ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিতর্কিত নেতা নীতিশ রানে এক উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন সামাজিক আলোড়ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তাদের প্রস্তাবিত ‘হিন্দু রাষ্ট্র’-এ ‘আই লাভ মহাদেব’ এর মতো স্লোগান উদযাপিত হলেও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বললে তাদের জন্য কোনো জায়গা থাকবে না।প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নীতিশ রানের এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালি ও স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে আরও বলেন, যেসব মুসলিম ভারতে বসবাস করতে চান, তাদের হিন্দু পরিচয় বা সংস্কৃতি মেনে নিতে হবে। আর যারা তার এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করা হয়।ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের চরমপন্থী ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবারই প্রথম নয়। বিশ্বজুড়ে যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্য রক্ষা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের অন্যতম স্তম্ভ, সেখানে বিশ্বজনীন প্রিয় ব্যক্তিত্ব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের নিজ দেশে কোণঠাসা করার এই অপচেষ্টা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মুসলিমদের জন্য ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বার্তাটি প্রিয় মহানবীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের প্রতীক। ঠিক তেমনিভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও তাদের উপাস্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুভূতিকে স্থান দিয়ে অন্য ধর্মীয় বিশ্বাসকে মুছে ফেলার এই হুংকার ভারতের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ নেটিজেন ও সচেতন নাগরিকরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত কোনো একক ধর্মের সম্পত্তি নয়; বরং বহুত্ববাদী এই রাষ্ট্রটি সকল ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষের। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় মুসলিমরা দেশটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিসীম অবদান রেখে আসছেন। ভারতের একজন নাগরিক হিসেবে মুসলিমদের অধিকার কেবল তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে শর্তাধীন হতে পারে না।একজন নাগরিক 'এক্স' (টুইটার)-এ লিখেছেন, 'নীতিশ রানে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মালিক নন। সব ধর্মের মানুষই এই দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। ঘৃণা না ছড়িয়ে দেশের সেবা করুন। ভারত প্রতিটা নাগরিকের এবং এটি সংবিধান দিয়ে পরিচালিত হয়, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা ঘৃণায় নয়।'
অন্য এক ব্যবহারকারী এই মন্তব্যকে অত্যন্ত লজ্জাজনক উল্লেখ করে লিখেছেন, 'ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এর জন্য কোনো প্রান্তিক বা উগ্র গোষ্ঠীরও প্রয়োজন হয় না; মূলধারার রাজনৈতিক নেতারাই এই কাজের জন্য যথেষ্ট, যার পরদিনই মুসলিমদের ওপর সহিংসতার পথ সুগম হয়।'