সারা দেশে পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের অধিকাংশ খাল ও জলাশয় পুনঃখননের পাশাপাশি প্রতি বছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে গঠিত হয়েছে বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় দেশের পরিবেশ রক্ষা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনটি বড় প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়।খাল খনন: এক নতুন বিপ্লবের ডাকসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, "জিয়াউর রহমান এই কর্মসূচিকে গণবিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নির্বাচনের আগে থেকেই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।"তিনি জানান, স্থানীয় সরকার, পানিসম্পদ, দুর্যোগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এই কাজ শুরু করবে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যে, ১৮০ দিনের মধ্যেই প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ সম্পন্ন হবে।সবুজ বাংলাদেশ: ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর ৫ কোটি করে চারা রোপণ করা হবে। আগামী মে মাস থেকে এই অভিযান শুরু হবে। চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা অপূর্ণ থাকলেও পরবর্তী বছরে তা পুষিয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।ফ্যামিলি কার্ড ও মন্ত্রিসভা কমিটিনির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী জনগণের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কার্ডের ডিজাইন, সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ করবে।প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলাকে মডেল হিসেবে নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই যোগ্য ব্যক্তিদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা সম্ভব হয়।