শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইসরায়েলে ইরানের দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ফের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের অভ্যন্তর থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে পূর্ণ শক্তিতে সক্রিয় রয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি ও ইসরায়েলের সতর্কতা মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই ইসরায়েলের আকাশজুড়ে সাইরেনের শব্দ শোনা যায়। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে। তেল আবিব এবং জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে বা বাঙ্কারে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং ‘অ্যারো’ সিস্টেম সক্রিয়ভাবে অনেকগুলো লক্ষ্যবস্তুকে আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।ইরানের অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় ভাষ্য ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, "অধিকৃত অঞ্চলের" (ইসরায়েল) সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল কর্তৃক হিজবুল্লাহ এবং হামাস নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল যদি পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে পরবর্তী হামলা হবে আরও "বিধ্বংসী"।আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের স্থল অভিযান এবং আকাশপথে হামলার ফলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পথ প্রশস্ত হয়। ইরান এতদিন সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে চললেও, আজকের এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তেহরান এখন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে প্রস্তুত।আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ এই হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনো আইডিএফ কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রদান করেনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েল কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইসরায়েলে ইরানের দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা