রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসলামভীতি

ভারতে 'জয় শ্রী রাম' বলতে অস্বীকার করায় ১২ বছরের শিশু ও তার চাচার ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের বড়ি কালী মন্দির চক এলাকায় 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিতে অস্বীকার করায় ১২ বছর বয়সী এক মুসলিম শিশু ও তার চাচাকে নির্মমভাবে প্রহার করেছে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা। শিশুটির নাম আবদুল্লাহ এবং তার চাচার নাম মো. সুফিয়ান। এই ঘটনার জেরে ২৫০ থেকে ৩০০ জনের একটি সহিংস মব তাদের বাড়ি এবং সংলগ্ন একটি ঐতিহাসিক মসজিদে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে অবরুদ্ধ করে রাখে।ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর বাড়তে থাকা সামাজিক ও শারীরিক নির্যাতনের এক নতুন ও উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। গত ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ১২ বছর বয়সী শিশু আবদুল্লাহ জানায়, চক এলাকার একটি 'জাগরণ' (হিন্দু ধর্মীয় রজনী) অনুষ্ঠান চলার সময় কয়েকজন যুবক তাকে সিগারেট এনে দিতে বলে। আবদুল্লাহ তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, যুবকরা তাকে জোরপূর্বক 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।শিশু আবদুল্লাহ আবারও এতে অস্বীকৃতি জানালে, ঘটনাস্থলে থাকা এক যুবক তাকে সজোড়ে চড় মারে। দেখতে দেখতে সেখানে একটি হিংস্র জনতা জড়ো হয়ে যায় এবং তাদের মধ্য থেকে একজন আবদুল্লাহর মাথায় লোহার কড়া দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে সে গুরুতর আহত হয়।[TECHTARANGA-POST:8274]বাড়ি ও মসজিদে হামলাপ্রাণ বাঁচাতে শিশুটি সেখান থেকে দৌড়ে বাড়ি ফিরে এলে, জাগরণে আসা প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি উত্তেজিত জনতা তাকে ধাওয়া করে তার বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়। তারা পরিবারটির ঘরবাড়ি এবং পাশেই অবস্থিত একটি মসজিদে ব্যাপক পাথর নিক্ষেপ শুরু করে।শিশুটির বাবা মো. এরফান জানান, পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে তারা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন। অনবরত পাথর বর্ষণ হতে থাকলে তারা ছাদে উঠে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি শান্ত হলে মবটি সেখান থেকে কেটে পড়ে।[TECHTARANGA-POST:8258]রক্তাক্ত চাচা ও স্থানীয় উত্তেজনাএকই ঘটনায় আবদুল্লাহর চাচা ৩৩ বছর বয়সী মো. সুফিয়ানও হামলায় মারাত্মক আহত হন। বাড়ি ফেরার পথে জনতা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। সুফিয়ান জানান, উগ্র জনতার হামলায় তার মাথা ফেটে যায় এবং চিকিৎসকরা সেখানে ৮টি সেলাই দিয়েছেন। হামলায় তার পুরো টি-শার্ট রক্তে ভেসে যায়।ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, ওই এলাকায় তারাই একমাত্র মুসলিম পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে তারা স্থানীয় হিন্দু প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন।[TECHTARANGA-POST:8177]মসজিদ কেন্দ্রিক পুরোনো বিরোধ ও হুমকিপরিবারটির অভিযোগ, কেবল স্লোগান দেওয়াই শেষ কথা নয়; একটি গোষ্ঠী বেশ কিছুদিন ধরে তাদের বাড়ির পাশের মসজিদটি দখল করার উদ্দেশ্যে হয়রানি করে আসছিল। বহিরাগত কিছু উগ্রবাদী দাবি করে আসছে যে ১৯২০ সালে নির্মিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নাকি কোনো মন্দিরের জমির ওপর তৈরি। পরিবারটি প্রজন্ম ধরে এই মসজিদ পরিচালনা করে আসছে। তারা এই অবৈধ দাবির প্রতিবাদ করায় বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ি খালি করা ও এলাকা ছাড়ার নানা হুমকি পাচ্ছিল।এই ঘটনায় আহত সুফিয়ান আশিষ, বিকাশ, আনশু, মোহিত, আনন্দ ও উমং নামের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেন। লখনউ পুলিশ আনশু, বিকাশ, আশিষ, আনন্দ ও মোহিতসহ ২০০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করেছে।

ভারতে 'জয় শ্রী রাম' বলতে অস্বীকার করায় ১২ বছরের শিশু ও তার চাচার ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা