অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরিসনের ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য: মুসলিম সমাজে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ইসলাম ও মুসলিম সমাজকে নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্য দেশজুড়ে নতুন করে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামভীতি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মরিসনের প্রস্তাবিত ‘ধর্মীয় সংস্কার’ এবং মসজিদগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবিকে মুসলিম সংগঠনগুলো ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছে।গত ২৭ জানুয়ারি পশ্চিম জেরুজালেমের গিভাট রাম এলাকায় আয়োজিত 'আন্তর্জাতিক ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী সম্মেলনে' বক্তব্য দেওয়ার সময় স্কট মরিসন অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামের চর্চা ও পরিচালনার পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ার মসজিদগুলোতে দেওয়া খুতবা বা ধর্মীয় বয়ানগুলো অবশ্যই ইংরেজিতে অনুবাদ করতে হবে এবং ধর্মীয় নেতাদের বিদেশের কোনো ‘ইসলামি গোষ্ঠীর’ সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।মরিসন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তার এই মন্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ‘শত্রুতামূলক’ মনে হতে পারে, কিন্তু তিনি একে "নেকড়েকে দূরে রেখে পাল রক্ষা করার" প্রচেষ্টা বলে সাফাই দেন। তিনি গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সিডনির বোন্ডি সৈকতে ঘটে যাওয়া সশস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে হলে অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামের প্রয়োগ ও পরিচালনার বিষয়টি নির্ভীকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার এই বক্তব্য ওই হামলার সাথে ইসলামকে পরোক্ষভাবে যুক্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।পরদিন, ২৮ জানুয়ারি 'দ্য অস্ট্রেলিয়ান' পত্রিকায় এক নিবন্ধে মরিসন ইমামদের জন্য জাতীয় নিবন্ধন প্রথা, বাধ্যতামূলক স্বীকৃতি এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ তদারকি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।মরিসনের এই বক্তব্যের পর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সমাজ ও শীর্ষ সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইসলামিক কাউন্সিলস অফ অস্ট্রেলিয়া’ (AFIC) এই বক্তব্যকে ‘বেপরোয়া, চরম আপত্তিকর এবং বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি জানায়, ইমামদের নিবন্ধনের দাবি সরাসরি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের চোখে সমানাধিকারের পরিপন্থী।অন্যদিকে, ‘অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল’ (ANIC) মরিসনের বক্তব্যকে ‘অদায়িত্বশীল এবং চরম অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছে। তারা রাজনৈতিক নেতাদের ‘র্যাডিক্যাল ইসলাম’ বা ‘চরমপন্থী ইসলাম’-এর মতো বিভাজনমূলক শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।মরিসনের নিজ দেশের সরকারের মধ্যেও তার এই মন্তব্য সমালোচিত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট কনরয় এবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "পুরো মুসলিম সমাজকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য দায়ী করার চেষ্টা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মরিসনের এই অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।