ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তোলা ধর্মান্তরকরণ ও জোরপূর্বক নামাজ পড়ানোর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অবশেষে উচ্চপর্যায়ের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সম্মানজনকভাবে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদকে।ব্যক্তিগত পোশাক-আশাক এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন মথুরার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদ। দীর্ঘ ১৯ বছর একই স্কুলে অত্যন্ত সুনাম ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করার পর, সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও রাষ্ট্রগান অবমাননার গুরুতর কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়।ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩০ জানুয়ারি। স্থানীয় বিজেপি নেতা দুর্গেশ প্রধান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (BSA) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, জান মোহাম্মদ স্কুল চত্বরে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক নামাজ পড়ান এবং হিন্দু ধর্মের অবমাননা করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধা দেন এবং বহিরাগতদের এনে শিশুদের মগজধোলাই করেন।অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় ৩১ জানুয়ারি কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়াই মথুরার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কীর্তি প্রধান শিক্ষক জান মোহাম্মদকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। প্রশাসনের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।বরখাস্তের পর শিক্ষা বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে দেখা যায়:স্কুলের ২৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সিংহভাগই হিন্দু, এবং ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে জান মোহাম্মদ ছাড়া বাকি ৭ জনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।সহকর্মী হিন্দু শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, দীর্ঘ ১৯ বছরে জান মোহাম্মদ কখনোই ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াননি বরং তিনি অত্যন্ত মার্জিত এবং পেশাদার।স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জোরপূর্বক নামাজ পড়ানো বা জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার কোনো প্রমাণ নেই।শিক্ষার্থীরা সরাসরি জানায়, তাদের কোনো প্রকার ধর্মীয় পরিবর্তনের চাপ দেওয়া হয়নি।তদন্ত প্রতিবেদনে জান মোহাম্মদকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র দাড়ি-টুপি এবং কুর্তা-পায়জামা পরার কারণে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি আদেশে তাঁর ওপর থেকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে সসম্মানে কাজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনাটি ভারতের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সহনশীলতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেলেও, সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।