ইরান সরকার জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সংঘটিত একটি হামলায় তিনি নিহত হন বলে সরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় লারিজানির সঙ্গে তার ছেলে, সহকারী এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনও নিহত হয়েছেন। এর আগে একই দিনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও লারিজানিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছিল।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত লারিজানির কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে সংঘটিত হামলায় আলী লারিজানি নিহত হন। তার সঙ্গে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তার ছেলে মোরতাজা, সহকারী আলী রেজা বিয়াত, পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা।এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, রাজধানী তেহরানের কাছে একটি বিমান হামলায় লারিজানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।কে এই আলী লারিজানি১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফ শহরে জন্মগ্রহণ করেন আলী লারিজানি। তিনি ইরানের একটি প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তার বাবা মির্জা হাশেম আমোলি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।লারিজানি গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর পশ্চিমা দর্শনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন এবং জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের ওপর বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন।১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ডে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান এবং ২০০৫ সালে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।একই সময়ে তিনি ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং টানা তিন মেয়াদে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তার নেতৃত্বে সংসদ ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পুনরায় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পান এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।তার মৃত্যুর ঘটনায় ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।