্লিতে মুসলিম যুবকের বিনা মূল্যের নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ‘মাদ্রাসা’ আখ্যা দিয়ে বন্ধের চক্রান্ত

দিল্লিতে মুসলিম যুবকের বিনা মূল্যের নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ‘মাদ্রাসা’ আখ্যা দিয়ে বন্ধের চক্রান্ত

ভারতের উত্তর-পূর্ব দিল্লির লোনি এলাকার লালবাগে অবস্থিত ‘ফারহা মেমোরিয়াল স্কিল সেন্টার’ নামের একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চালিত নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ‘মাদ্রাসা’ আখ্যা দিয়ে বন্ধ করার পাঁতারা করছে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থীরা। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে বিজেপি নেতার স্বজনের নেতৃত্বে একের পর এক উগ্রবাদী জনতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চড়াও হয়ে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে আসছে। পুলিশ চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এই প্রতিষ্ঠানটির ওপরই নজরদারি বাড়িয়েছে।উত্তর-পূর্ব দিল্লির লালবাগ এলাকায় চলতি বছরের মে মাসে ‘ফারহা মেমোরিয়াল স্কিল সেন্টার’ চালু করেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ দানিশ। ২০২২ সালে অসুস্থতায় মারা যাওয়া নিজের স্ত্রী ফারহার স্মৃতির উদ্দেশ্যে তিনি কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন। দূরদূরান্ত থেকে কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করা স্ত্রীর অকালমৃত্যুর পর দানিশ পণ করেন—তিনি এলাকার অসহায় ও অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিনামূল্যে সেলাই, কম্পিউটার, মেহেদি আর্ট, ক্যালিগ্রাফি ও স্পোকেন ইংলিশ শেখাবেন। প্রতিষ্ঠানটির আঙিনায় ভারতের জাতীয় পতাকাও উড়তে দেখা যায়।তবে এই মহতী উদ্যোগ বেশিদিন বরদাশত করেনি স্থানীয় চরমপন্থীরা। ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বিজেপি কাউন্সিলর সুনীতা সোমের আত্মীয় রাজেশ সোমের নেতৃত্বে প্রায় একশত উগ্র হিন্দুত্ববাদীর একটি দল কেন্দ্রটি ঘেরাও করে। রাজেশ সোম ভেতরে ঢুকে নারীদের অপমান করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—মুসলিম যুবকের পরিচালিত এই কেন্দ্র বা ‘মাদ্রাসা’ তারা কিছুতেই চলতে দেবে না।আক্রান্ত দানিশ নিকটস্থ লালবাগ পুলিশ চৌকিতে ফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ তাঁকে উল্টো থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলে। কিন্তু উপস্থিত নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দানিশ একা স্থান ত্যাগ করতে পারেননি। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর আবারও ঘেরাও করা হলে পুলিশে ফোন করা হলেও পুলিশ মাঝপথে লাইন কেটে দেয়। দানিশ চরমপন্থী নেতা সোমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সোম তাঁকে সাফ জানিয়ে দেয়, প্রতিষ্ঠানটি তারা বন্ধ করেই ছাড়বে। ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর আবারও কট্টরপন্থীরা ভুয়া সাংবাদিক ও ক্যামেরা নিয়ে এসে ঘটনাকে ‘গোপন মাদ্রাসা’ উন্মোচনের রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়।আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুষ্কৃতকারীদের তাণ্ডব থামানোর পরিবর্তে দিল্লি পুলিশ উল্টো প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও নথি নিয়ে দানিশকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এ নিয়ে সমালোচনা বাড়লেও সাব-ইনস্পেক্টর রাজেশ কুমার চরমপন্থীদের সাফাই গেয়ে দাবি করেন, উগ্রবাদীদের ‘সন্দেহ’ করার অধিকার রয়েছে।তবে স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধভাবে দানিশ ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৮ বছর বয়সী হিন্দু শিক্ষার্থী অংশিকা সিং জানান, তাঁর পরিবারকে উগ্রপন্থীরা প্ররোচিত করার চেষ্টা করলেও তিনি প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ এটি কোনো ধর্মীয় মাদ্রাসা নয়। একই কথা জানিয়েছেন সীমা, আকাশ সিং ও প্রেমবতী দেবীর মতো হিন্দু প্রতিবেশীরা। তাঁদের মতে, দানিশ সম্পূর্ণ বৈধ ও মানবিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রটি চালাচ্ছেন। এই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ পেয়ে ইতোমধ্যেই অনেক নারী আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন।২০২০ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার ইতিহাস বহনকারী উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে যেখানে এই স্কিল সেন্টারটি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠছিল, সেখানে উগ্র হিন্দুত্ববাদের এই পরিকল্পিত আক্রমণ ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নারী সুরক্ষার ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।


ভারত নিয়ে অতিরিক্ত না ভেবে নিজ দেশের স্বার্থে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারত নিয়ে অতিরিক্ত না ভেবে নিজ দেশের স্বার্থে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারতের সাথে অযথা ‘ভারত জিকির’ না করে নিজ দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মনোযোগী হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি এ বার্তা দেন। ঢাকা দিল্লির সঙ্গে একটি সমতার ভিত্তিতে নতুন ও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশ এবং তাদের সঙ্গে একটি কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে ভারতকেন্দ্রিক চিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। প্রতিবেশীর মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ জড়িত এবং যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে, সেখানেই বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক যোগাযোগের পরিধি আরও বড় করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাইডলাইন বৈঠকসহ যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ যুক্ত হবে।ভারতে বাংলাদেশ সীমান্তে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি কড়া বার্তা দেন। তিনি জানান, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশকে আর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালনে দেখা যাবে না। সব সমস্যার সুরাহা আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে। পাশাপাশি আগের সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে জোরালো আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


বিশ্বজুড়ে মুসলিম নিপীড়ন রোধে ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

বিশ্বজুড়ে মুসলিম নিপীড়ন রোধে ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও রাজ নৈতিক নেতৃবৃন্দ। রোববা র রাজধানীর তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ‘সেভ দ্য পিপল’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলিম উম্মাহ নির্যাতিত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। তাই কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ বা বিবৃতি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফিলিস্তিন ও ভারতসহ অন্যান্য দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র ও ওআইসিকে (OIC) কূটনৈতিক ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।‘দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন ও উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য পিপলসের কনভেনার মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী এবং সঞ্চালনা করেন মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান মুসলিম নিপীড়নের কঠোর সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, দেশটিতে প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ঐতিহাসিক মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে নির্যাতন, হয়রানি ও সহিংসতা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ভারতের মুসলিমদের ওপর চলমান এসব নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে বক্তারা দায়ীদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মুসলমানদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।ফিলিস্তিন পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, গাজা ও ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে নিরীহ, নিরস্ত্র নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর দখলদার শক্তির বর্বর হামলা ও ধারাবাহিক গণহত্যা বিশ্ব মানবতার ওপর বড় আঘাত। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেখানে মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করতে ওআইসি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু কথার কথা না বলে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, "মুসলিম বিশ্বের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে ‘মক্কা চুক্তি’র মূল চেতনা বাস্তবায়ন জরুরি। এ চুক্তিকে কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের যেখানেই মুসলমানরা নির্যাতিত হবে, সেখানেই সাহায্য ও সুরক্ষার হাত বাড়িয়ে দিতে একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক মুসলিম ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।"গোলটেবিল বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মুসলিমদের মৌলিক অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠায় বিশ্বজুড়ে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে এই বর্বরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, দিলু রোড মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি সালাহ উদ্দিন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, আব্দুল আহাদ নুর, অ্যাডভোকেট মঈনুদ্দীন, মাওলানা জয়নুল আবেদীন এবং মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান।


সৌদি আরবে যৌথ অভিযানে ১২ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল রিয়াদ

সৌদি আরবে যৌথ অভিযানে ১২ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল রিয়াদ

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মাত্র এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ৭৯৬ জন প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালনা করা এক বিশেষ যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। একই সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১২ হাজার ৫৭ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে বহিষ্কার করা হয়েছে।৫. বিস্তারিত প্রতিবেদন সৌদি আরবের বিভিন্ন সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে দেশজুড়ে চালানো এই নিরাপত্তা অভিযানে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি—৭ হাজার ৫০৪ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের দায়ে ৩ হাজার ৭৮৩ জন এবং প্রচলিত শ্রম আইন অমান্য করায় ৩ হাজার ৫০৯ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।অভিযানের পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা বানচাল করেছে নিরাপত্তা কর্মীরা। এই সময় সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে ১ হাজার ২৭৩ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ার এবং ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনের নাগরিক। বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে, দেশ ছেড়ে বেআইনিভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আরও ২৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকের পর পর প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আটক হওয়াদের মধ্যে ১৮ হাজার ৬৭৭ জনকে আউটপাস বা প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য স্ব-স্ব দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৪৮৭ জনকে চূড়ান্ত ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।আইন লঙ্ঘনকারীদের সাহায্য-সহযোগিতা করার বিরুদ্ধেও শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। অনুপ্রবেশকারীদের পরিবহন, অবৈধ আশ্রয় বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে ২১ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।বর্তমানে সৌদি আরবে ৩০ হাজার ২৫৭ জন প্রবাসীদের বিরুদ্ধে এই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সচল রয়েছে; যার মধ্যে ২৮ হাজার ৫২৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৭২৮ জন নারী।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সতর্কবার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া, আশ্রয় প্রদান বা যেকোনো সহায়তা করা গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করার কঠোর বিধান বিদ্যমান। আইন ভঙ্গের যেকোনো তথ্য জানতে মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর হুথিদের দখলে, 'ঐশী বিজয়' হিসেবে দেখছে ইরান

লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর হুথিদের দখলে, 'ঐশী বিজয়' হিসেবে দেখছে ইরান

ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী অতি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার পর এই অগ্রগতি অর্জিত হলো। এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে একটি 'ঐশী বিজয়' হিসেবে অভিহিত করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ইরানের রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমগুলো।ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী ঐতিহাসিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা সম্পূর্ণ নিজেদের দখলে নিয়েছে হুথি যোদ্ধারা। এই দখলের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগর উপকূল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম মূল ধমনী বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর হুথিদের প্রভাব আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হলো।২০১৪ সালে পশ্চিমা বিশ্ব ও সৌদি আরব সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রাজধানী সানা দখল করে রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান সুদৃঢ় করে প্রধানত জাইদি শিয়াভিত্তিক আন্দোলন হুথি। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই সংঘাত ও লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় মোখা বন্দরের পতন ইয়েমেনের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।মোখা বন্দর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হুথিরা এখন বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তার করেছে, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজের একটা বড় অংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এ অঞ্চলে হুথিদের আধিপত্য কেবল ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকেই নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।এদিকে হুথিদের এই সাফল্যকে ‘ঐশী বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে উদযাপনে মেতেছে ইরান। দেশটির রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমগুলো হুথিদের এ অগ্রযাত্রাকে মূলত মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামুদ্রিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের কৌশলগত জয় হিসেবে দেখছে।ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুথিদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ইয়েমেন আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এই বিজয় ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অসামান্য উদাহরণ।অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের হুথিদের এই ‘প্রচণ্ড বিজয়’-এর জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তির উপস্থিতি এবং সার্বিক প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আজ সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে চরম অচলাবস্থায় পড়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের উপকূলে সংঘাতের এই নতুন চিত্র বিশ্ব মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, যেখানে পশ্চিমা আগ্রাসন ও আঞ্চলিক শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ প্রতিরোধ আরও জোরদার হতে পারে।


মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে ট্রাম্প: ছয় মাসের সংঘাত শেষে সংকটে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে ট্রাম্প: ছয় মাসের সংঘাত শেষে সংকটে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর সাথে ইরানের চলমান সশস্ত্র সংঘাত ছয় মাস অতিক্রম করলেও পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। বরং ইয়েমেন ও ইরাকে ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যে পুরো সংকট আরও জটিল রূপ নিয়েছে। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এবং বিকল্প তেল পাইপলাইনে হামলা চলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্যের এক গভীর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চোরাবালিতে আটকা পড়েছেন।মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন এবং তার বিপরীতে ইরানি অক্ষের পাল্টা প্রতিরোধ বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে এক অভূতপূর্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সংঘাত শুরুর ছয় মাস পরও যুদ্ধের গতিপথ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ—পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালি—বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ইরানের সার্বিক সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইয়েমেনের স্বাধীনতাকামী হুথি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। হরমুজের এই অবরোধ এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর জন্য সৌদি আরব তাদের 'ইস্ট-ওয়েস্ট' পাইপলাইন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে ইরাকভিত্তিক ইরান সমর্থিত সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো সেই পাইপলাইনেও সফল হামলা চালিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিকল্প পথ ব্যবহারের প্রচেষ্টাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ল।এই বহুমুখী অবরোধ ও হামলার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সামরিক হামলা শুরুর আগের দিন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কিছু বেশি। তা হু-হু করে বেড়ে সাময়িকভাবে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে; দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ২.৯৮ ডলার থেকে লাফিয়ে ৪.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করেছে।এদিকে, টানা ছয় মাসের সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো নিয়মিত প্রতিরোধ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযানের তীব্রতা কমিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মাধ্যমে চাপ তৈরির পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট'।তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও তেহরানের মূল প্রশাসনিক কাঠামো স্থিতিশীল রয়েছে। ইরানে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট বাড়লেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা যুদ্ধের মাঠে একের পর এক কৌশলগত সাফল্য পাচ্ছে। ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ইরাকি গ্রুপগুলোর সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলা তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে আরও মজবুত করেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সামরিক জয় হাসিল করে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পর বিশ্ব বাণিজ্য পথ সচল রাখা, মিত্রদের তেল অবকাঠামো রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতি সামলানো—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এক নজিরবিহীন গোলকধাঁধায় বন্দি হয়ে পড়েছে।


সুইডেনে মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে: ভিজন পার্টি

সুইডেনে মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে: ভিজন পার্টি

উত্তর ইউরোপের দেশ সুইডেনে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ময়দানে মুসলিম বিদ্বেষ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের এক ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে এসেছে। দেশটির তরুণ রাজনৈতিক দল ‘ভিজন পার্টি’ (Visionpartiet) জোর দিয়ে বলেছে—সুইডিশ সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মুসলিমরা। তারা এই দেশের নাগরিক, প্রতিবেশী, পেশাজীবী, অভিভাবক এবং সচেতন ভোটার। অনেক সুইডিশ মুসলিমের কোনো অভিবাসন ইতিহাস নেই, তারা জাতিগতভাবেই সুইডিশ। ফলে সুইডেনে ইসলামকে কেবল একটি ‘অভিবাসন সমস্যা’ বা বৈদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি মূলত দেশটিতে সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, মুসলিমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ, পরিবার নীতি এবং সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটির নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন সুইডিশ গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য এক "অত্যন্ত সংকটময় ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।"রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্ণবাদ ও রাষ্ট্রীয় 'ইসলামমুক্তকরণ' প্রজেক্টবিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে সুইডেনের রাজনৈতিক বয়ানকে এক অদ্ভুত বিভাজনে ফেলা হয়েছে—একদিকে সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ ও তথাকথিত ‘ইসলামপন্থা’, আর অন্যদিকে মূলধারার শান্তিকামী ইসলাম ও সাধারণ মুসলিম সমাজ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে দেওয়া হচ্ছে।বর্তমানে সুইডেনের শীর্ষ সারির রাজনীতিবিদরা প্রকাশ্যে মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া, মুসলিমদের ধর্মীয় পোশাক ও দাতব্য সংস্থাসমূহের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা এবং এমনকি মুসলিমরা যাতে তাদের ধর্ম ত্যাগ করে সে বিষয়ে প্রকাশ্যে তর্ক-বিতর্ক ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।জাতীয়তাবাদী ও অভিবাসীবিরোধী উগ্র ডানপন্থী দল ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ (Sweden Democrats) পূর্বে রাজনীতিতে কিছুটা একঘরে হলেও, সম্প্রতি তারা সরকার পরিচালনাকারী জোটে একটি কেন্দ্রীয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন-উত্তর রাজনৈতিক সমীকরণে তাদের এই অশুভ প্রভাব আরও সরাসরি ও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ভিজন পার্টির মতে, সমস্যাটি এখন আর কেবল রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত ইসলাম-বিদ্বেষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি সুপরিকল্পিত ইসলামমুক্তকরণ (De-Islamization) প্রজেক্টে রূপ নিয়েছে। দলটি স্পষ্ট করে জানায়, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করলে সুইডেনের গণতান্ত্রিক শক্তি দুর্বল হয় না, বরং এটি রাষ্ট্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী করে তোলে।জাতিসংঘের (UN) দ্বারস্থ ভিজন পার্টি: ৮৮টি দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনউত্তরাঞ্চলের এই দেশে মুসলিমদের ওপর চেপে বসা চরমপন্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে ভিজন পার্টি ইতোমধ্যে জাতিসংঘের (UN) মানবাধিকার সংস্থায় একটি বিস্তারিত dossier বা নথি উপস্থাপন করেছে। তিনটি বিশেষ রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট প্রদানকারী কর্মকর্তার (Special Rapporteurs) কাছে এই ২১ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেওয়া হয়, যেখানে সুইডেনে মুসলিমদের ওপর হওয়া বৈষম্যের ৮৮টি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও দালিলিক প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে পরিস্থিতি এক বিপজ্জনক সীমারেখা অতিক্রম করেছে। আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি কীভাবে রাজনীতির লক্ষ্য বস্তু উগ্রবাদ থেকে সরে এসে খোদ 'ইসলাম ধর্ম', মুসলিম প্রতিষ্ঠান, সাধারণ নাগরিক এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে। আমরা দাবি করছি না যে সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামকে নিষিদ্ধ করেছে, তবে আমরা জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের কাছে আবেদন করেছি—তারা যেন ধর্মীয় স্বাধীনতা, বর্ণবাদ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সুইডেন সরকারের কাছে যৌথ নোটিশ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।ডানপন্থী সংসদ সদস্যের বিতর্কিত বক্তব্য ও প্রতিবাদভিজন পার্টির নথিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উগ্র ডানপন্থী ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য রিচার্ড জোমশফের (Richard Jomshof) সাম্প্রতিক অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও বর্ণবাদী মন্তব্যের ওপর।এক সাক্ষাৎকারে যখন জোমশফকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—"সুইডেনের শান্তিপূর্ণ ও আইনমান্যকারী মুসলিমদের এখন কী করা উচিত?"—তখন তিনি চরম ঔদ্ধত্যের সাথে উত্তর দিয়েছিলেন, প্রথমত, তাদের মুসলিম হওয়া ছেড়ে দিতে হবে (ইসলাম ত্যাগ করতে হবে)।ভিজন পার্টি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলে, যদি দেশের কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একজন ইহুদিকে ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করতে বলতেন, বা কোনো খ্রিস্টান কিংবা নাস্তিককে তাদের পরিচয় ত্যাগ করতে বলতেন, তবে রাষ্ট্র ও সমাজ তা চরম অপরাধ হিসেবে গণ্য করত। কিন্তু মুসলিমদের বেলায় এই অবিচারকে স্বাভাবিক করা হচ্ছে। এটি কেবল কোনো ধর্মের সমালোচনা নয়; বরং একজন শান্তিকামী নাগরিকের নিজস্ব পরিচয় মুছে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় মানসিক নির্যাতন।উল্লেখ্য, জোমশফ নিয়মিতভাবে ইসলামকে উগ্রবাদ হিসেবে প্রচার করেন, মসজিদ বন্ধের পক্ষে প্রকাশ্যে ওকালতি করেন এবং সরকারে ইসলামমুক্তকরণ তদারকির জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তার এ জাতীয় বক্তব্য মুসলিমদের মনে গভীর আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে।মৌলিক অধিকার রক্ষা ও ভবিষ্যত রূপরেখাভিজন পার্টি স্পষ্ট করেছে যে তারা মুসলিমদের জন্য কোনো ‘বিশেষ সুবিধা’ বা বিশেষ ছাড় চাইছে না। তাদের একমাত্র দাবি হলো—সুইডেনের প্রতিটি নাগরিককে তার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সংবিধানে স্বীকৃত সম-অধিকার দিতে হবে।দলটি আগামী নতুন সরকারের প্রতি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়েছে:ধর্মীয় বৈষম্য এবং ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের (Hate Crimes) বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।মসজিদ ও অন্যান্য নাজুক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সুসংহত করতে হবে।ধর্মীয় পোশাক, ইবাদত-বন্দেগি বা মুসলিম এনজিওগুলোর ওপর অযৌক্তিক কড়াকড়ি বা বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।ভিজন পার্টির তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো আসন্ন পৌর নির্বাচনে বিভিন্ন সিটি কাউন্সিলে আসন জয় লাভ করা এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে সুইডিশ জাতীয় সংসদে (Riksdag) প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে মুসলিম ও নিপীড়িতদের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা।বিবৃতিতে দলটি পরিশেষে উল্লেখ করে, মুসলিমদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করার বিষয়টি পরস্পরবিরোধী নয়। মুসলিমরা এই সুইডিশ সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ—তারা এখানকার নাগরিক, প্রতিবেশী, চিকিৎসক, শিক্ষক ও কঠোর পরিশ্রমী পিতা-মাতা। বহু মুসলিম জাতিগতভাবেই জন্মসূত্রে সুইডিশ। তাই সুইডেনে তাদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা মানেই মূলতঃ সুইডেনের নিজস্ব মূল্যবোধ ও মানবাধিকারকে রক্ষা করা।


পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের কড়া নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের কড়া নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ধাপে ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদরাসা সরাসরি বন্ধের প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার এবং একই সাথে আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। গত ২২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এক সরকারি জরিপের ওপর ভিত্তি করে পরিকাঠামোগত ঘাটতি ও নথিপত্রের অভাবের অজুহাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ বলা হলেও একে রাজ্যটিতে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী ও ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।ভারতের আসাম, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর হিন্দুত্ববাদী ও চরমপন্থি নীতি এবার প্রবেশ করেছে পশ্চিমবঙ্গেও। ভারতীয় রাজনীতিতে ইসলামবিদ্বেষী নীতির ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গেও মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেমে এসেছে প্রশাসনিক নিপীড়ন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কলকাতা সহ ২২টি জেলায় গত ২২ জুলাই থেকে পরিচালিত এক জরিপে দাবি করা হয়, রাজ্যজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদরাসা যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে।সেই জরিপের অজুহাতে প্রথম দফায় ২৫২টি মাদরাসা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে আরও ১০০টি মাদরাসাকে শোকজ নোটিস পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি রয়েছে।যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত কেবল পরিকাঠামোগত ঘাটতি, পাঠক্রমের ত্রুটি এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের নিয়মিত রুটিন পদক্ষেপ। অনুমোদিত মাদরাসাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বাধা দেওয়া হবে না বলে সরকারি আশ্বাস থাকলেও, বিজেপির শীর্ষ নেতারা চরম সাম্প্রদায়িক অবস্থান থেকে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন। বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, মাদরাসাগুলোকে কেন্দ্র করে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে এবং তথাকথিত "উৎপাত" বন্ধ করতেই সরকার এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।তবে মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিজেপির এই বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক ন্যারেটিভকে স্পষ্টভাবে খারিজ করেছেন। তাদের মতে, সরকারি বা বেসরকারি সাধারণ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত ঘাটতি বা অনুমোদনের বিলম্ব থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু একমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বেছে বেছে বন্ধ করা চূড়ান্ত ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ।পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মুসলিম সমাজ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সরকারের এই দমনমূলক সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, এটি ভারতের সংখ্যালঘুদের মৌলিক ধর্মীয় ও শিক্ষার অধিকার হরণের একটি গভীর চক্রান্ত। ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এভাবে প্রান্তিকীকরণের চেষ্টা কেবল রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই বিনষ্ট করবে না, বরং কোটি কোটি মুসলিম তরুণের প্রাতিষ্ঠানিক ভবিষ্যতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধান পদে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা বাংলাদেশের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধান পদে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা বাংলাদেশের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে আগামী জানুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গত সপ্তাহে বিতর্কিত ওই পদ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পদত্যাগ করার পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো।আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য খাতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির ছায়া দূর করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরবর্তী নির্বাচনে মালদ্বীপের প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিশ্চিত করেন যে, বিতর্কিত নিয়োগ ও নানাবিধ অনিয়মের কারণে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই পদের সাবেক প্রধান সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল। উপযুক্ত অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্য যোগ্যতা ছাড়াই কেবল ক্ষমতাসীন পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবে এই পদে তাকে বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উত্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী।মি. কবির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সায়মা ওয়াজেদের মতো ব্যক্তির নিয়োগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক ভোট বাগানোর সংস্কৃতি বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি আরো যোগ করেন, শেখ পরিবারের সাথে জড়িত প্রতিটি স্তরের দুর্নীতির চিত্র আজ উন্মোচিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কঠোর ও স্বচ্ছ করা, যাতে কেবল স্বজনপ্রীতির ওপর ভর করে কেউ এমন দায়িত্বশীল পদে বসতে না পারে।ন্যায্য অধিকার, মানবাধিকার ও বিশ্বসংস্থায় মেধার মূল্যায়নের নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ আগামী জানুয়ারির নির্বাচনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা রাখতে মালদ্বীপের যোগ্য প্রার্থীর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।


বর্তমান সংবিধানে যে কেউ শেখ হাসিনার মতো নির্দেশিত ফ্যাসিস্ট হতে পারেন: বরগুনায় আল্লামা মামুনুল হক

বর্তমান সংবিধানে যে কেউ শেখ হাসিনার মতো নির্দেশিত ফ্যাসিস্ট হতে পারেন: বরগুনায় আল্লামা মামুনুল হক

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামোকে ‘ফ্যাসিবাদ তৈরির মূল কারখানা’ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বরগুনা পৌর শহরের সিরাজউদ্দিন মিলনায়তনে এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল থাকলে আগামীতে যেকোনো সরকারপ্রধানই স্বৈরাচারী রূপ নিতে পারে। রাষ্ট্র ও সংবিধানে ক্ষমতার মৌলিক ভারসাম্য আনাই আগামী দিনের স্বৈরাচার রোধের একমাত্র পথ।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরগুনা জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংগঠনের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অপরিসীম ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে রাখা হয়েছে। এই একক ক্ষমতার ব্যবস্থার কারণে যিনিই সরকারপ্রধান হবেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার পক্ষে শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ থেকে যায়। আগামীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সরকার গঠন করলেও এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যাবে। তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচার রোধে এখনই রাষ্ট্র ও সংবিধানে আমূল সংস্কার আনা জরুরি।প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে আর কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার বা পেটোয়া বাহিনী হিসেবে দেখতে চায় না জনগণ। পুলিশ ও প্রশাসন হবে জনগণের প্রকৃত সেবক। দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও আমানতদারিতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে খেলাফত প্রধান কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেন:ক্ষমতার ভারসাম্য: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যপরিধিতে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য রক্ষা করা।স্বাধীন প্রতিষ্ঠান: বিচার বিভাগ এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা: নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং কোনো দলীয় প্রভাব ছাড়া সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা।সমাবেশে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে আল্লামা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দলীয় আনুগত্যশীল বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত কমিশন কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারে না। দেশবাসী একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ দেখতে চায়।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ওযায়ের আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ।


মুসলিম দেশগুলোর দ্বন্দ্ব চায় আমেরিকা, লড়াই করে বেঁচে থাকার অঙ্গীকার ইরানের

মুসলিম দেশগুলোর দ্বন্দ্ব চায় আমেরিকা, লড়াই করে বেঁচে থাকার অঙ্গীকার ইরানের

ইরান চায় বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের মধ্যে গভীর ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকুক, কিন্তু আমেরিকা সুকৌশলে এই দেশগুলোকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ভারতের নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের পার্শ্ববর্তী এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানান, পশ্চিমের অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা ও আগ্রাসনের সামনে ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আধিপত্যবাদের তীব্র সমালোচনা: নয়া দিল্লিতে পেজেশকিয়ান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকনয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এক বিশেষ পার্শ্ববৈঠকে মুখোমুখি হন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, সাম্প্রতিক আগ্রাসন ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংহত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমেরিকা ও ইউরোপীয় শক্তির আধিপত্য বিস্তারের লিপ্সা এবং দখলদার ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর লাগামহীন অপরাধের কারণেই পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে কোনো স্বাধীন ও স্ব সার্বভৌম দেশের অস্তিত্ব সহ্য করতে পারে না।' তিনি আরও যোগ করেন, আমেরিকা চায় বন্ধুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলো যেন নিজেদের মধ্যে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ে। ইরান কেবল তার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছে।ইরানের ওপর সাম্প্রতিক বেআইনি হামলা ও পশ্চিমা সমর্থিত আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে শিশু, সামরিক কমান্ডার, প্রবীণ নেতা ও বিজ্ঞানীদের শহীদ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো, ইরানের বিরুদ্ধে এই হামলায় কিছু ভ্রাতৃপ্রতিম ও মুসলিম দেশের ভূখণ্ড এবং আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে।নিজেদের সুরক্ষায় ইরানের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, আত্মরক্ষা ব্যতীত ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। ফলে যেসব ঘাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, কেবল সেগুলোকে লক্ষ্য করেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইরান শান্তিকামী উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যুদ্ধ বাড়াতে চায় না, তবে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং অধিকার হরণের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে ইরান কখনোই নতিস্বীকার করবে না। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো বিদেশি ‘মোড়ল’ বা জেন্ডারমের প্রয়োজন নেই, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর ঐক্যের মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা সম্ভব।বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলি জোটের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট ইতিমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানি জনগণের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের প্রশংসা করে বলেন, 'পশ্চিমা ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে ইরানের সরকার ও বীর জনগণের দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। অন্য যেকোনো দেশ হলে হয়তো তিন দিনের মাথায় ভেঙে পড়ত, কিন্তু ইরান নিজের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল দাঁড়িয়ে রয়েছে।'মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী জানান, তার দেশ ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে মালয়েশিয়া দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


ইউক্রেনীয় তরুণী আনাস্তাসিয়ার ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প

ইউক্রেনীয় তরুণী আনাস্তাসিয়ার ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প

২০২১ সালে তুরস্কে ঘুরতে এসে আজানের সুর শুনে গভীরভাবে মুগ্ধ হন ইউক্রেনীয় তরুণী আনাস্তাসিয়া পড্রেজোভা। পরবর্তীতে ইউক্রেন সংঘাতের ভয়াবহতা, মুসলিম সহকর্মীদের আন্তরিকতা এবং রমজানের ইফতারের আবহ তাকে স্রষ্টার প্রতি ধাবিত করে। সম্প্রতি তুরস্কের ভান প্রদেশের মুফতী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ইহতিদা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন 'জয়নব'।সত্যের সন্ধান মানুষকে কীভাবে আলোর পথ দেখায়, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউক্রেনের নাগরিক আনাস্তাসিয়া পড্রেজোভা (বর্তমান নাম জয়নব)। ২০২১ সালে ছুটি কাটানোর জন্য তুরস্কে আগমনের মাধ্যমে তার জীবনের গতিপথ বদলাতে শুরু করে। সেখানে প্রথমবারের মতো আজানের সুর শুনে তিনি আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করেন এবং ইসলামের প্রতি তার গভীর আগ্রহের সৃষ্টি হয়।ছুটি শেষে ইউক্রেনে ফিরে গেলেও তুরস্কের পরিচিত তরুণ এমরাহ জেনচের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং ইন্টারনেট ও বইপুস্তক পড়ে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে কাজের সূত্রে অন্য একটি শহরে স্থানান্তরিত হলে সেখানে মুসলিম সহকর্মীদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পান তিনি। বিশেষ করে রমজান মাসের পারিবারিক আবহ, সহকর্মীদের আন্তরিকতা ও সামাজিক ঐক্যের দৃশ্য তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।পারিবারিক কাজে ইউক্রেনে অবস্থানকালে সংঘাত ও যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এক কঠিন মানসিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। চরম আতঙ্কের মুহূর্তে আসমানের দিকে তাকিয়ে আনাস্তাসিয়া উপলব্ধি করেন—যা কিছু ঘটছে তা মহান আল্লাহর তাকদির এবং এটি তার জীবনের জন্য স্রষ্টার এক বিশেষ বার্তা। এই উপলব্ধি তার মনে বিশ্বাসের ভিত্তি আরও মজবুত করে। পরবর্তীতে এক আরব ব্যক্তির সাথে ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কিত আলোচনার পর তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই কালেমায়ে শাহাদাহ পাঠ করেন।নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জয়নব বলেন, 'ইসলাম গ্রহণের পর আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি নতুন করে জন্ম নিয়েছি।' সম্প্রতি তুরস্কের ভান প্রদেশের মুফতী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তার জীবনসঙ্গী এমরাহ জেনচ জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা ইসলাম ও ইবাদতের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সত্যের সন্ধান পাওয়ার পর তারা উভয়েই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তওবা না করা পর্যন্ত মাওলানা সাদকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজত আমির

তওবা না করা পর্যন্ত মাওলানা সাদকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজত আমির

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বি মাওলানা সাদের বিতর্কিত বক্তব্য থেকে তওবা না করা পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত মহাসম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। একই সাথে বিশ্ব ইজতেমা ও কাকরাইল মারকাজের সার্বিক কার্যক্রম আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়।রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘দাওয়াত ও তাবলিগ, মাদারিসে কওমিয়া এবং দ্বীনের হেফাজতের লক্ষ্য’ শীর্ষক ওলামা মাশায়েখ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও সাধারণ তৌহিদী জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। বক্তব্যে হেফাজত আমির বলেন, 'সরকারের প্রতি আমার স্পষ্ট দাবি, নিজের গোমরাহী ও শরিয়তবিরোধী বক্তব্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তওবা না করা পর্যন্ত যেন মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া না হয়। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের শুরায়ে নেজাম দ্বারা পরিচালিত হতে হবে এবং কাকরাইল মারকাজের সব কার্যক্রমও ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চালু রাখতে হবে।'তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওলামায়ে কেরামের নিরলস দাওয়াতের মাধ্যমেই আজ বিশ্বজুড়ে কোরআন ও সুন্নাহর বাণী পৌঁছেছে। দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক তৈরি করা এবং পথভোলা মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া। এই মহৎ দায়িত্ব পালনের জন্যই হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) তাবলিগের কাজ শুরু করেছিলেন।হেফাজত আমির অভিযোগ করে বলেন, 'মাওলানা সাদ বিভিন্ন সময়ে কোরআন, হাদিস, নবী-রাসুল, নবুয়ত, সাহাবায়ে কেরাম ও শরয়ী মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তার এসব বক্তব্য কোরআন-সুন্নাহর চরম বিরোধী, যা মুসলিম উম্মাহ কখনোই মেনে নিতে পারে না।' তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, 'ছাত্র-জনতা ও আলেমদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশে ব্যক্তি সাদের কারণে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক বা সরকার বেকায়দায় পড়ুক, তা আমরা চাই না। আশা করি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।'সম্মেলনে হেফাজতের আরেক যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'আমরা বিগত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি। নতুন করে কেউ যদি আলেমসমাজকে রক্তচক্ষু দেখায়, তবে আমরা তাদের চক্ষু উপড়ে ফেলব। জাতির পথপ্রদর্শক এবং তাবলিগের আসল রাহবার হবেন ওলামায়ে কেরামই। কাকরাইল মসজিদ ও বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনায় আলেমদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে হবে।'উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে বিভক্ত হয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যেখানে দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অংশ নেন। তবে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় সাদপন্থীরা প্রথম পর্বে ইজতেমা করার দাবি জানালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেমদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তার প্রতিবাদেই এই বৃহৎ মহাসম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়।


টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আলেম-ওলামাদের ৮ দফা

টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আলেম-ওলামাদের ৮ দফা

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিত সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখ ও কওমি মাদ্রাসার আলেমগণ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকায় ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ বিষয়ে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা আলেম-ওলামা, কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ পরিচালকমণ্ডলী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দাওয়াত ও তাবলিগের শুরায়ী নিজামের সদস্য এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হামলা ও সার্বিক তাবলিগ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের আশু করণীয় তুলে ধরেন।ঘোষিত ৮ দফা দাবি:১. টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার: ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। মামলাগুলোর (জিআর ও সংশ্লিষ্ট মামলা) বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ২. নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তি: রক্তক্ষয়ী হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ৩. অপরাধীদের প্রতি জিরো টলারেন্স: হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি যে পক্ষেরই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ৪. পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল: ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বজায় রাখতে হবে এবং সাদপন্থীদের সেখানে কোনো প্রকার ইজতেমা বা তাবলিগ কার্যক্রম চালাতে দেওয়া যাবে না। ৫. আইনানুগ ব্যবস্থা: সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থীরা ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক প্রতিহতমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ৬. রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওসামা ও সায়েমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিদেশে বাংলাদেশের আলেমদের বিষয়ে নেতিবাচক বার্তা প্রদান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তোলা হয়। ৭. আলেমদের পরামর্শে স্থায়ী সমাধান: শীর্ষ মুফতি ও আলেমদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের সংকট নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ৮. দ্বীনি পরিবেশ রক্ষা: দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখতে আলেমদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। লিখিত বক্তব্যে ইজতেমা ময়দান ও কাকরাইল মারকাজ সম্পূর্ণভাবে শুরায়ী নিজাম ও আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়।মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমীর ঘোষণাপত্র পাঠ এবং মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারীর পরিচালনায় সম্মেলনটি শেষ হয় দেশের শান্তি, উম্মাহর ঐক্য ও সঠিক দ্বীনি দাওয়াতের কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে।


জনসমক্ষে 'আমেরিকার ধ্বংস' জপলেও পেছনে ওয়াশিংটনের কাছে অনুনয় হুতিদের

জনসমক্ষে 'আমেরিকার ধ্বংস' জপলেও পেছনে ওয়াশিংটনের কাছে অনুনয় হুতিদের

ইয়ামানের হুতি বিদ্রোহীরা বছরের পর বছর ধরে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ স্লোগানকে তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রচারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক এক উন্মোচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিরা গোপনে তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরাসরি মার্কিন সামরিক সংঘাত এড়ানোর আকুতি জানিয়েছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালীর কৌশলগত এলাকায় হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার মুখে এই তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তাদের দ্বিমুখী কৌশলের বড় ধরনের প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।ইয়ামানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাহ্যিক দৃশ্যটি বহু বছর ধরেই পরিচিত। হুতিদের ব্যানার উড়ছে, সশস্ত্র মিছিল চলছে এবং বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া তাদের মূল স্লোগান—"আমেরিকা ধ্বংস হোক, ইসরাইল ধ্বংস হোক"—মিছিল ও সমাবেশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কিন্তু রাজনীতি ও যুদ্ধের ময়দানে সাধারণ মানুষের সামনে যে দৃশ্য তুলে ধরা হয়, পর্দার আড়ালের বাস্তবতা সবসময় এক থাকে না।ইয়ামান যুদ্ধের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে সাবেক ও হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মাত্র বক্তব্য সেই আড়ালের দৃশ্যপট উন্মোচন করেছে। আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, হুতিরা তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা চায় না যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ করুক।এই তথ্যটি হুতিদের কোনো আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ, সৌদি কর্মকর্তা বা গোপন সূত্রের মাধ্যমে আসেনি; বরং সরাসরি ট্রাম্প এটি সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করেছেন। এতে একটি গভীর বৈপরীত্য সামনে এসেছে: যে গোষ্ঠীটি নিজেদের অস্তিত্ব ও আদর্শের মূল ভিত্তি বানিয়েছে "আমেরিকা ধ্বংস হোক" স্লোগানকে, তারা কেন যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি সংঘাত এড়াতে ব্যাকুল?সমাবেশের স্লোগান বনাম আড়ালের হিসাবহুতিদের রাজনৈতিক সংলাপে তাদের এই তথাকথিত 'যুদ্ধের ডাক' কেবল সাধারণ প্রচারণামূলক বাক্য নয়, এটি তাদের অনুসারীদের একত্রিত করার প্রধান হাতিয়ার। তবে হুতিদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাদের জনসমক্ষে প্রদত্ত বক্তব্য এবং রাজকীয় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যে ব্যবধান নতুন কিছু নয়।২০১৬ সালে কুয়েত শান্তি আলোচনার সময়ও হুতি প্রতিনিধিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কাছে এই স্লোগান ব্যবহারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিল। তখন তারা জানিয়েছিল, এই স্লোগানটি মূলত অভ্যন্তরীণ সমর্থক গোষ্ঠী ও সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ২০১৬ সালের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। হুতিরা এখন কেবল অভ্যন্তরীণ যোদ্ধা গোষ্ঠী নয়; তারা সম্প্রতি পশ্চিম উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ মাইয়ুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদাব প্রণালীর কাছাকাছি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই লোহিত সাগরে তাদের অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।একদিকে যখন জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে হুতিরা صنعاء (সানা) ও অন্যান্য অঞ্চলে হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক ও তরুণদের নতুন করে বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করছে এবং ‘সাধারণ সংহতি বাহিনী’ গঠন করেছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী ওয়াশিংটনে তাদের বার্তা স্পষ্ট: "যুদ্ধে আসবেন না।"ট্রাম্পের বক্তব্য ও ওয়াশিংটনের সমীকরণডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "হুতিরা আমাদের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা চায় না যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সংঘাতে যুক্ত হোক।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হুতিরা নির্দিষ্ট একটি দেশ ব্যতীত প্রায় সকল বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে এবং বিষয়টির একটি রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।আমেরিকা এই আঞ্চলিক সংকটে দূরবর্তী কোনো পক্ষ নয়। এটি এমন এক রাষ্ট্র, যার পতনের স্লোগান দিয়ে হুতিরা তাদের জনভিত্তি ধরে রাখে। কিন্তু যখন সরাসরি মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা দেখা দেয়, তখন হুতিরা তাদের নীতি নমনীয় করতে দ্বিধা করে না।হুতিরা স্থানীয় ইয়েমেনি প্রতিপক্ষ বা আঞ্চলিক বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত চালিয়ে যেতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক শক্তি মোকাবিলা করার সক্ষমতা তাদের নেই। বিশেষ করে বাব আল-মানদাব প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১২% বাণিজ্য এবং ৭% জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। হুতিদের এই অঞ্চলে আধিপত্য বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সেই ভয় থেকেই তাদের পেছনে যোগাযোগের এই পথ উন্মুক্ত করা।জনসমক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক টিকিয়ে রাখার কৌশল হলেও, পর্দার আড়ালে মার্কিন শক্তিকে এড়িয়ে চলাই হুতিদের প্রধান সমীকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


চেঙ্গিস খানের নাতির ইসলাম গ্রহণ: ইতিহাসের যে বাঁক বদলে স্বস্তি পেয়েছিল মুসলিম বিশ্ব

চেঙ্গিস খানের নাতির ইসলাম গ্রহণ: ইতিহাসের যে বাঁক বদলে স্বস্তি পেয়েছিল মুসলিম বিশ্ব

বিরল সাক্ষাৎকারে দৈনন্দিন জীবন ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন আফগান প্রধানমন্ত্রী

বিরল সাক্ষাৎকারে দৈনন্দিন জীবন ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন আফগান প্রধানমন্ত্রী

মিলাদুন্নবী পালন ইসলামভিত্তিক নয়, খ্রিস্টানদের অন্ধ অনুকরণ: সতর্কবার্তা শায়খ আস-সুদাইসের

মিলাদুন্নবী পালন ইসলামভিত্তিক নয়, খ্রিস্টানদের অন্ধ অনুকরণ: সতর্কবার্তা শায়খ আস-সুদাইসের

ডাচ সাম্রাজ্যবাদের শোষণের বিপরীতে আলেমদের সংগ্রামেই আজ স্বাধীন ইন্দোনেশিয়া

ডাচ সাম্রাজ্যবাদের শোষণের বিপরীতে আলেমদের সংগ্রামেই আজ স্বাধীন ইন্দোনেশিয়া

বাংলাদেশসহ ৪ দেশের ওমরাহ প্যাকেজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খাবার সুবিধা

বাংলাদেশসহ ৪ দেশের ওমরাহ প্যাকেজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খাবার সুবিধা

পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র এখন ইরানের হাতে: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র এখন ইরানের হাতে: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

কওমি অঙ্গনে জামায়াতমুখিতা: রাজনৈতিক সমীকরণ নাকি আদর্শিক পরিবর্তন?

কওমি অঙ্গনে জামায়াতমুখিতা: রাজনৈতিক সমীকরণ নাকি আদর্শিক পরিবর্তন?

মেজর হাফিজ কথা দিয়েছিলেন বিচার হবে, এখন আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই: পঞ্চগড়ে নিহত আরিফের বাবা

মেজর হাফিজ কথা দিয়েছিলেন বিচার হবে, এখন আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই: পঞ্চগড়ে নিহত আরিফের বাবা

সার্বিয়ায় দুই দশক পর দুই প্রধান ইসলামী সংস্থার ঐতিহাসিক ঐক্য গঠন

সার্বিয়ায় দুই দশক পর দুই প্রধান ইসলামী সংস্থার ঐতিহাসিক ঐক্য গঠন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ডেপুটি প্রধান হলেন তামীরুল মিল্লাতের সাবেক ছাত্র ড. আব্দুল আলিম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ডেপুটি প্রধান হলেন তামীরুল মিল্লাতের সাবেক ছাত্র ড. আব্দুল আলিম

দিল্লিতে মুসলিম যুবকের বিনা মূল্যের নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ‘মাদ্রাসা’ আখ্যা দিয়ে বন্ধের চক্রান্ত

দিল্লিতে মুসলিম যুবকের বিনা মূল্যের নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ‘মাদ্রাসা’ আখ্যা দিয়ে বন্ধের চক্রান্ত

ভারত নিয়ে অতিরিক্ত না ভেবে নিজ দেশের স্বার্থে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারত নিয়ে অতিরিক্ত না ভেবে নিজ দেশের স্বার্থে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে মুসলিম নিপীড়ন রোধে ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

বিশ্বজুড়ে মুসলিম নিপীড়ন রোধে ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

সৌদি আরবে যৌথ অভিযানে ১২ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল রিয়াদ

সৌদি আরবে যৌথ অভিযানে ১২ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল রিয়াদ

লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর হুথিদের দখলে, 'ঐশী বিজয়' হিসেবে দেখছে ইরান

লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর হুথিদের দখলে, 'ঐশী বিজয়' হিসেবে দেখছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে ট্রাম্প: ছয় মাসের সংঘাত শেষে সংকটে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে ট্রাম্প: ছয় মাসের সংঘাত শেষে সংকটে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতি

সুইডেনে মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে: ভিজন পার্টি

সুইডেনে মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে: ভিজন পার্টি

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের কড়া নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের কড়া নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধান পদে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা বাংলাদেশের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধান পদে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা বাংলাদেশের

বর্তমান সংবিধানে যে কেউ শেখ হাসিনার মতো নির্দেশিত ফ্যাসিস্ট হতে পারেন: বরগুনায় আল্লামা মামুনুল হক

বর্তমান সংবিধানে যে কেউ শেখ হাসিনার মতো নির্দেশিত ফ্যাসিস্ট হতে পারেন: বরগুনায় আল্লামা মামুনুল হক