ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে গাজায় গুরুতর আহত শিশুদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো ৯০০টিরও বেশি বিশেষায়িত হুইলচেয়ার দীর্ঘ এক বছর ধরে জর্ডানের গুদামে ধুঁকছে। অস্ট্রেলিয়ার একাধিক ত্রাণ সংস্থা এসব হুইলচেয়ার পাঠালেও ইসরায়েলের কঠোর অবরোধ এবং অনুমোদন না দেওয়ার কারণে এগুলো অবরুদ্ধ গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে হাত-পা হারিয়ে চরম শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শিশু চিকিৎসাসেবা ও চলাচলের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আহত শিশুদের শারীরিক সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে পাঠানো ৯০০টিরও বেশি হুইলচেয়ার জর্ডানের হাশেমাইট চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশনের (JHCO) গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষের কঠোর বিধিনিষেধ এবং ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতির কারণে গত প্রায় এক বছর ধরে এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম আটকে রয়েছে।অস্ট্রেলীয় সম্প্রচার মাধ্যম এবিসি (ABC)-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলস ভিত্তিক সংস্থা 'কিডস অন হুইলস্ অ্যালায়েন্স' এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক 'হুইলচেয়ার্স ফর কিডস'-এর যৌথ উদ্যোগে দুই দফায় এসব সরঞ্জাম জর্ডানে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি এবং অক্টোবরে জর্ডানের বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই এগুলো গাজায় পাঠাতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েলি কো-অর্ডিনেশন অব গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিস ইন দ্য টেরিটরিস (COGAT)।প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই এসব হুইলচেয়ার মানবিক ত্রাণের বহরে যুক্ত করার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে ইসরায়েলের COGAT কর্তৃপক্ষ এই অজুহাতে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে যে, উক্ত ত্রাণ বহরে কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি নেই। গত ১৯ মাস ধরে এই আবেদনটিকে ‘অপেক্ষমাণ’ (Pending) তালিকায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যার কারণে জর্ডানের ওই সংস্থাকে নতুন করে আবেদন করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না।গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসস্তূপে ভরা দুর্গম ভূখণ্ডের কথা মাথায় রেখে এই হুইলচেয়ারগুলো বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো অত্যন্ত টেকসই এবং শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধির সাথে সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহারের উপযোগী। প্যালেস্টাইন অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসক ড. আবদুল্লাহ আল-বালাবি বলেন, 'এই হুইলচেয়ারগুলো সাধারণ প্রতিবন্ধী শিশুদের চলাচলের হাতিয়ার, এগুলো কোনো নিরাপত্তার হুমকি নয়। অথচ ইসরায়েল এগুলোকেও অবরুদ্ধ করে রেখে গাজার শিশুদের সঙ্গে চরম নিষ্ঠুরতা দেখাচ্ছে।'জাতিসংঘের শিশুকোষ (ইউনিসেফ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১১ হাজারেরও বেশি শিশু জীবন পরিবর্তনকারী গুরুতর জখমের শিকার হয়েছে, যাদের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন ও চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েল তথাকথিত 'দ্বিমুখী ব্যবহার' (Dual-use)-এর ভিত্তিহীন অজুহাত তুলে কৃত্রিম অঙ্গ, এক্স-রে মেশিন, চশমা, ওয়াকার ও হুইলচেয়ারের ব্যাটারির মতো জরুরি সরঞ্জাম গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না। এমনকি তাবু, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং শিশুদের ডায়াপারের মতো মৌলিক জীবন রক্ষাকারী সামগ্রীও ইসরায়েলি অবরোধের কারণে আটকে আছে।