সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
কওমি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকুরির সুযোগ সম্প্রসারণে হাইয়ার বিশেষ উদ্যোগ

কওমি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকুরির সুযোগ সম্প্রসারণে হাইয়ার বিশেষ উদ্যোগ

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। বিদেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে ‘মুআদালা’ বা শিক্ষাচুক্তি সম্পন্ন করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) সনদ দিয়ে সরকারি বিভিন্ন ধর্মীয় পদে নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংস্থাটি। কওমি স্কলার ও তরুণ শিক্ষাবিদদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই মহাপরিকল্পনার কথা জানানো হয়।শনিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীস্থ হাইয়া মিলনায়তনে দেশের শীর্ষ কওমি স্কলার ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (বেফাক) মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক।বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে চুক্তিসভাপতির বক্তব্যে মুফতি মাহফুজুল হক বলেন, "হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কওমি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পথে হাঁটছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে, সে বিষয়ে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ অথরিটি গুরুত্বের সাথে ভাবছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা বিদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা চুক্তি বা ‘মুআদালা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।"তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস সাহেবের সময় মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। নেতৃত্বের পরিবর্তনের কারণে অনেক কাজ থমকে গেলেও তরুণদের অভিজ্ঞতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই সফলতার মুখ দেখবে। শুধু হাইয়া নয়, বেফাকের পক্ষ থেকেও দ্রুত তরুণদের নিয়ে বসা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।সিলেবাস আধুনিকায়নহাইয়াতুল উলইয়ার অফিস সম্পাদক মাওলানা অসিউর রহমান সভায় জানান, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কওমি সনদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সিলেবাস সাজানোর কাজ পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) ক্রেডিট নির্ধারণসহ ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাসের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং বর্তমানে ফজিলত (স্নাতক) স্তরের বিন্যাস ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে।সনদের স্বীকৃতি ও দাবিবেফাক মহাসচিব স্পষ্ট করেন যে, কওমি মাদ্রাসার মুরুব্বী এবং তরুণ প্রজন্ম—উভয় পক্ষই সরকারি স্বীকৃতির পক্ষে, তবে কওমি শিক্ষার মৌলিক কাঠামো ও দেওবন্দী আদর্শের কোনো পরিবর্তন না করে। যেসব শর্তের আলোকে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়েছে, সেই শর্তের ভিত্তিতে চাকুরিতে যোগ দিতে কওমি আলেমদের কোনো দ্বিধা নেই।মতবিনিময় সভায় উপস্থিত তরুণ স্কলারদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়:অনেকে কওমি সনদের ‘ইকুইভ্যালেন্স’ বা সমমান নির্ধারণ করে নিচের স্তরে এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের সার্টিফিকেট চালুর প্রস্তাব দেন।দাওরায়ে হাদিসের সনদ দিয়ে যেন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই সরাসরি এমফিল ও পিএইচডি করা যায়, সেই ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানানো হয়।তরুণরা আহ্বান করেন যে, অন্তত ধর্মীয় ক্ষেত্রে দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং একে প্রকৃত মাস্টার্সের সমমানে রূপান্তরের জন্য যাবতীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে।দাওরায়ে হাদিসের সনদে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র:অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইয়াতুল উলইয়ার অফিস সম্পাদক মাওলানা অসিউর রহমান একটি মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) পাঠ করেন। সেখানে তিনি কওমি সনদের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে যেসকল ধর্মীয় পদে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত চাকুরির সুযোগ রয়েছে, তা বিস্তারিত তুলে ধরেন: ক) প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) পদে নিয়োগ।খ) ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন সরকারি ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ।গ) দেশের মডেল মসজিদসহ সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মসজিদে ইমাম ও খতিব পদে নিয়োগ।ঘ) সামরিক, আধাসামরিক বাহিনীসহ (সেনা, নৌ, বিমান, বিজিবি, পুলিশ) বিভিন্ন বাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ।ঙ) দেশের সকল জেলখানার বন্দীদের সংশোধনের জন্য ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ।চ) মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) পদে নিয়োগের সুযোগ।উক্ত মতবিনিময় বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও চিন্তাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, মাওলানা আতিকুল্লাহ, মাওলানা জাবের কাসেমী, মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক, মুফতি মুঈনুল ইসলাম সাইয়্যিদপুরী, মাওলানা মাসউদুল কাদির, মাওলানা শামুসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা আবদুল্লাহ মাসুম, মাওলানা মুহিউদ্দিন ফারুক, মুফতী তাসনীম আহমদ, মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতী সাইফুল ইসলাম, গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, মুফতি আবুল ফাতাহ কাসেমী, মাওলানা এনায়েত কবির, মাওলানা ইহসানুল হক, মাওলানা তানজিল আমির, মাওলানা আবু মুহাম্মাদ রাহমানী, মাওলানা সাদ আবদুল্লাহ মামুন, মাওলানা আহমাদ সিরাজী প্রমুখ।
২০ ঘন্টা আগে

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনও কোম্পানি টিকে থাকে না: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

মেঘালয়ে নির্বাচন ঘিরে ভয়াবহ সহিংসতা: দুই মুসলিম নিহত, মসজিদ ও দোকানে অগ্নিসংযোগ

মেঘালয়ে নির্বাচন ঘিরে ভয়াবহ সহিংসতা: দুই মুসলিম নিহত, মসজিদ ও দোকানে অগ্নিসংযোগ

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার লিফলেট বিতরণ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না গেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি

কওমি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকুরির সুযোগ সম্প্রসারণে হাইয়ার বিশেষ উদ্যোগ

কওমি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকুরির সুযোগ সম্প্রসারণে হাইয়ার বিশেষ উদ্যোগ

শাপলা চত্বরের ‘শহীদনামা’ হেফাজত আমিরের হাতে: দূর হলো মামুনুল হককে নিয়ে সব গুঞ্জন

শাপলা চত্বরের ‘শহীদনামা’ হেফাজত আমিরের হাতে: দূর হলো মামুনুল হককে নিয়ে সব গুঞ্জন

শান্তির স্বার্থে বাবরি মসজিদের রায় মেনে নিয়েছিল মুসলিমরা: ভোজশালা রায় নিয়ে মাহমুদ মাদানির প্রশ্ন

শান্তির স্বার্থে বাবরি মসজিদের রায় মেনে নিয়েছিল মুসলিমরা: ভোজশালা রায় নিয়ে মাহমুদ মাদানির প্রশ্ন

ইরানে আশ্রয় নেওয়া সাবেক গোয়েন্দা এজেন্টের খোঁজে দুই লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা এফবিআইয়ের

ইরানে আশ্রয় নেওয়া সাবেক গোয়েন্দা এজেন্টের খোঁজে দুই লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা এফবিআইয়ের

বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে মুসলিম বিক্রেতাকে হুমকি ও জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করল হিন্দুত্ববাদী কর্মী

বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে মুসলিম বিক্রেতাকে হুমকি ও জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করল হিন্দুত্ববাদী কর্মী

জেরুজালেমে উগ্রবাদী স্লোগানে ইসরায়েলিদের মিছিল ও বেন গভিরের আল-আকসা পরিদর্শন

জেরুজালেমে উগ্রবাদী স্লোগানে ইসরায়েলিদের মিছিল ও বেন গভিরের আল-আকসা পরিদর্শন

উইঘুর জন্মহার ৬০% কমেছে দাবিটি নতুন নয়, পুরোনো রিপোর্টের পুনঃপ্রচার

উইঘুর জন্মহার ৬০% কমেছে দাবিটি নতুন নয়, পুরোনো রিপোর্টের পুনঃপ্রচার

ইসরায়েলি অবরোধে অবরুদ্ধ স্বপ্ন: টানা ৩ বছর হজে যেতে পারছেন না গাজার বাসিন্দারা

ইসরায়েলি অবরোধে অবরুদ্ধ স্বপ্ন: টানা ৩ বছর হজে যেতে পারছেন না গাজার বাসিন্দারা

মধ্যপ্রদেশে কামাল মওলা মসজিদের অধিকার হরণ: ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে ‘মন্দির’ ঘোষণা হাইকোর্টের

মধ্যপ্রদেশে কামাল মওলা মসজিদের অধিকার হরণ: ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে ‘মন্দির’ ঘোষণা হাইকোর্টের

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতন ও বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে রাজধানীতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিক্ষোভ

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতন ও বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে রাজধানীতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিক্ষোভ

শান্তির স্বার্থে বাবরি মসজিদের রায় মেনে নিয়েছিল মুসলিমরা: ভোজশালা রায় নিয়ে মাহমুদ মাদানির প্রশ্ন

ভারতে একের পর এক ধর্মীয় উপাসনালয় নিয়ে নতুন আইনি বিরোধ তৈরি হওয়ায় ১৯৯১ সালের 'উপাসনালয় আইন' (Places of Worship Act)-এর কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। তিনি বলেছেন, দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে মুসলিম সমাজ বাবরি মসজিদের রায় মেনে নিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একের পর এক নতুন বিতর্কিত রায় এই বিশেষ আইনটির অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলছে।ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির 'কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া'-তে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ এবং 'সোসাইটি ফর অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড' (SAMLA)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে দেশের চলমান ধর্মীয় ও আইনি পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।সেমিনারে জমিয়ত প্রধান মাহমুদ মাদানি বলেন, "বাবরি মসজিদের রায়টি একটি ঐতিহাসিক রায় ছিল এবং মুসলিমরা তা মেনে নিয়েছিল বলেই এটি ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, অযোধ্যা মামলার রায়ের আগে আদালতের বাইরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে বাবরি মসজিদের পর আর কোনো ধর্মীয় স্থান নিয়ে নতুন করে কোনো বিরোধ তোলা হবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই রায়ের পরপরই দেশের বিভিন্ন আদালত জুড়ে একের পর এক নতুন মামলার সুনামি শুরু হয়েছে।মাওলানা মাদানি সাফ প্রশ্ন তোলেন, "যদি উপাসনালয় আইন বলবৎ থাকার পরেও ধর্মীয় স্থানগুলো নিয়ে আদালতে একের পর এক বিতর্কিত মামলা চলতেই থাকে, তবে এই আইনের আর কী প্রয়োজন আছে?"১৯৯১ সালের উপাসনালয় (বিশেষ বিধান) আইন অনুযায়ী, অযোধ্যা মামলা বাদে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতার দিন যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয় যে অবস্থায় বা যে ধর্মীয় চরিত্রের ছিল, তা অপরিবর্তিত থাকবে এবং এর কোনো রূপান্তর করা যাবে না। কিন্তু মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ধার জেলার বিতর্কিত 'ভোজশালা-কামাল মাউলা মসজিদ' কমপ্লেক্সটিকে দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করার দিনই মাহমুদ মাদানি এই মন্তব্য করেন। এই রায়ের ফলে উক্ত স্থানে মুসলিমদের শুক্রবারের জুমা নামাজ পড়ার দীর্ঘদিনের অধিকার বন্ধ হয়ে গেছে।সেমিনারে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যার শিরোনাম ছিল— "এ ক্রিটিক্যাল অ্যানালাইসিস অব বাবরি মসজিদ জাজমেন্ট অ্যান্ড দ্য কেস অব দ্য প্লেসেস অব ওরশিপ (স্পেশাল প্রোভিশনস) অ্যাক্ট ১৯৯১" (বাবরি মসজিদের রায় এবং ১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইনের একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ)।এই প্রতিবেদনে সুপ্রিম কোর্টের অযোধ্যা রায় এবং ইসমাইল ফারুকি মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে দাবি করা হয় যে, সাম্প্রতিক বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা ধর্মীয় স্থানগুলোর সাংবিধানিক সুরক্ষাকে দুর্বল করে দিয়েছে। ১৯৯১ সালের আইনের মূল উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করে বারানসি (জ্ঞানবাপী) এবং মথুরার মতো পবিত্র মসজিদগুলোর বিরুদ্ধে নতুন আইনি দাবি উত্থাপনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়:"বিচার বিভাগ যেভাবে ক্রমাগত হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, তাতে মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলো আইনিভাবে অরক্ষিত, সাংস্কৃতিকভাবে বিতর্কিত এবং রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।"সংগঠনটি অবশ্য জানিয়েছে, ভোজশালা মামলার রায়ের দিনই এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়াটি সম্পূর্ণ একটি কাকতালীয় বিষয়।অনুষ্ঠানে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালমান খুরশিদ বলেন, বাবরি মসজিদের রায়ের বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও অংশ মুসলিম পক্ষের জন্য একটি আইনি ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। অন্যদিকে, খ্যাতনামা আইনবিদ ফাইজান মুস্তফা বলেন, মধ্যপ্রদেশের ভোজশালা মামলার রায়ের সাথে বাবরি মসজিদ রায়ের অনেক মিল রয়েছে, যদিও ভোজশালার মামলাটি কোনো মালিকানা স্বত্বের (title suit) মামলা ছিল না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিষয়টি উচ্চ আদালতে আরও আইনি পর্যালোচনার মুখোমুখি হবে।সেমিনারের শেষভাগে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে জোর সুপারিশ করা হয় যেন দেশের আদালতগুলো ১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইনকে কঠোরভাবে বজায় রাখে এবং ঐতিহাসিক কোনো বিরোধকে ধর্মীয় উপাসনালয় দখল বা নতুন আইনি লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না দেয়।

শান্তির স্বার্থে বাবরি মসজিদের রায় মেনে নিয়েছিল মুসলিমরা: ভোজশালা রায় নিয়ে মাহমুদ মাদানির প্রশ্ন