বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসলামভীতি

বৈধ নাগরিকত্ব সত্ত্বেও ভারতীয় মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশব্যাক

ভারতের মুম্বাইয়ে বৈধ নাগরিকত্বের যাবতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও শাহীদা ফকির (৪০) নামে এক মুসলিম নারীকে বেআইনিভাবে ৯০ ঘণ্টারও বেশি আটকে রেখে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছে মুম্বাই পুলিশ। কোনো পূর্ব নোটিশ, তদন্ত বা আদালতের নির্দেশ ছাড়াই কেবল বাংলাভাষী হওয়ার কারণে তাকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সাতক্ষীরার একটি পরিবারে আশ্রয় নিয়ে আছেন।ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম এবং বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীকে নিশানা বানিয়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরেকটি নজির স্থাপন করল দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মুম্বাই পুলিশ ৪০ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক শাহীদা ফকিরকে কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে নিজ বাসার কাছের বাজারে ১০ বছরের সন্তানের জন্য খাবার কিনতে বের হলে শাহীদাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। দীর্ঘ ৯০ ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়। শাহীদার স্বামী জুমন ফকির খবর পেয়ে দ্রুত থানায় ছুটে যান। সেখানে জুমন জানতে পারেন, পুলিশ শাহীদাকে জোরপূর্বক এমন একটি ভবনে আটকে রেখেছে যেখানে তথাকথিত "অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের" রাখা হয়। জুমন অভিযোগ করেন, শাহীদার কেনা খাবার, মোবাইল ফোন এবং আধার কার্ড পুলিশ তখনই কেড়ে নেয়। কেবল বাংলাভাষী হওয়ার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয় বলে জানান তিনি।পরবর্তী দিনগুলোতে জুমন ফকির শাহীদার জন্ম সনদ, জমিজমার দলিল, বিদ্যালয়ের সনদ, ভোটার আইডি কার্ড এবং আধার কার্ডসহ যাবতীয় বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন। তবে মুম্বাই পুলিশ এসবের কোনো গুরুত্ব না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে এবং শাহীদার বাবা-মায়ের জন্ম সনদ দাবি করে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে আসা বাবা-মায়ের সেই আমলে কোনো জন্ম সনদ ছিল না বলে জানান জুমন।অবশেষে ২৩ জুলাই জুমনকে জানানো হয়, শাহীদাকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো বিচার বিভাগীয় আদেশ বা তদন্ত ছাড়াই এই বেআইনি পুশব্যাক সম্পন্ন করা হয়। দিনকয়েক পর শাহীদা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সোনাবাড়িয়া এলাকার একটি পরিবার থেকে স্বামীর কাছে ফোন করে জানান, তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।এদিকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবিন্দপুর গ্রামের অধিবাসীরা, যা শাহীদার পৈতৃক ভিটা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে শাহীদাকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে গণস্বাক্ষরিত চিঠি পাঠিয়েছেন। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, শাহীদার পিতামহ বাদশাহ গাজী এবং পিতা আমিনুদ্দিন গাজী প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৮৮ সালে জন্ম নেওয়া শাহীদা এ গ্রামেই বড় হয়েছেন ও বিয়ে করেছেন। জীবিকার সন্ধানে তিনি ও তার স্বামী মুম্বাই পাড়ি জমিয়েছিলেন।বর্তমানে সাতক্ষীরার যে পরিবারটি শাহীদাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে, তারা চরম প্রশাসনিক চাপে পড়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশ প্রতিনিয়ত তাদের বাড়ি নজরদারিতে রেখেছে। স্থানীয় উপায়ে নদী পার হয়ে শাহীদাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও স্বামী জুমন ফকির স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি আইনি পথেই লড়বেন। মুম্বাই পুলিশ যেভাবে অবৈধভাবে একজন ভারতীয় নাগরিককে অন্য দেশে ঠেলে দিয়েছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই এখন তার লক্ষ্য।

বৈধ নাগরিকত্ব সত্ত্বেও ভারতীয় মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশব্যাক