বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

মসজিদ মালাবারে ইফতার আয়োজনে সহযোগিতার লক্ষ্যে জমানো ১০ হাজার ডলার হস্তান্তর

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির উদ্যোগে মসজিদের ইফতার তহবিলে ১০ হাজার ডলার অনুদান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির উদ্যোগে মসজিদের ইফতার তহবিলে ১০ হাজার ডলার অনুদান

প্রবাসের মাটিতে সম্প্রীতি ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী ১০ বাংলাদেশি। দীর্ঘ এক বছর ধরে বিন্দু বিন্দু সঞ্চয়ে জমানো ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় ১২ লক্ষ টাকা) তারা তুলে দিয়েছেন ঐতিহাসিক মসজিদ মালাবারের ইফতার তহবিলে। স্থানীয় আতিথেয়তা ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের এই মহতী উদ্যোগ এখন প্রবাসীদের মুখে মুখে।

সিঙ্গাপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ মালাবার। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই মসজিদটি হয়ে উঠেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা। সেই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে ১০ জন বাংলাদেশি মিলে গঠন করেছেন একটি বিশেষ তহবিল। ২০২৫ সালের শুরু থেকে প্রতিদিনের সঞ্চয় থেকে তারা সংগ্রহ করেছেন ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার, যা আসন্ন রমজানে ইফতারি বিতরণের কাজে ব্যয় করা হবে।

এই মহতী উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী রেজাউল করিম (৪০)। ২০০১ সালে নির্মাণ ব্যবসা (এএজি কনস্ট্রাকশন) শুরু করতে সিঙ্গাপুরে আসেন তিনি। রেজাউল করিম জানান, প্রবাস জীবনে মসজিদ মালাবার তাকে দিয়েছে আপন ঘরের অনুভূতি। তিনি বলেন, “মসজিদ মালাবারে আমরা যে আতিথেয়তা পাই, তা আমাকে নিজের গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই ক্ষুদ্র অনুদান আমাদের পক্ষ থেকে মসজিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রচেষ্টা মাত্র।”

মসজিদ মালাবারের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম কে জামিল জানান, এই মসজিদের মুসল্লিদের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই বাংলাদেশি। এর মধ্যে যেমন সফল ব্যবসায়ী রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন সাধারণ রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও। বাংলাদেশি এই ১০ জন কেবল অর্থ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তারা রমজান জুড়ে ইফতার বিতরণে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেন।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মসজিদ মালাবারে প্রতিদিন গড়ে ৯০০ থেকে ১,২০০ মুসল্লি ইফতার করেন। ইফতার মেন্যুতে থাকে ঐতিহ্যবাহী বুন্দিয়া, বিরিয়ানি, চিকেন রাইস, খাসির মাংস, ফল ও খেজুর। ২০২৬ সালের রমজানে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশিদের দেওয়া এই ১০ হাজার ডলার মূলত এই বিশাল কর্মযজ্ঞেরই একটি বড় অংশ ভাগ করে নেবে।

রেজাউল করিমের মতে, বাংলাদেশে যেভাবে মানুষ একে অপরের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে, সিঙ্গাপুরের এই মসজিদেও তারা সেই একই সংস্কৃতি খুঁজে পান। রমজানে শত শত মানুষের মাঝে খাবার বিলানো এবং শৃঙ্খলার সাথে কাজ করার মাধ্যমে তারা মূলত দুই দেশের ভ্রাতৃত্বকেই উদযাপন করছেন।

বিষয় : প্রবাসী সিঙ্গাপুর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশির উদ্যোগে মসজিদের ইফতার তহবিলে ১০ হাজার ডলার অনুদান

প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

প্রবাসের মাটিতে সম্প্রীতি ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী ১০ বাংলাদেশি। দীর্ঘ এক বছর ধরে বিন্দু বিন্দু সঞ্চয়ে জমানো ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় ১২ লক্ষ টাকা) তারা তুলে দিয়েছেন ঐতিহাসিক মসজিদ মালাবারের ইফতার তহবিলে। স্থানীয় আতিথেয়তা ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের এই মহতী উদ্যোগ এখন প্রবাসীদের মুখে মুখে।

সিঙ্গাপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ মালাবার। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই মসজিদটি হয়ে উঠেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা। সেই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে ১০ জন বাংলাদেশি মিলে গঠন করেছেন একটি বিশেষ তহবিল। ২০২৫ সালের শুরু থেকে প্রতিদিনের সঞ্চয় থেকে তারা সংগ্রহ করেছেন ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার, যা আসন্ন রমজানে ইফতারি বিতরণের কাজে ব্যয় করা হবে।

এই মহতী উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী রেজাউল করিম (৪০)। ২০০১ সালে নির্মাণ ব্যবসা (এএজি কনস্ট্রাকশন) শুরু করতে সিঙ্গাপুরে আসেন তিনি। রেজাউল করিম জানান, প্রবাস জীবনে মসজিদ মালাবার তাকে দিয়েছে আপন ঘরের অনুভূতি। তিনি বলেন, “মসজিদ মালাবারে আমরা যে আতিথেয়তা পাই, তা আমাকে নিজের গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই ক্ষুদ্র অনুদান আমাদের পক্ষ থেকে মসজিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রচেষ্টা মাত্র।”

মসজিদ মালাবারের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম কে জামিল জানান, এই মসজিদের মুসল্লিদের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই বাংলাদেশি। এর মধ্যে যেমন সফল ব্যবসায়ী রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন সাধারণ রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও। বাংলাদেশি এই ১০ জন কেবল অর্থ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তারা রমজান জুড়ে ইফতার বিতরণে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেন।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মসজিদ মালাবারে প্রতিদিন গড়ে ৯০০ থেকে ১,২০০ মুসল্লি ইফতার করেন। ইফতার মেন্যুতে থাকে ঐতিহ্যবাহী বুন্দিয়া, বিরিয়ানি, চিকেন রাইস, খাসির মাংস, ফল ও খেজুর। ২০২৬ সালের রমজানে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশিদের দেওয়া এই ১০ হাজার ডলার মূলত এই বিশাল কর্মযজ্ঞেরই একটি বড় অংশ ভাগ করে নেবে।

রেজাউল করিমের মতে, বাংলাদেশে যেভাবে মানুষ একে অপরের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে, সিঙ্গাপুরের এই মসজিদেও তারা সেই একই সংস্কৃতি খুঁজে পান। রমজানে শত শত মানুষের মাঝে খাবার বিলানো এবং শৃঙ্খলার সাথে কাজ করার মাধ্যমে তারা মূলত দুই দেশের ভ্রাতৃত্বকেই উদযাপন করছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত