ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে এক মুসলিম তরুণী তার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মপরিচয় গোপন করে বিবাহ এবং পরবর্তীতে চার মাস বয়সী সন্তানকে অপহরণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বর্তমানে পুলিশ এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।অভিযুক্ত আশীষ গাঙ্গোয়ারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের প্রাথমিক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে, তারা বিষয়টিকে একটি পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "অভিযোগটি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" অভিযুক্তের পরিবার বা স্থানীয় সূত্রগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে এ জাতীয় অভিযোগকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করার চেষ্টা করে, যদিও পরিচয় গোপনের মতো সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির বিষয়ে তারা কোনো দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেনি।ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার নবাবগঞ্জ থানা এলাকার। ভুক্তভোগী ফাতিমার (ছদ্মনাম) ভাষ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার সাথে ‘রহমান’ নামক এক যুবকের পরিচয় হয়। দীর্ঘ এক বছর বন্ধুত্বের পর তারা ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ‘নিকাহ’ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কয়েক মাস পর শ্বশুর মারা গেলে ফাতিমা তার স্বামীর গ্রামে যান। সেখানে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, তার স্বামীর প্রকৃত নাম আশীষ গাঙ্গোয়ার এবং তিনি একজন হিন্দু।পরিচয় ফাঁসের পর দম্পতির মধ্যে কলহ শুরু হলেও পরবর্তীতে তারা একসাথে থাকা শুরু করেন। সম্প্রতি তাদের কোলজুড়ে একটি পুত্রসন্তান আসে যার বয়স বর্তমানে চার মাস। ফাতিমা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি দিল্লি যাওয়ার কথা বলে তারা বেরেলি জংশন স্টেশনে পৌঁছালে আশীষ কৌশলে চার মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেন। ফাতিমার দাবি, আশীষ তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন এবং এমনকি সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে সন্তানহারা এই মা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে শুরুতে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত ধর্মীয় ছদ্মবেশ বা ‘পরিচয় জালিয়াতি’র মাধ্যমে একজন মুসলিম নারীর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন এবং অনুচ্ছেদ ২৫ অনুযায়ী ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষার অধিকার রয়েছে। পরিচয় গোপন করে বিবাহ করা কেবল নৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং এটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৯ (পরিচয় জালিয়াতি) এবং ৪২০ (প্রতারণা) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, উত্তরপ্রদেশে বিশেষ করে মুসলিম নারীদের টার্গেট করে এ ধরনের প্রতারণা এবং পরবর্তীতে তাদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধার করা এবং অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।