শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
নিজের জন্মভূমিতেই নির্মূল হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগণ: জাতিসংঘের অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাস

নিজের জন্মভূমিতেই নির্মূল হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগণ: জাতিসংঘের অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে সশরীরে উপস্থিত হতে না পেরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভাষণ দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বমঞ্চে প্রদত্ত এই ভাষণে তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন, অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্রপন্থীদের বর্বরতা এবং পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। আব্বাস সতর্ক করে বলেন, গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের জন্মভূমি থেকে চিরতরে মুছে ফেলার যে পরিকল্পনা চলছে, তা ১৯৪৮ সালের 'নকবা' বা মহা-বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। ইসরায়েলকে অব্যাহতভাবে অস্ত্র সরবরাহ ও বিশ্বশক্তির নীরবতার বিরুদ্ধে তিনি জাতিসংঘকে অবিলম্বে জোরালো ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ও কঠোর বার্তা উপস্থাপন করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো মার্কিন প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকার করায় ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে 'বেআইনি, শাস্তিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেন তিনি।বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে আব্বাস বলেন, 'ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার সব মৌলিক ভিত্তি আজ ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে গেছে। পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, আর পবিত্র শহর জেরুজালেমকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের ভূখণ্ড দখল করছে।''নতুন নকবার' পূর্বাভাস ও বৈশ্বিক নীরবতার প্রতিবাদ১৯৪৮ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা আজ আরও বড় এক বিপদের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদকে বহুবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ইসরায়েলি নীতি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমে যা ঘটছে, তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে জীবনযাপন অসম্ভব করে তুলে তাদের বিতাড়িত করার একটি পরিকল্পিত নীলকশ। আমরা নতুন করে কোনো 'নকবা' বা জাতিগত উচ্ছেদ হতে দেব না।'তিনি বিশ্বশক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, 'কতদিন ধরে কিছু রাষ্ট্র ইসরায়েলি বর্বরতার সামনে এভাবে নীরব থাকবে? যে অস্ত্র ব্যবহার করে আমাদের শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, সেই অস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেওয়া বন্ধ হবে কবে? গাজা ও পশ্চিম তীরের এই নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় দেখেও বিশ্ববিবেক নিশ্চুপ।'শান্তি প্রস্তাব ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিযুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা এবং গাজা সংকটের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিলেন উল্লেখ করে আব্বাস বলেন, 'আমরা যেকোনো শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি যাতে গাজায় আগ্রাসন থামে এবং দখলদার বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েলি আগ্রাসন থামেনি। কাগজের চুক্তি কাগজে রয়ে গেছে, আর বাস্তবে শিশুদের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। অবিলম্বে সময়সীমাবদ্ধ রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।'তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে একটিই নীতি প্রযোজ্য হবে—'এক রাষ্ট্র, এক সরকার, এক আইন এবং এক বৈধ সশস্ত্র বাহিনী'। ফিলিস্তিনের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এই ভূখণ্ড পরিচালনা করতে হবে।'ধর্মীয় স্থানসমূহের সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারআল-আকসা মসজিদসহ মুসলিম ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরায়েলি উগ্রপন্থীদের অব্যাহত হামলার তীব্র নিন্দা জানান আব্বাস। এটি কেবল ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন নয়, বরং পুরো অঞ্চলকে একটি বড় ধরনের ধর্মীয় ও জাতিগত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেন তিনি। একই সাথে জাতিসংঘের উনরোয়া (UNRWA) সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাকে অবরুদ্ধ ও আক্রমণ করার ইসরায়েলি চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আব্বাস জানান, ইউনেস্কোর (UNESCO) সহায়তায় শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয় ও শান্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। আগামী ২৮ নভেম্বর ফিলিস্তিনের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল কাউন্সিলসহ সব জাতীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠিত হবে।আমরা আমাদের মাটিতেই থাকববিশ্বমঞ্চ থেকে মাহমুদ আব্বাস সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেন, 'ফিলিস্তিনি জনগণ নিজেদের পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো যাবে না। সাময়িক সামরিক দখলদারিত্ব, অবৈধ বসতি কিংবা উগ্র সন্ত্রাসবাদ কোনো সমাধান আনবে না—এগুলোই মূল সমস্যা। দখলদার সরকারের আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার বা আমাদের ভাগ্য নির্ধারণের কোনো অধিকার নেই।'তিনি আরও বলেন, '১৯৮৮ সালে আমাদের নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক বৈধতার ভিত্তিতে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের কঠিন কিন্তু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আজ বিশ্বের ১৬০টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যারা এখনো স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান—অবিলম্বে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিন এবং জাতিসংঘে আমাদের পূর্ণ সদস্যপদ নিশ্চিত করুন।'উপসংহারে তিনি ফিলিস্তিনের অকুতোভয় জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনারা পৃথিবীর বুকে গৌরব ও মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিজ মাতৃভূমি না ছেড়ে আপনারা অধিকারের ওপর অটল রয়েছেন। আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের স্বাধিকার রক্ষা করব এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবই।'
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

চেঙ্গিস খানের নাতির ইসলাম গ্রহণ: ইতিহাসের যে বাঁক বদলে স্বস্তি পেয়েছিল মুসলিম বিশ্ব

চেঙ্গিস খানের নাতির ইসলাম গ্রহণ: ইতিহাসের যে বাঁক বদলে স্বস্তি পেয়েছিল মুসলিম বিশ্ব

পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র এখন ইরানের হাতে: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র এখন ইরানের হাতে: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

মুসলিম দম্পতিকে কান ধরে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে বাধ্য করলো হিন্দুত্ববাদীরা

মুসলিম দম্পতিকে কান ধরে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে বাধ্য করলো হিন্দুত্ববাদীরা

ইয়েমেনের তাইজে সামরিক অগ্রগতির দাবি সেনাবাহিনীর, হুথিদের সঙ্গে তীব্র সংঘাত

ইয়েমেনের তাইজে সামরিক অগ্রগতির দাবি সেনাবাহিনীর, হুথিদের সঙ্গে তীব্র সংঘাত

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি: দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হচ্ছে এক শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি: দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হচ্ছে এক শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়

ভারতে মুসলিমদের হালাল গোশতের দোকানে নিহাং শিখদের বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন

ভারতে মুসলিমদের হালাল গোশতের দোকানে নিহাং শিখদের বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন

বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা মালদ্বীপে ৯ মাস কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন

বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা মালদ্বীপে ৯ মাস কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন

কওমি সনদে নতুন চাকরির সুযোগ, ছয় শিক্ষা বোর্ডের সনদ স্বীকৃত

কওমি সনদে নতুন চাকরির সুযোগ, ছয় শিক্ষা বোর্ডের সনদ স্বীকৃত

তাবলিগ জামাত হারাল প্রবীণ মুরুব্বী মাওলানা এহসানুল হককে

তাবলিগ জামাত হারাল প্রবীণ মুরুব্বী মাওলানা এহসানুল হককে

ভারতে জুলাই জুড়েই চলল সংখ্যালঘু নির্যাতন: প্রতিদিন গড়ে ২টি হামলা, শীর্ষে উত্তর প্রদেশ

ভারতে জুলাই জুড়েই চলল সংখ্যালঘু নির্যাতন: প্রতিদিন গড়ে ২টি হামলা, শীর্ষে উত্তর প্রদেশ

রুশ মুসলমানদের ঐক্য ও আত্মত্যাগের মহাকাব্য: সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদের ইতিহাস

রুশ মুসলমানদের ঐক্য ও আত্মত্যাগের মহাকাব্য: সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদের ইতিহাস

দৌলতখানে ‘জনসেবা ব্লাড ডোনেশন’-এর প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন

দৌলতখানে ‘জনসেবা ব্লাড ডোনেশন’-এর প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন

ভারতে মুসলিম পরিবারের ওপর হামলা, জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলানোর অভিযোগ

ভারতে মুসলিম পরিবারের ওপর হামলা, জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান বলানোর অভিযোগ

গাজায় নিজস্ব ড্রোন বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ২ ইসরায়েলি সেনার

গাজায় নিজস্ব ড্রোন বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ২ ইসরায়েলি সেনার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদে কালেমা খচিত ফলক স্থাপন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদে কালেমা খচিত ফলক স্থাপন

৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস

৩০ বছর ট্রান্স নারী থাকার পর অনুশোচনা: লিঙ্গ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরব সুইজারল্যান্ডের ক্রিস

ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়নে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার: যুক্তরাষ্ট্র

ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়নে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার: যুক্তরাষ্ট্র

নিজের জন্মভূমিতেই নির্মূল হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগণ: জাতিসংঘের অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাস

নিজের জন্মভূমিতেই নির্মূল হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগণ: জাতিসংঘের অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাস

নাইজেরিয়ায় জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদে ভয়াবহ হামলা

নাইজেরিয়ায় জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদে ভয়াবহ হামলা

জান্নাতের সুসংবাদ ও মহান আল্লাহর দিদারই মুমিনের সর্বোচ্চ সফলতা: মসজদে নববীর খতিব

জান্নাতের সুসংবাদ ও মহান আল্লাহর দিদারই মুমিনের সর্বোচ্চ সফলতা: মসজদে নববীর খতিব

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
লিংক কপি করা হয়েছে!

রুশ মুসলমানদের ঐক্য ও আত্মত্যাগের মহাকাব্য: সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদের ইতিহাস

রাশিয়ান সাম্রাজ্যের ২০০ বছরের রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে প্রায় আট হাজার তাতার মুসলিম বসবাস করলেও সেখানে কোনো মসজিদ ছিল না। দীর্ঘ তিন দশকের আইনি জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা অতিক্রম করে ১৯১০ সালে রুশ সাম্রাজ্যের মুসলমানদের যৌথ অর্থায়ন ও ত্যাগে এই ঐতিহাসিক সেন্ট পিটার্সবার্গ ক্যাথেড্রাল মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। মধ্য এশিয়া থেকে ককেশাস পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভূতপূর্ব সংহতির প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপত্যটি আজও রাশিয়ার মুসলমানদের ঈমানি চেতনার অমলিন সাক্ষ্য বহন করছে।রাশিয়ান সাম্রাজ্যের রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর মাঝে নিজস্ব ব্লু-টাইলসের গম্বুজ ও মিনার নিয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছে ঐতিহাসিক 'সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদ'। কিন্তু এই চোখধাঁধানো ইবাদতগাহটি কেবল একটি অসাধারণ স্থাপত্য নয়; এর প্রতিটি পাথরে খোদাই হয়ে আছে রুশ সাম্রাজ্যের নিপীড়ন ও উদাসীনতার মুখে মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের ইতিহাস।প্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘ লড়াই১৮৮১ সালে পিটার্সবার্গের তৎকালীন মুসলিম মুফতি শহরের ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণের আবেদন জানান। সরকারের নীতিগত অনুমোদন মিললেও বাস্তবায়নের জন্য সরকারি কোনো অনুদান বা সুবিধা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীকালে ১৮৮২ সালে ওরেনবার্গের মুফতি সালিমগ্রে তেভকেলেভ অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে একটি তহবিল গঠনের অনুমতি চান। সরকারি ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আগেই স্থানীয় মুসলিমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন।মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমতি পেতে দীর্ঘ ২৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে ১৯০৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল স্বেচ্ছাসেবীদের অনুদানের ওপর ভিত্তি করে সেন্ট পিটার্সবার্গে ক্যাথেড্রাল মসজিদ নির্মাণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের অনুমোদন দেয়।তুর্কিস্তান থেকে ককেশাস: ঐতিহাসিক অনুদান অভিযানঅনুমতি পাওয়ার পর সমগ্র রুশ সাম্রাজ্যে বাস করা মুসলিম সম্প্রদায় অনুদান সংগ্রহের জন্য অভূতপূর্ব উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার রুবেল সংগ্রহের সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ১৯০৬ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তহবিলের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫৩ হাজার রুবেল। কিন্তু অনুদান সংগ্রহের এই আহ্বান দ্রুত মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্তান থেকে শুরু করে ককেশাসের পাহাড় ঘেরা অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই সংগৃহীত অর্থ ১ লাখ রুবেল অতিক্রম করে।এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুসংগঠিত করতে ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত 'পিটার্সবার্গ মুসলিম এইড সোসাইটি' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজারবাইজানের বিখ্যাত শিল্পপতি ও দাতব্য মানব দরদী শামসি আসাদুললায়েভ, হাজি মুসা নাগিয়েভ, হাজি জয়নাল আবেদিন তাগিয়েভ এবং তুর্কিস্তানের ধনকুবের ভেলিহানভ ভাইয়া ও আল্লার ইয়ারবেক জুলকাদারভ এই সংস্থায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিশেষ দ্রষ্টব্য হলো, এই সাহায্য সংস্থার শেষ সভাপতি ছিলেন বীর মুজাহিদ ইমাম শামিলের নাতি জাহিদ শামিল। যা প্রমাণ করে তৎকালীন ভৌগোলিক দূরত্ব ও রাজনৈতিক বাধা সত্ত্বেও মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কেমন সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্ববোধ বিরাজ করছিল।জমি ক্রয় ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনমসজিদের জন্য নির্ধারিত জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া চরম আর্থিক সংকট নিরসনে এগিয়ে আসেন বুখারা আমিরাতের শেষ স্বাধীন আমির সাইয়্যেদ আব্দুল আহাদ খান। তিনি একাই ৫ লাখ রুবেল অনুদান দেন। আজারবাইজানি দাতব্য ব্যক্তিত্ব হাজি জয়নাল আবেদিন তাগিয়েভ ও মুরতুজা মুখতারোভের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ অর্থ সংগৃহীত হয়।অবশেষে জারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনে ১৯১০ সালে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বুখারার আমির, ওরেনবার্গের মুফতি, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় প্রতিনিধি, উসমানীয় (অটোমান) ও ইরানি রাষ্ট্রদূত এবং রাশিয়ার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর হাজার হাজার উৎফুল্ল মুসলিম অংশগ্রহণ করেন।স্থাপত্যশৈলী ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানরুশ স্থপতি নিকোলাই ভাসিলিয়েভ এবং স্টেপান ক্রিচিনস্কির নকশায় প্রস্তুত এই মসজিদটি তৈরিতে মধ্য এশিয়া থেকে প্রখ্যাত শিল্পী ও সিরামিক কারিগরদের আনা হয়। মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ১৪০৫ সালে সমারকন্দে নির্মিত আমির তিমুরের সমাধি 'গুর-ই আমির' মসজিদের আদলে তৈরি।১৯১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রোমানভ রাজবংশের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মসজিদটির আংশিক নির্মাণ কাজ শেষেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৯১০ সালে প্রধান অর্থদাতা বুখারার আমির মারা যাওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর পুত্র বুখারার শেষ আমির সাইয়্যেদ মীর মুহাম্মদ আলিম খান উপস্থিত ছিলেন। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের পূর্বেই এই মসজিদটির ছবিসহ পোস্টকার্ড রুশ ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত হয়, যা প্রমাণ করে যে উদ্বোধনের পর পরই এটি শহরের প্রধান স্থাপত্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল।সোভিয়েত দমনপীড়ন ও সুকার্নোর ঐতিহাসিক অবদান১৯২০ সালে মসজিদের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ শেষ হলেও কমিউনিষ্ট বিপ্লবের পর ১৯২৭ থেকে ১৯৩০ এবং ১৯৪০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত বলশেভিক সোভিয়েত সরকার মসজিদটি বন্ধ করে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটিকে একটি মেডিকেল গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।১৯৫৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সোভিয়েত মন্ত্রিপরিষদের এক সিদ্ধান্তে মসজিদটি পুনরায় মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এই পুনর্জাগরণের পেছনে একটি বিশেষ ঘটনা রয়েছে। ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্ট আহমেদ সুকার্নো লেলিনগ্রাদ (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) সফরের সময় দূর থেকে এই মসজিদের গম্বুজ দেখে তা পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ রয়েছে জানালে সুকার্নো সরাসরি ক্রেমলিনের উচ্চপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জোরালো অনুরোধ জানান। তাঁর হস্তক্ষেপেই মসজিদটি পুনরায় চালু হয়।বর্তমান অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য১৯১৭ থেকে ১৯২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বিখ্যাত তাতার আলেম ও চিন্তাবিদ মুসা জারুল্লাহ বিগিয়েভ এই মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে রাশিয়া ফেডারেশনের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের মুফতি রাভিল পাঞ্চিয়েভ এই মসজিদের প্রধান খতিব।দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: ৪৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৩২ মিটার প্রশস্ত।মিনার ও গম্বুজ: ৪৮ মিটার উঁচু ২টি মিনার এবং বিশাল নীল টাইলসের গম্বুজ।ধারণক্ষমতা: ৩টি তলায় একসাথে প্রায় ৫,০০০ মুসল্লি সালাত আদায় করতে পারেন। প্রথম তলা পুরুষ এবং দ্বিতীয় তলা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদ কেবল ইট-পাথরের কোনো ইমারত নয়; এটি ইউরোপের বুকে মুসলিম পরিচয়, সংহতি ও শত প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার এক জ্বলন্ত প্রতীক।

রুশ মুসলমানদের ঐক্য ও আত্মত্যাগের মহাকাব্য: সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদের ইতিহাস
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
কত বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন?

কত বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন?

  ৩৫ বছরে
  ৪০ বছরে
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...