বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস
সর্বশেষ
কওমি মাদরাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি সভা বর্জন করল হাইআতুল উলয়া

কওমি মাদরাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি সভা বর্জন করল হাইআতুল উলয়া

কওমি মাদরাসা স্থাপনের সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন এবং হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের সরকারি উদ্যোগকে ২০১৮ সালের আইনের সাথে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শীর্ষ কওমি বোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। একই সাথে ৯ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক আহূত একটি বিশেষ জরুরি সভায় অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। কওমি ধারার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকারের এই জাতীয় উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়েছে।কওমি মাদরাসার নিজস্ব স্বকীয়তা, নেসাবে তা'লীম (পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি) এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সরকারি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন ও হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের সরকারি উদ্যোগকে ২০১৮ সালের আইনের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আল-হাইআতুল উলয়া।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব জনাব মোঃ রাহাত মান্নান স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে জানা যায়, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ০৯ জুলাই বিকাল ৩টায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মোঃ দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন, দেশের সকল হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য একটি কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠন এবং স্বল্প শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মমুখী শিক্ষার কার্যক্রম বাস্তবায়নের এজেন্ডা রাখা হয়েছে। উক্ত সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব ও এর অধীনস্থ ৬ বোর্ডের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের অনুরোধ করা হয়।এরই পরিপ্রেক্ষিতে, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আজ ০৮ জুলাই কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর একটি লিখিত পত্র (স্মারক নং: ৪৮.১.২৩) প্রেরণ করে উক্ত সভায় তাদের অপারগতার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। পত্রে বলা হয়, ০৭ জুলাই বিকেলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে এই সভা ডাকা হয়েছে, যা ঢাকার বাইরে অবস্থানরত হাইআতুল উলয়ার সদস্যগণের পক্ষে উপস্থিত হওয়া অসম্ভব। তাছাড়া, এ ধরনের নীতিগত সরকারি সভায় যোগদানের পূর্বে কওমি বোর্ডগুলোর কার্যনির্বাহী কমিটির নিজস্ব সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।সরকারি উদ্যোগ নিয়ে হাইআতুল উলয়ার সুনির্দিষ্ট ও কঠোর অবস্থান১. কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে: হাইআতুল উলয়া তাদের পত্রে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে, "আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আইন, ২০১৮" এর ধারা ২ (চ) অনুযায়ী কওমি মাদরাসার শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম এবং ভৌত অবকাঠামো নির্মাণসহ সার্বিক পরিচালনায় সব ধরনের সরকারি বা বহিরাগত প্রভাবমুক্ত থেকে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ৬টি বোর্ডের প্রতিটির নিজস্ব সুসংহত নীতিমালা রয়েছে। ইতোমধ্যে 'মহিলা মাদরাসা বিষয়ক নীতিমালা' ও 'সমন্বিত বিধি' চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ছাত্রদের মাদরাসা বিষয়ক সমন্বিত বিধিমালা প্রণয়নের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এমতাবস্থায় সরকার কর্তৃক নতুন কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করার চেষ্টা চলমান স্বকীয়তার ওপর স্পষ্ট হস্তক্ষেপ, যা কোনোভাবেই আইনসংগত নয়।২. হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক বোর্ড গঠন প্রসঙ্গে: দেশের প্রায় সকল হাফেজিয়া মাদরাসা ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের আইনের ৪ ধারা মোতাবেক আল-হাইআতুল উলয়ার অধীনস্থ ৬টি বোর্ডের যেকোনো একটির সাথে অধিভুক্ত রয়েছে। ফলে হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য নতুন করে পৃথক কোনো কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের চিন্তা সম্পূর্ণ অবান্তর, অগ্রহণযোগ্য এবং বিদ্যমান আইনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে এবং কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের জরুরি বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কওমি মাদরাসার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং ওলামায়ে কেরামের দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষার ফসল কওমি শিক্ষাধারাকে সুরক্ষিত রাখতে এই জাতীয় সকল বিতর্কিত উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।সংস্থাটির অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এই পত্রের অনুলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং মাননীয় ধর্মমন্ত্রীর মতামত ও কওমি ধারার দৃঢ় অবস্থান অবহিত করার জন্য তাঁদের সংশ্লিষ্ট মুখ্য সচিব ও একান্ত সচিবদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
৩৪ মিনিট আগে

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: মুফতী শুয়াইবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

ঈদের দিনেও বন্ধ শ্রীনগরের জামে মসজিদ, টানা সপ্তম বছর নামাজে নিষেধাজ্ঞা

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

গোপালগঞ্জ–২ আসনে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের প্রতি জেলার শীর্ষ ওলামায়েকেরামের সর্বসম্মত সমর্থন

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

জাপানে মুসলিমবিদ্বেষী অনলাইন প্রচারণার জেরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন: ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১৩ মুসলিম খুন

রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক

রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক

মিরপুরে ফার্মেসির সাইনবোর্ড নিয়ে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের অপপ্রচার; সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ

মিরপুরে ফার্মেসির সাইনবোর্ড নিয়ে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের অপপ্রচার; সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে হামলা, নিখোঁজ বিহারের মাদরাসা ছাত্র

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে হামলা, নিখোঁজ বিহারের মাদরাসা ছাত্র

কওমি মাদরাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি সভা বর্জন করল হাইআতুল উলয়া

কওমি মাদরাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি সভা বর্জন করল হাইআতুল উলয়া

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

যুক্তরাষ্ট্র দখল করছে মুসলমানরা — ইহুদিবাদী লবির দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ ও ‘ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টা’ বলল কেয়ার

যুক্তরাষ্ট্র দখল করছে মুসলমানরা — ইহুদিবাদী লবির দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ ও ‘ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টা’ বলল কেয়ার

রাজস্থানে সীমান্তে মুসলিম ও আদিবাসী বসতিতে বুলডোজার আতঙ্ক: মসজিদ-মাদ্রাসার পর ভাঙা হলো ভিটেমাটি

রাজস্থানে সীমান্তে মুসলিম ও আদিবাসী বসতিতে বুলডোজার আতঙ্ক: মসজিদ-মাদ্রাসার পর ভাঙা হলো ভিটেমাটি

কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও তথ্যসন্ত্রাস প্রতিহত করার ঘোষণা ইত্তেফাক শিক্ষা বোর্ডের

কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও তথ্যসন্ত্রাস প্রতিহত করার ঘোষণা ইত্তেফাক শিক্ষা বোর্ডের

আজ আমাদের অর্থের বৈভব বেড়েছে, কিন্তু হৃদয়টা বড় হয়নি: শৈশবের লজিং জীবনের স্মৃতিতে শায়খ আহমাদুল্লাহ

আজ আমাদের অর্থের বৈভব বেড়েছে, কিন্তু হৃদয়টা বড় হয়নি: শৈশবের লজিং জীবনের স্মৃতিতে শায়খ আহমাদুল্লাহ

ইসলামফোবিয়ার চূড়ান্ত পরিণতিই হলো গণহত্যা — ড. সালমান সাইয়্যিদ

ইসলামফোবিয়ার চূড়ান্ত পরিণতিই হলো গণহত্যা — ড. সালমান সাইয়্যিদ

রংপুরে কাদিয়ানী আগ্রাসন: ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ হুমকির মুখে মুসলিম পরিবার, ৭ বছর ধরে নির্যাতন

রংপুরে কাদিয়ানী আগ্রাসন: ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’ হুমকির মুখে মুসলিম পরিবার, ৭ বছর ধরে নির্যাতন

কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধস: শিশু ও নারীসহ ৯ জনের করুণ মৃত্যু, ঝুঁকিতে হাজারো রোহিঙ্গা

কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধস: শিশু ও নারীসহ ৯ জনের করুণ মৃত্যু, ঝুঁকিতে হাজারো রোহিঙ্গা

ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে সব হারানো মুসলিমদের শেষ আশ্রয়স্থল 'লা গুয়াইরা মসজিদ'

ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে সব হারানো মুসলিমদের শেষ আশ্রয়স্থল 'লা গুয়াইরা মসজিদ'

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় তীব্র বিতর্কের মধ্যে পাস হয়েছে ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী) সংরক্ষণ কাঠামো সংশোধনের দুটি বিল। সোমবার (২৯ জুন) পাস হওয়া এই বিল দুটির মাধ্যমে ২০১০ সালের আগের ওবিসি তালিকা পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের মোট ওবিসি সংরক্ষণ কোটা ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ডজন ডজন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, যার মধ্যে ৬৫টিই প্রান্তিক মুসলিম সম্প্রদায়।ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনগ্রসর ও বঞ্চিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর এক বড় আঘাত এসেছে। রাজ্য বিধানসভায় 'স্টেট ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস কমিশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' এবং 'ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬' নামে দুটি বিতর্কিত সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের ২০২৪ সালের একটি রায়কে কার্যকর করার অজুহাতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। নতুন এই আইনি কাঠামোর কারণে রাজ্যের ওবিসি তালিকা থেকে এক ধাক্কায় ৬টি মুসলিম সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তালিকাভুক্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা ৭৭ থেকে কমে মাত্র ১২-তে এসে দাঁড়িয়েছে।নতুন এই সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এখন ওবিসি ক্যাটাগরিতে মাত্র ৬৬টি জনগোষ্ঠী টিকে রইল। এর মধ্যে ৫৪টি হিন্দু সম্প্রদায় এবং মাত্র ১২টি মুসলিম সম্প্রদায়।ওবিসি তালিকার ইতিহাসপশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল মূলত মন্ডল কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। তৎকালীন জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার প্রাথমিকভাবে ৬৬টি সম্প্রদায়কে অনগ্রসর হিসেবে চিহ্নিত করে ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল। দীর্ঘ বছর ধরে এটাই ছিল রাজ্যের সংরক্ষণের মূল ভিত্তি।পরবর্তীতে ২০১০ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বামফ্রন্ট সরকার এই তালিকা ব্যাপক সম্প্রসারিত করে আরও ৪২টি নতুন সম্প্রদায়কে যুক্ত করে, যার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৮-এ। একই সাথে ওবিসি ক্যাটাগরিকে দুটি উপ-ভাগে ভাগ করা হয়— ওবিসি-এ (১০% সংরক্ষণ) এবং ওবিসি-বি (৭% সংরক্ষণ)। তৎকালীন সরকার সামাজিকভাবে অনগ্রসর মুসলিমদের জন্য সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা দেয়। সেই ১০৮টি সম্প্রদায়ের মধ্যে ৫৩টিই ছিল মুসলিম জনগোষ্ঠী।২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া জারি থাকে। ২০১২ সালে রাজ্য সরকার আরও ৩৫টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকারের যৌথ উদ্যোগে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিল ১১৩টি উপ-গোষ্ঠী, যার মধ্যে ৭৭টি ছিল মুসলিম এবং ৩৬টি ছিল হিন্দু সম্প্রদায়।যে রায়ের ভিত্তিতে এই বিপর্যয়উগ্র ডানপন্থী ও স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষ থেকে ওবিসি তালিকায় মুসলিমদের অন্তর্ভুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চালানো হচ্ছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট এক রায়ে ২০১০ এবং ২০১২ সালের সম্প্রসারণের সময় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৭৭টি সম্প্রদায়ের ওবিসি মর্যাদা বাতিল করে দেয়। আদালতের দাবি ছিল, এই সম্প্রদায়গুলোকে ওবিসি মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ও পদ্ধতিগত নিয়ম সঠিকভাবে মানা হয়নি।যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালত শুধু আইনি প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিগত ত্রুটিকেই সামনে এনেছে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়কে নয়; কিন্তু বাস্তবে এর মাশুল গুনতে হচ্ছে রাজ্যের বঞ্চিত মুসলিম সমাজকেই। আদালতের এই রায়ের ফলে ২০১০ সালের পর ইস্যু করা প্রায় ১২ লাখ ওবিসি শংসাপত্র (Certificate) সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। তবে যারা ইতিমধ্যে এই সংরক্ষণের আওতায় চাকরি পেয়েছেন, তাদের চাকরি সুরক্ষার কথা বলা হলেও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে পড়েছে।সংশোধনে যা কিছু পরিবর্তন হলোনতুন দুটি বিল পাসের মাধ্যমে রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১০ সালের আগের ৬৬টি সম্প্রদায়ের তালিকায় ফিরে গেছে। এর ফলে প্রান্তিক মুসলিমদের জন্য বরাদ্দকৃত ‘ওবিসি-এ’ ক্যাটাগরি এবং এর আওতাধীন ১০ শতাংশ কোটা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেল। ফলে রাজ্যের মোট ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমে ৭% হয়েছে।এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মোট সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছিল— তপশিলী জাতি (SC) ২২%, তপশিলী উপজাতি (ST) ৬%, ওবিসি-এ ১০%, ওবিসি-বি ৭% এবং প্রতিবন্ধী কোটা ৩%। ওবিসি-এ বাতিলের ফলে রাজ্যের সামগ্রিক চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সংরক্ষণের পরিধি ১০ শতাংশ কমে গেল।যে ১২টি মুসলিম সম্প্রদায় টিকে রইলসংশোধিত তালিকায় যে ১২টি মুসলিম সম্প্রদায় ওবিসি মর্যাদা ধরে রাখতে পেরেছে, তারা ২০১০ সালের অনেক আগে থেকেই তালিকায় ছিল এবং তারা কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকারও অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে রয়েছে জোলা বা জুলাহা (তাঁতি), ফকির বা সাঁই (সুফি ঐতিহ্যবাহী), রাইন বা কুঞ্জরা (সবজি বিক্রেতা), নাই বা হাজ্জাম (নাপিত), ধুনিয়া বা মনসুরি (তুলা ও লেপ-তোশক কর্মী), কসাই বা কুরেশি (মাংস ব্যবসায়ী), শাহ বা শাহজি, শেরশাবাদিয়া, চডুলি মুসলিম, পাহাড়িয়া মুসলিম এবং ওস্তাগর।অধিকার বঞ্চিত ৬৫টি মুসলিম সম্প্রদায়তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬৫টি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যতম হলো— হালদার, মুসলিম সানপুই, মুসলিম মালি, ঘোষী (মুসলিম), মুসলিম দর্জি, ইদ্রিসী, মুসলিম রাজমিস্ত্রি, মুসলিম বাতিয়ারা, মুসলিম মোল্লা এবং ঢালী (মুসলিম)। উল্লেখ্য, এই সম্প্রদায়গুলোর অনেকে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে এখনও ওবিসি হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি ও সুবিধা পাচ্ছে, অথচ পশ্চিমবঙ্গে তাদের বঞ্চিত করা হলো।বঞ্চিত সম্প্রদায়ের ক্ষোভ ও উদ্বেগঅনগ্রসর মুসলিমদের এই অধিকার হরণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একটি অনগ্রসর মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধি অত্যন্ত হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, "এই সম্প্রদায়গুলোর হাজার হাজার দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রার্থীরা এই সংরক্ষণের ওপর ভরসা করে বুক বেঁধেছিল। এই সিদ্ধান্তের পর তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত।"মুর্শিদাবাদের এক বিশিষ্ট মুসলিম সমাজসেবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "খাতার কলমে আমাদের ওবিসি স্ট্যাটাস কেড়ে নিলেই কি আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা রাতারাতি দূর হয়ে যাবে? বহু মানুষ মনে করছেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।" মুসলিম মানবাধিকার কর্মীরা দাবি তুলেছেন, সুবিধা বাতিলের আগে এই জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত অবস্থা মূল্যায়নের জন্য অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও নতুন সমীক্ষা চালানো হোক।

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি কোটা ১৭% থেকে কমিয়ে ৭%: ৬৫টি মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের বিল পাস