মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
ইসলামী সভ্যতার মহান স্থপতি উজির নিজামুল মুলক

ইসলামী সভ্যতার মহান স্থপতি উজির নিজামুল মুলক

মহান সেলজুক সাম্রাজ্যের শক্তিশালী উজির নিজামুল মুলক সুলতান আলপ আরসালান ও সুলতান মালিক শাহের অধীনে প্রায় ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১০৯২ সালের ১৪ অক্টোবর ইরানের নিহাভান্দ শহরে বাতেনি ঘরানার এক ঘাতকের হাতে তিনি নিহত হন।নিজামুল মুলকের জন্ম খোরাসানে। ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বহু মনীষীর জন্মভূমি এই অঞ্চল। পারসিক বংশোদ্ভূত এই রাষ্ট্রনায়ক কয়েক দশক ধরে সেলজুক সাম্রাজ্যের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। সাম্রাজ্যকে একটি শক্তিশালী বিশ্বশক্তিতে পরিণত করতে তাঁর প্রশাসনিক, সামরিক ও রাজনৈতিক অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু ইরানের ইসফাহানে অবস্থিত তাঁর সমাধির বর্তমান অবস্থা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সমাধিটি আশপাশের স্থাপনার মধ্যে অনেকটা আড়ালে পড়ে রয়েছে। সেখানে পরিচিতিমূলক ফলক ও তথ্যসংবলিত লেখার অনুপস্থিতি এবং প্রবেশদ্বারে তালা থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।ইতিহাসবিদ ইবনুল আসির তাঁর আল-কামিল ফিত তারিখ গ্রন্থে নিজামুল মুলককে সম্মান ও মর্যাদায় অনন্য এক বিরল মুক্তার সঙ্গে তুলনা করেছেন।ইসফাহানে নিজামুল মুলকের সমাধির সন্ধানইসফাহানের জামে মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত একটি বিখ্যাত গম্বুজের ছবি তুলতে গিয়ে নিজামুল মুলকের সমাধির বিষয়টি সামনে আসে। ১০৮০ সালে নিজামুল মুলক স্থপতি আবুল ফাতহকে দিয়ে গম্বুজটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। এটি ইসফাহানের জামে মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যাংশগুলোর একটি এবং তাঁর নামেই পরিচিত।ইসফাহানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও সমাধিটি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া সহজ ছিল না। ইসলামী বিশ্বকোষের তথ্য যাচাই করে সমাধির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা।ভারী ব্যাগ ও ক্যামেরা নিয়ে পুরোনো শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে অনেকের কাছে সমাধির অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। ফারসি ভাষায় প্রশ্ন করেও খুব কম মানুষের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যায়। কারও কারও দেওয়া তথ্য পরস্পরবিরোধী ছিল।দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে সমাধিটি খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে পৌঁছে স্পষ্ট হয়, ইরানের এই ঐতিহাসিক স্থাপনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পরিচিতি ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সীমিত।জন্মের এক হাজার বছর পূর্তি২০১৮ সালকে নিজামুল মুলকের জন্মের এক হাজার বছর পূর্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উপলক্ষকে সামনে রেখে তাঁর জীবন, কর্ম ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নতুন করে আলোচনায় আসে।নিজামুল মুলকের অবদান শুধু একজন উজির হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে সুসংগঠিত করা, সামরিক কাঠামো শক্তিশালী করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সেলজুক সাম্রাজ্য গঠনে নিজামুল মুলকের অবদানমহান সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তুঘরিল বেগ পরিচিত হলেও, রাষ্ট্রটিকে একটি বিস্তৃত ও প্রভাবশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করার ক্ষেত্রে নিজামুল মুলকের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তিনি প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হন। সামরিক দক্ষতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ইসলামী ইতিহাসে ‘মহান উজির’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।নিজামুল মুলক ছিলেন দক্ষ প্রশাসক হওয়ার পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ সামরিক সংগঠক। সুলতান আলপ আরসালানের নেতৃত্বে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে তাঁর অবদানের উল্লেখ ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায়।কাভুর্দ বেগের বিদ্রোহ দমনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কাভুর্দ বেগ ছিলেন সুলতান আলপ আরসালানের ভাই। দুজনই সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিত্বদের অন্যতম চাঘরি বেগের পুত্র।তুঘরিল বেগের মৃত্যুর পর সিংহাসন নিয়ে সংঘাত শুরু হলে আলপ আরসালানকে কাভুর্দ বেগ ছাড়াও তুঘরিল বেগের মনোনীত উত্তরসূরি সুলায়মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। এই ক্ষমতার লড়াইয়ে নিজামুল মুলক সক্রিয়ভাবে আলপ আরসালানের পাশে ছিলেন।তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার ভারসাম্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব চিন্তাভাবনা ছিল।ইবনে খালদুনের সঙ্গে চিন্তাগত সাদৃশ্যনিজামুল মুলক ও বিখ্যাত মুসলিম ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে। দুজনই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে রাষ্ট্র, সমাজ ও ক্ষমতা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করেছেন।ইবনে খালদুন উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করেছেন, অন্যদিকে নিজামুল মুলকের কর্মজীবন গড়ে উঠেছে ইরান ও সেলজুক সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও রচনা মধ্যযুগীয় মুসলিম রাজনৈতিক চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।‘সিয়াসতনামা’: রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থনিজামুল মুলকের লেখা সিয়াসতনামা সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক চিন্তা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। গ্রন্থটি সিয়ারুল মুলুক নামেও পরিচিত।সুলতান মালিক শাহ রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনার উদ্যোগ নিলে নিজামুল মুলক তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে এই বই রচনা করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল সত্তরের বেশি।গ্রন্থটিতে প্রশাসন, শাসকের দায়িত্ব, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিভিন্ন দিক আলোচিত হয়েছে। নিজামুল মুলক মনে করতেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই বই পড়া উচিত। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সঠিক জ্ঞান ও নীতির মাধ্যমে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।সুলতান আলপ আরসালান মৃত্যুর আগে মালিক শাহকে উত্তরসূরি মনোনীত করেন এবং নিজামুল মুলককে তাঁর উজির হিসেবে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মালিক শাহের শাসনামলেও নিজামুল মুলক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।সেনাবাহিনী সংস্কার ও ইকতা ব্যবস্থা১০৮১ সালে সেনাবাহিনী পরিদর্শনের সময় সুলতান মালিক শাহ সাত হাজার সৈনিকের অবস্থা সন্তোষজনক মনে না করায় তাঁদের সেনাবাহিনী থেকে বাদ দেন।নিজামুল মুলক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সতর্ক করেছিলেন যে, এসব সৈনিকের সামরিক পেশার বাইরে অন্য কোনো জীবিকা নাও থাকতে পারে। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া তাঁদের বাদ দিলে রাষ্ট্রের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।সুলতান তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করেননি। পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহ দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক বছর লেগে যায়। এই ঘটনা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজামুল মুলকের দূরদর্শিতার একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।সেলজুক সামরিক শক্তি সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ইকতা ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে রাজস্ব বা সম্পদ সংগ্রহের অধিকার এবং সামরিক দায়িত্বের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে কেন্দ্রীয় কোষাগারের ওপর সরাসরি ব্যয়ভার কিছুটা কমিয়ে সাম্রাজ্যের সামরিক কাঠামো বজায় রাখা সম্ভব হয়েছিল।পরবর্তী সময়ে উসমানীয় সাম্রাজ্যের তিমার ব্যবস্থার সঙ্গে ইকতা ব্যবস্থার কিছু কার্যগত সাদৃশ্য দেখা যায়, যদিও দুটি ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্যও ছিল।আব্বাসীয় খিলাফতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাসেলজুক সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার পাশাপাশি আব্বাসীয় খলিফারা সুন্নি মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।সেলজুক শাসক ও আব্বাসীয় খিলাফতের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখতে নিজামুল মুলক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য বিরোধ এড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য তিনি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতেন।বিশেষ করে দুই রাজবংশের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আব্বাসীয় খলিফা আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহ তাঁকে বিভিন্ন উপাধিতে সম্মানিত করেন।১০৯২ সালে নিজামুল মুলকের মৃত্যুর পর সেলজুক ও আব্বাসীয় নেতৃত্বের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।বাতেনি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগ্রামনিজামুল মুলকের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল বাতেনি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম।১০৯০ সালে হাসান সাব্বাহ আলামুত দুর্গ দখল করেন। সেখান থেকে তিনি সেলজুক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ওই সময় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে দুর্বল করার ঘটনাগুলো সেলজুক প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।নিজামুল মুলক সামরিক অভিযান ও আদর্শিক মোকাবিলা, উভয় ক্ষেত্রেই এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেন। ১০৯১ সালে আমির ইয়োরুনতাশকে আলামুত দুর্গ দখলের জন্য পাঠানো হলেও অভিযানটি সফল হয়নি।বাতেনি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও মতাদর্শিক মোকাবিলা। এই গোষ্ঠী নিজস্ব মতাদর্শের মাধ্যমে সমর্থক সংগ্রহ করত। ফলে শুধু সামরিক অভিযান দিয়ে তাদের প্রভাব মোকাবিলা করা কঠিন ছিল।এই প্রেক্ষাপটে নিজামুল মুলকের প্রতিষ্ঠিত নিজামিয়া মাদরাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের গড়ে তোলা এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটানো সম্ভব হয়।নিজামিয়া মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষার বিকাশপ্রখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালি নিজামিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। তিনি বাতেনি মতবাদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।বাগদাদের নিজামিয়া মাদরাসা ১০৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ, ১০৯০ সালে হাসান সাব্বাহ আলামুত দুর্গ দখল করার অনেক আগেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছিল।এ থেকে বোঝা যায়, নিজামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠা শুধু বাতেনি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ছিল না। বরং ইসলামী শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা এবং দক্ষ আলেম তৈরির একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ ছিল।নিজামুল মুলকের শিক্ষা উদ্যোগ মধ্যযুগীয় মুসলিম সমাজে জ্ঞানচর্চার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে অবদান রাখে। তাঁর মৃত্যুর পরও এসব প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অটুট থাকে।প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও জীবনীকার শামসুদ্দিন আয-যাহাবি তাঁর সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা গ্রন্থে নিজামুল মুলকের রাষ্ট্র পরিচালনা ও আলেমদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হলো, নিজামুল মুলকের শাসনব্যবস্থায় আলেম সমাজ বিশেষ মর্যাদা ও প্রভাব ভোগ করত।মাজহাবি বিরোধ ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতানিজামুল মুলকের সময় বিভিন্ন ধর্মীয় ও মাজহাবি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা যেত। কখনো এসব বিরোধ রক্তপাতেও গড়াত। এমনকি সুন্নি মাজহাবগুলোর মধ্যেও সংঘাত দেখা দেওয়ার ঘটনা ছিল।নিজামুল মুলক শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। তবে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৃহত্তর মুসলিম সমাজের স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি বিভিন্ন বিরোধ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতেন।সমস্যা তৈরি হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা কিংবা সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে আনা তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।খোরাসান: জ্ঞান ও সভ্যতার উর্বর ভূমিনিজামুল মুলকের উত্থান বুঝতে তাঁর শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিবেশ এবং জন্মভূমির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করা প্রয়োজন।খোরাসান ছিল ইসলামী সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। বহু বিশিষ্ট আলেম, চিন্তাবিদ ও মনীষী এই ভূখণ্ড থেকে উঠে এসেছেন।পারসিক বংশোদ্ভূত নিজামুল মুলক কয়েক দশক ধরে সেলজুক সাম্রাজ্যের সেবা করলেও তাঁর রাজনৈতিক জীবন শেষ পর্যন্ত নানা সংকটের মুখোমুখি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিরোধ ও প্ররোচনার কারণে সুলতান মালিক শাহের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।উজিরকে অপসারণের হুমকিএকপর্যায়ে সুলতান মালিক শাহ নিজামুল মুলককে উজিরের পদ থেকে অপসারণের হুমকি দেন। জবাবে নিজামুল মুলক রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলে রাষ্ট্রও দুর্বল হয়ে পড়বে।শেষ পর্যন্ত তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করা হয়নি। তবে তাঁর মৃত্যুর পর সেলজুক সাম্রাজ্যে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট দেখা দেয়, তা তাঁর ভূমিকার গুরুত্ব নতুন করে সামনে আনে।বাতেনি ঘাতকের হাতে নিজামুল মুলকের মৃত্যু সেলজুক প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।নিজামুল মুলকের মৃত্যুর পর সেলজুক সাম্রাজ্যের সংকটনিজামুল মুলকের মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই সুলতান মালিক শাহের মৃত্যু হয়। এরপর সেলজুক রাজপরিবারে দীর্ঘস্থায়ী সিংহাসনসংগ্রাম শুরু হয়।মালিক শাহের জ্যেষ্ঠ পুত্র বারকিয়ারুককে সুলতান ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সুলতান হওয়া তাঁর ভাই মুহাম্মদ তাপারের সঙ্গে তাঁকে ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়াতে হয়।এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে আনাতোলিয়ায় ঘটে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাতেও সেলজুক নেতৃত্ব যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারেনি। সেটি ছিল প্রথম ক্রুসেড, যা মুসলিম ভূখণ্ডে গভীর প্রভাব ফেলে।প্রথম ক্রুসেডের আগেই সেলজুক সাম্রাজ্যে আঞ্চলিক বিভাজন শুরু হয়েছিল। ১০৭৫ সালে কুতালমিশের পুত্র সুলায়মান শাহ রাজধানী ইজনিককে কেন্দ্র করে আনাতোলীয় সেলজুক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম ক্রুসেডের সময় এই রাষ্ট্রের সুলতান ছিলেন প্রথম কিলিচ আরসালান।সেলজুক ইতিহাসবিদ ও গবেষক ওসমান তুরানের বর্ণনায়, ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়া প্রথম কিলিচ আরসালান মহান সেলজুক সুলতান বারকিয়ারুকের কাছে দূত পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন। তবে সেলজুক রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সেই সাহায্য পাওয়া সম্ভব হয়নি বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।ইসফাহানে নিজামুল মুলকের সমাধি নিয়ে উদ্বেগঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের সমাধি শুধু তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন নয়। এসব স্থান তাঁদের চিন্তা, আদর্শ ও ঐতিহাসিক অবদানকে পরবর্তী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করে।ইসফাহানে নিজামুল মুলকের সমাধির পুরোনো ছবিতে প্রবেশপথে পরিচিতিমূলক ফলক ও তথ্যসংবলিত লেখা দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে সেসবের অনুপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।সমাধিটি আশপাশের স্থাপনার মধ্যে অনেকটা আড়ালে রয়েছে এবং প্রবেশদ্বারে তালা থাকার কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত বলে জানা গেছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এ ধরনের স্থাপনার সংরক্ষণ, পরিচিতি এবং জনসাধারণের জন্য প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।ইরানে ঐতিহাসিক সমাধি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কেবল নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের সমাধিই গুরুত্ব পায়, এমন ধারণার বিরুদ্ধেও উদাহরণ রয়েছে। হামেদানের বাবা তাহিরের সমাধি এর একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।নিজামুল মুলকের সমাধির অবস্থা তাঁর শিয়াবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।শিয়া রাজনৈতিক শক্তি সম্পর্কে নিজামুল মুলকের অবস্থানতুঘরিল বেগ ও সুলতান আলপ আরসালানের শাসনামলে শিয়া মতাবলম্বীদের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। সুলতান মালিক শাহের সময়ে এই পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। এ বিষয়ে নিজামুল মুলকের অসন্তোষের কথাও ঐতিহাসিক আলোচনায় উঠে এসেছে।তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বুয়াইহি রাজবংশের অবশিষ্ট প্রভাব, ফাতেমীয় শাসনাধীন অঞ্চল এবং সেলজুক ভূখণ্ডে সক্রিয় বাতেনি গোষ্ঠী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।এই পরিস্থিতি নিজামুল মুলকের রাষ্ট্রীয় চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। তবে তাঁকে সরলভাবে ‘শিয়াবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন।এ বিষয়ে আদম আরিকানের মহান সেলজুক যুগে শিয়া মতবাদ শীর্ষক পিএইচডি গবেষণাকর্মে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।সেলজুক ইতিহাস গবেষণায় আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজনসেলজুক ইতিহাস নিয়ে গবেষণায় ওসমান তুরান ও ইব্রাহিম কাফেসওলুর মতো গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পরবর্তী গবেষকেরাও তাঁদের পথ অনুসরণ করে এই ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।তবু সেলজুক সাম্রাজ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো অসম্পূর্ণ। এর অন্যতম কারণ হলো, সে সময়ের পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক উৎস সহজলভ্য নয়। বিদ্যমান বহু উৎস ফারসি ভাষায় রচিত হওয়ায় সেগুলো বিশ্লেষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়।নিজামুল মুলকের জীবন ও কর্মের বহু দিক এখনো আরও গবেষণার দাবি রাখে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, সামরিক কৌশল, শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা মধ্যযুগীয় মুসলিম ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।ইসফাহানে তাঁর সমাধির সংরক্ষণও সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার রক্ষার অংশ। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের স্মৃতি সংরক্ষণ, তাঁদের অবদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি।নিজামুল মুলকের উত্তরাধিকার শুধু তাঁর সমাধিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র পরিচালনার চিন্তা এবং মুসলিম সভ্যতার বিকাশে অবদান তাঁকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

মওদুদীর আকিদা ও চিন্তাধারা: আলেম সমাজের আপত্তির কারণ

মওদুদীর আকিদা ও চিন্তাধারা: আলেম সমাজের আপত্তির কারণ

অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে হাইফায় কাদিয়ানীর বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা

অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে হাইফায় কাদিয়ানীর বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা

গাজার রক্ত, জাতিসংঘের নীরবতা ও নেতানিয়াহুর ভাষণ: বিশ্বপ্রতিবাদের ভাষা

গাজার রক্ত, জাতিসংঘের নীরবতা ও নেতানিয়াহুর ভাষণ: বিশ্বপ্রতিবাদের ভাষা

মসজিদুল আকসার শেষ উসমানীয় প্রহরী: ইগদিরের অনবাশি হাসান

মসজিদুল আকসার শেষ উসমানীয় প্রহরী: ইগদিরের অনবাশি হাসান

ভারতে এক দশকের মুসলিম বিদ্বেষ ও নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়ন: রিপোর্ট

ভারতে এক দশকের মুসলিম বিদ্বেষ ও নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়ন: রিপোর্ট

৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস

৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস

ইসলাম শান্তির ধর্ম ও তৌহিদের বার্তা, তবে শিরক থেকে দূরে থাকাই ইমানের দাবি: বায়তুল মোকাররমের খতিব

ইসলাম শান্তির ধর্ম ও তৌহিদের বার্তা, তবে শিরক থেকে দূরে থাকাই ইমানের দাবি: বায়তুল মোকাররমের খতিব

পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা: ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস, বাদী গ্রেফতার

পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা: ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস, বাদী গ্রেফতার

ইহুদি উৎসবের অজুহাতে ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করলো ইসরায়েল

ইহুদি উৎসবের অজুহাতে ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করলো ইসরায়েল

একজন উদীয়মান তরুণ আলেমের প্রস্থান ও অপূর্ণ সম্ভাবনার বেদনা

একজন উদীয়মান তরুণ আলেমের প্রস্থান ও অপূর্ণ সম্ভাবনার বেদনা

২০২৮ সালে নতুন প্রাথমিক শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্য, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ৫ খাত

২০২৮ সালে নতুন প্রাথমিক শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্য, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ৫ খাত

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

ইসলামী সভ্যতার মহান স্থপতি উজির নিজামুল মুলক

ইসলামী সভ্যতার মহান স্থপতি উজির নিজামুল মুলক

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; সংবিধানে দেওয়া অধিকার রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; সংবিধানে দেওয়া অধিকার রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

জগন্নাথপুরে জেলাব্যাপী হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, ১৮ বিজয়ীকে নগদ অর্থ ও সম্মাননা প্রদান

জগন্নাথপুরে জেলাব্যাপী হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, ১৮ বিজয়ীকে নগদ অর্থ ও সম্মাননা প্রদান

মুসলিমদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান এবং হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা: মসজিদে নববীর খতিবের

মুসলিমদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান এবং হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা: মসজিদে নববীর খতিবের

নামাজে অবহেলা নয়, সময়মতো আদায়ের আহ্বান ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা মসজিদুল হারামের খতিবের

নামাজে অবহেলা নয়, সময়মতো আদায়ের আহ্বান ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা মসজিদুল হারামের খতিবের

ইসলাম শান্তির ধর্ম ও তৌহিদের বার্তা, তবে শিরক থেকে দূরে থাকাই ইমানের দাবি: বায়তুল মোকাররমের খতিব

ইসলাম শান্তির ধর্ম ও তৌহিদের বার্তা, তবে শিরক থেকে দূরে থাকাই ইমানের দাবি: বায়তুল মোকাররমের খতিব

আইএমইসি করিডোর থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় ইসরায়েল: তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতায় তেল আবিবে উদ্বেগ

আইএমইসি করিডোর থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় ইসরায়েল: তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতায় তেল আবিবে উদ্বেগ

সংবিধান সংস্কার না হলে যেকোনো সরকার ‘নতুন হাসিনা’ হয়ে উঠবে: মাওলানা মামুনুল হক

সংবিধান সংস্কার না হলে যেকোনো সরকার ‘নতুন হাসিনা’ হয়ে উঠবে: মাওলানা মামুনুল হক

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
লিংক কপি করা হয়েছে!
“
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শায়খ ড. আবদুল বারি বিন আওয়াদ আল-সুবাইতি
শায়খ ড. আবদুল বারি বিন আওয়াদ আল-সুবাইতি
ইমাম ও খতিব, মসজিদে নববী
“
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমান
তারেক রহমান
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ

মুসলিমদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান এবং হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা: মসজিদে নববীর খতিবের

সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুযাইফি মুসলমানদের আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অবলম্বন এবং পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবারের খুতবায় তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা ‘ক্বাফ’-এর শিক্ষা, মানুষের জীবন ও মৃত্যুর বাস্তবতা এবং পুনরুত্থানের বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি মক্কা, মদিনা ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হুথি গোষ্ঠীর চালানো হামলার নিন্দা জানান। এসব হামলায় প্রাণহানি, নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং জিয়ারতকারী ও ওমরাহ পালনকারীদের হত্যার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।তাকওয়াই ইহকাল ও পরকালের সর্বোত্তম পাথেয়: মসজিদে নববীর খতিবপবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুযাইফি মুসলমানদের মহান আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করার উপদেশ দিয়েছেন।তিনি বলেন, আল্লাহর তাকওয়া হলো মানুষের অন্তরে গোপন রাখা বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বোত্তম, প্রকাশিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান। তাকওয়াই মহাসুখ লাভের পথ এবং ইহকাল ও পরকালের সর্বোত্তম পাথেয়।এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আল-লাইলের ৫-৭ নম্বর আয়াতের অর্থ তুলে ধরেন: “অতএব, যে ব্যক্তি দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সহজ পথ সুগম করে দেব।”পবিত্র কোরআনে মানবজীবন ও পরকালের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনাখতিব বলেন, মহান আল্লাহ তাঁর মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে এমন সব বিধান, প্রজ্ঞা ও শিক্ষা সংরক্ষণ করেছেন, যা মানুষের বিবেককে তৃপ্ত করে, আত্মাকে প্রশান্তি দেয় এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময় হিসেবে কাজ করে।কোরআনে অতীত জীবনের ঘটনাপ্রবাহ এবং পৃথিবীতে মানুষের ক্ষণস্থায়ী যাত্রার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ যখন উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না, তখন থেকে তার সৃষ্টি ও আকৃতি দান, পৃথিবীতে তার স্বল্পকালীন জীবন এবং সেই যাত্রার সমাপ্তি পর্যন্ত সবকিছুই এর আলোচনায় এসেছে।তিনি বলেন, মানুষের মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ এবং চূড়ান্ত পরিণতি পর্যন্ত পরকালীন জীবনের বিষয়গুলোও কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ মানুষকে জানিয়েছেন, কী উদ্দেশ্যে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, কোন পথে তার প্রকৃত সুখ এবং কোন পথে তার দুর্ভাগ্য নিহিত।এ ছাড়া অতীতের বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের অবস্থা তুলে ধরে কোরআন ধারাবাহিকভাবে মুমিনদের জীবন পরিচালনার পথনির্দেশ দেয় এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে।সূরা ‘ক্বাফ’-এ জীবনের গভীর শিক্ষাশায়খ আহমদ আল-হুযাইফি মুসল্লিদের পবিত্র কোরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা ‘ক্বাফ’ নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানান।তিনি উল্লেখ করেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জুমার দিন খুতবায় এই সূরা অথবা এর কিছু অংশ তিলাওয়াত করতেন। সাহাবি হজরত উম্মে হিশাম বিনতে হারিসা ইবন নুমান (রা.) বলেছেন, তিনি সূরা ‘ক্বাফ ওয়াল কোরআনিল মাজিদ’ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ থেকেই শিখেছেন। তিনি প্রতি শুক্রবার মিম্বরে দাঁড়িয়ে মানুষকে খুতবা দেওয়ার সময় এ সূরা পাঠ করতেন।খতিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সূরায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সত্য, মহান উদ্দেশ্য এবং পরকালীন বাস্তবতার ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এর অনন্য কোরআনিক বিন্যাস ও বর্ণনাশৈলীতে যুক্তিপূর্ণ প্রমাণ, সতর্কতামূলক উপদেশ এবং হৃদয়স্পর্শী স্মরণবাণী একত্রিত হয়েছে।এ সূরা মানুষের অন্তরকে জাগিয়ে তোলে, চোখে অশ্রু এনে দেয় এবং আল্লাহর সরল ও সঠিক পথে চলার সংকল্পকে দৃঢ় করে।আকাশ, পৃথিবী ও প্রকৃতির নিদর্শনে পুনরুত্থানের প্রমাণখতিব বলেন, সূরা ‘ক্বাফ’ শুরু হয়েছে এমন এক অসাধারণ সূচনার মাধ্যমে, যা মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর মহিমা উপলব্ধি করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং চিন্তাশক্তিকে এর গভীর তাৎপর্য নিয়ে ভাবতে আহ্বান জানায়।সূরার শুরুতে বিচ্ছিন্ন অক্ষর ‘ক্বাফ’-এর পর মহান কোরআনের শপথ এসেছে। এরপর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পুনরুত্থান ও পরকালীন জীবনের বিষয়টি।তিনি বলেন, মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আল্লাহর ক্ষমতার সুস্পষ্ট নিদর্শন মানুষের সামনে পুনরুত্থানের সত্যকে তুলে ধরে। পবিত্র কোরআনে আকাশের নির্মাণ ও সৌন্দর্য, পৃথিবীর বিস্তৃতি, পর্বতমালার স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও ফলমূলের উৎপাদন এবং বৃষ্টির মাধ্যমে মৃত ভূমিকে জীবিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।সূরা ‘ক্বাফ’-এর ৬-১১ নম্বর আয়াতে আকাশ ও পৃথিবীর এসব নিদর্শন তুলে ধরে মানুষকে চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃষ্টির মাধ্যমে মৃত ভূমি জীবিত হওয়ার উদাহরণ দিয়ে কোরআন পুনরুত্থানের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে।খতিবের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃতির এসব নিদর্শন শুধু আল্লাহর ক্ষমতার পরিচয়ই দেয় না, বরং চিন্তাশীল ও আল্লাহমুখী মানুষের জন্য শিক্ষা এবং স্মরণবাণী হিসেবেও কাজ করে।অতীতের জাতিগুলোর পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বানশায়খ আহমদ আল-হুযাইফি বলেন, সূরা ‘ক্বাফ’-এর আলোচনায় এরপর মহাবিশ্বের দৃশ্যমান নিদর্শন থেকে মানব ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি ফেরানো হয়েছে। আল্লাহর ওহি প্রত্যাখ্যান ও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া জাতিগুলোর পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।পবিত্র কোরআনে নুহ (আ.)-এর সম্প্রদায়, রাসের অধিবাসী, সামুদ, আদ, ফেরাউন, লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়, আইকার অধিবাসী এবং তুব্বার সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই রাসুলদের অস্বীকার করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল।খতিব বলেন, এসব ঐতিহাসিক ঘটনা সূরার শুরুতে উত্থাপিত পুনরুত্থানের মূল বিষয়টিকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে। পবিত্র কোরআনে প্রশ্ন করা হয়েছে, প্রথমবার সৃষ্টি করতে কি আল্লাহ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন? বরং অবিশ্বাসীরা নতুন করে সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে রয়েছে।তিনি মুসলমানদের অতীতের জাতিগুলোর ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি অবিচল থাকার আহ্বান জানান।মানুষের প্রতিটি কাজ সম্পর্কে আল্লাহ অবগতখতিব আরও বলেন, সূরা ‘ক্বাফ’ মানুষের প্রতি আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞান, সৃষ্টির ওপর তাঁর অসীম ক্ষমতা এবং জীবনের সমাপ্তি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়।সূরাটিতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার অন্তর যে চিন্তা ও কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে, সে সম্পর্কেও তিনি অবগত। আল্লাহ মানুষের গলার শিরার চেয়েও তার নিকটবর্তী। মানুষের ডান ও বাঁ পাশে নিয়োজিত দুই লিপিকার তার কাজকর্ম লিপিবদ্ধ করেন।এ প্রসঙ্গে সূরা ‘ক্বাফ’-এর ১৬-১৮ নম্বর আয়াতের শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের জীবন একসময় শেষ হবে এবং তাকে এমন এক স্থায়ী জীবনের মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে তার কর্মের হিসাব নেওয়া হবে।পরকালীন জীবনে মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি হবে অনন্ত সুখ অথবা চিরস্থায়ী দুর্ভাগ্য। অতীতের শক্তিশালী জাতিগুলোও আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পায়নি। পবিত্র কোরআনে তাদের ইতিহাসের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে, পৃথিবীতে শক্তি ও প্রভাব অর্জন করলেই কেউ আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পায় না।খতিব বলেন, এসব বিষয় তাদের জন্য বড় শিক্ষা, যাদের অন্তর জীবন্ত এবং যারা মনোযোগ দিয়ে সত্যের বাণী শোনে।পরকালের বিশ্বাস মুমিনের জীবনে প্রশান্তি আনেশায়খ আহমদ আল-হুযাইফি বলেন, সূরা ‘ক্বাফ’-এর শেষভাগে পুনরুত্থান, বিচার দিবস এবং স্থায়ী পরকালীন জীবনের বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস একজন মুমিনের জীবনের কেন্দ্রীয় ভিত্তি। এ বিশ্বাস মানুষের বাস্তব জীবনে প্রশান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনে।জীবনের নানা পরিবর্তন, অনিশ্চয়তা, দুঃখ-কষ্ট এবং দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও মুমিন তার অন্তরে স্থিরতা ও প্রশান্তি অনুভব করতে পারে। কারণ, সে বিশ্বাস করে যে তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর জ্ঞানের আওতায় রয়েছে এবং জীবনের চূড়ান্ত হিসাব একদিন তাঁকেই দিতে হবে।তিনি বলেন, একজন মুমিন আল্লাহর প্রতি সচেতন থেকে জীবনযাত্রার প্রতিটি পর্যায় অতিক্রম করেন। তিনি আল্লাহর অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টির অধিকারও সংরক্ষণ করেন। তাঁর দৃষ্টিতে পৃথিবীর জীবন আল্লাহর দিকে এগিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ যাত্রার একটি সাময়িক পর্যায়।মক্কা ও মদিনার পবিত্র মর্যাদা তুলে ধরলেন খতিবখুতবায় শায়খ আহমদ আল-হুযাইফি পবিত্র দুই নগরী মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার বিশেষ মর্যাদার কথাও তুলে ধরেন।তিনি বলেন, মহান আল্লাহ, তাঁর রাসুল (সা.) এবং যুগে যুগে আকিদা ও ঈমানের অনুসারীদের কাছে পবিত্র দুই মসজিদ এবং মক্কা ও মদিনার অবস্থান অত্যন্ত সম্মানজনক।এই মর্যাদার কারণে দুই নগরী নিরাপদ আশ্রয়স্থল, প্রশান্তির আবাস এবং ইবাদতকারী, রুকু ও সিজদাকারীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষের জন্য শান্তির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।খতিবের বক্তব্যে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করার গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।মক্কা-মদিনা ও রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার নিন্দাখুতবায় শায়খ ড. আহমদ আল-হুযাইফি হুথি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাকে লক্ষ্য করে তাদের চালানো হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে প্রাণহানি, নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং জিয়ারতকারী ও ওমরাহ পালনকারীদের হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামী শরিয়ত, সুস্থ বিবেক, স্বাভাবিক মানবিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো উচিত।খতিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ ও হতাশাজনক হলেও ইতিহাসে তা অন্যায় ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে।পবিত্র কোরআনে হাতির বাহিনীর ঘটনার উদাহরণমক্কাকে লক্ষ্য করে অতীতের একটি ঐতিহাসিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে শায়খ আহমদ আল-হুযাইফি সূরা আল-ফিলের কথা উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে হাতির বাহিনীর ঘটনা তুলে ধরে তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়া এবং পরাজয়ের কথা জানানো হয়েছে। সূরা আল-ফিলে মহান আল্লাহ কীভাবে হাতির বাহিনীর পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়ে পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে তাদের পরিণতি নির্ধারণ করেছিলেন, তা বর্ণিত হয়েছে।খতিবের বক্তব্যে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্রের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সেনাদের জন্য দোয়াখুতবায় শেষ পর্যায়ে শায়খ আহমদ আল-হুযাইফি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।তিনি সৌদি আরবকে ঈমানের আশ্রয়স্থল, ওহি অবতরণের ভূমি, মুসলমানদের হৃদয়ের আকর্ষণকেন্দ্র এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সমাধিস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল থেকে দেশটিকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে সৌদি বাদশাহ, দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম এবং তাঁর যুবরাজকে জনগণ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দেওয়ার দোয়া করেন।সবশেষে তিনি সৌদি সেনাদের বিজয়, দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

মুসলিমদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান এবং হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা: মসজিদে নববীর খতিবের
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
কত বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন?

কত বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন?

  ৩৫ বছরে
  ৪০ বছরে
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...