বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

মদিনার বালুকাময় প্রাঙ্গণ থেকে বিশ্বব্যাপী ইলমের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক মহিরুহের বিদায়

মসজিদে নববীর কিংবদন্তি কুরআন শিক্ষক শায়খ আবদুল্লাহ হাজি আর নেই


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মসজিদে নববীর কিংবদন্তি কুরআন শিক্ষক শায়খ আবদুল্লাহ হাজি আর নেই

পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পবিত্র কুরআনের তিলওয়াত ও দশ কেরাতের (ক্বিরাত আশারাহ) পাঠদানকারী প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মদিনার ইলমি অঙ্গনের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রয়াণে সৌদি আরবের আলেম সমাজ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিভৃতচারী এই সাধক শিক্ষকের প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির শিক্ষকতা জীবন ছিল ধৈর্য ও নিষ্ঠার এক জীবন্ত ইতিহাস। তিনি এমন এক সময়ে মসজিদে নববীতে দরস (পাঠদান) শুরু করেছিলেন, যখন আজকের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেই সময় মসজিদে নববীর মেঝেতে কোনো কার্পেট ছিল না; ছিল কেবল তপ্ত কাঁকর বিছানো প্রাঙ্গণ। সেই প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য জ্ঞান বিতরণের কাজ থামাননি।

মরহুম শায়খের জীবন ছিল শৃঙ্খলার মূর্ত প্রতীক। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা জীবনে তিনি কোনো সাধারণ কারণে পাঠদান থেকে বিরত থাকেননি। তাঁর জীবনের একটি ঘটনা মদিনার আলিমদের মাঝে আজও নিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়:

একবার শায়খের আপন বোনের ইন্তেকাল হলে তিনি কেবল জানাজা ও দাফনের জন্য সামান্য সময় বিরতি নিয়েছিলেন। দাফন সম্পন্ন করেই তিনি শোকাতুর হৃদয়ে পুনরায় মসজিদে নববীতে ফিরে আসেন এবং পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ছাত্রদের পাঠদান শুরু করেন। কুরআনের প্রতি এমন একনিষ্ঠতা সমকালীন ইতিহাসে বিরল।

দীর্ঘ ৫০ বছরে শায়খ আবদুল্লাহ হাজির কাছে সরাসরি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন কয়েক প্রজন্মের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাঁর ছাত্ররা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হাফেজ, ক্বারি, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং শিক্ষক হিসেবে দ্বীনের সেবা করে যাচ্ছেন। তিলাওয়াতের বিশুদ্ধতা এবং দশ কেরাতের ওপর তাঁর পাণ্ডিত্য তাঁকে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

মরহুমের জানাজার নামাজ মসজিদে নববীতে সম্পন্ন হয়, যেখানে সৌদি আরবের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, রাজপরিবারের সদস্য এবং সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজা শেষে তাঁকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির মৃত্যু কেবল একজন শিক্ষকের প্রয়াণ নয়, বরং এটি মদিনার ঐতিহ্যবাহী কুরআন শিক্ষা ব্যবস্থার একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর রেখে যাওয়া ইলমি উত্তরাধিকার যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।

বিষয় : স্মরণ মসজিদে নববী মদিনা কুরআন শিক্ষা ইসলামি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


মসজিদে নববীর কিংবদন্তি কুরআন শিক্ষক শায়খ আবদুল্লাহ হাজি আর নেই

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পবিত্র কুরআনের তিলওয়াত ও দশ কেরাতের (ক্বিরাত আশারাহ) পাঠদানকারী প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মদিনার ইলমি অঙ্গনের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রয়াণে সৌদি আরবের আলেম সমাজ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিভৃতচারী এই সাধক শিক্ষকের প্রয়াণকে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির শিক্ষকতা জীবন ছিল ধৈর্য ও নিষ্ঠার এক জীবন্ত ইতিহাস। তিনি এমন এক সময়ে মসজিদে নববীতে দরস (পাঠদান) শুরু করেছিলেন, যখন আজকের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেই সময় মসজিদে নববীর মেঝেতে কোনো কার্পেট ছিল না; ছিল কেবল তপ্ত কাঁকর বিছানো প্রাঙ্গণ। সেই প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য জ্ঞান বিতরণের কাজ থামাননি।

মরহুম শায়খের জীবন ছিল শৃঙ্খলার মূর্ত প্রতীক। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা জীবনে তিনি কোনো সাধারণ কারণে পাঠদান থেকে বিরত থাকেননি। তাঁর জীবনের একটি ঘটনা মদিনার আলিমদের মাঝে আজও নিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়:

একবার শায়খের আপন বোনের ইন্তেকাল হলে তিনি কেবল জানাজা ও দাফনের জন্য সামান্য সময় বিরতি নিয়েছিলেন। দাফন সম্পন্ন করেই তিনি শোকাতুর হৃদয়ে পুনরায় মসজিদে নববীতে ফিরে আসেন এবং পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ছাত্রদের পাঠদান শুরু করেন। কুরআনের প্রতি এমন একনিষ্ঠতা সমকালীন ইতিহাসে বিরল।

দীর্ঘ ৫০ বছরে শায়খ আবদুল্লাহ হাজির কাছে সরাসরি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন কয়েক প্রজন্মের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাঁর ছাত্ররা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হাফেজ, ক্বারি, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং শিক্ষক হিসেবে দ্বীনের সেবা করে যাচ্ছেন। তিলাওয়াতের বিশুদ্ধতা এবং দশ কেরাতের ওপর তাঁর পাণ্ডিত্য তাঁকে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

মরহুমের জানাজার নামাজ মসজিদে নববীতে সম্পন্ন হয়, যেখানে সৌদি আরবের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, রাজপরিবারের সদস্য এবং সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজা শেষে তাঁকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির মৃত্যু কেবল একজন শিক্ষকের প্রয়াণ নয়, বরং এটি মদিনার ঐতিহ্যবাহী কুরআন শিক্ষা ব্যবস্থার একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর রেখে যাওয়া ইলমি উত্তরাধিকার যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত