ইউটিউব ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শত শত ভিডিও মুছে দিয়েছে
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট-এর এক প্রতিবেদন জানায়, ইউটিউব সম্প্রতি গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘন তুলে ধরা শত শত ভিডিও মুছে ফেলেছে। এ পদক্ষেপে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, এটি “ডিজিটাল ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে এক বড় আঘাত।”তদন্তে দেখা গেছে, অক্টোবর থেকে ইউটিউব ফিলিস্তিনিদের তৈরি অন্তত ৭০০টি ভিডিও ও একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের চ্যানেল মুছে ফেলেছে। এসব ভিডিওতে ছিল—গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বেঁচে যাওয়া মায়েদের সাক্ষাৎকার, সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান, পশ্চিম তীরে বাড়িঘর ধ্বংসের দৃশ্যসহ নানান প্রমাণনির্ভর তথ্য।প্ল্যাটফর্মটি শুধু ভিডিও সরায়নি, বরং ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা আল-হক, আল-মিজান হিউম্যান রাইটস সেন্টার, ও প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (PCHR)-এর ইউটিউব অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দিয়েছে। এই সংগঠনগুলোর চ্যানেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটেজ ছিল, যেখানে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যেত।ইউটিউবের মুখপাত্র বুচ বুলউইঙ্কল বলেন, “গুগল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা আইন মেনে চলে।” কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ—এই আইনকে অজুহাত করে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।ওয়েস্ট ব্যাংকভিত্তিক আল-হক সংস্থা জানায়, তাদের কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হয়। তারা একে “মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বিপর্যয়” হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটির মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহার করা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের জবাবদিহির প্রচেষ্টা থামাতে।গাজাভিত্তিক প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (PCHR) বলেছে, ইউটিউবের এই পদক্ষেপ “অপরাধীদের জবাবদিহি থেকে রক্ষা করছে।” সংস্থার আইন উপদেষ্টা বেসেল আল-সুরানি বলেন, “আমাদের সব প্রতিবেদন বাস্তব তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবু ইউটিউব ‘কমিউনিটি গাইডলাইন’-এর অজুহাতে আমাদের চ্যানেল বন্ধ করেছে।”মানবাধিকার কর্মীরা একে “স্পষ্ট সেন্সরশিপ” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। Democracy for the Arab World Now (DAWN)-এর পরিচালক সারাহ লিয়া হুইটসন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের তথ্যপ্রবাহের ওপর সরাসরি আঘাত।”নিউইয়র্কের Center for Constitutional Rights-এর আইনজীবী ক্যাথরিন গ্যালাগার ঘটনাটিকে “স্ক্যান্ডাল” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, “ইউটিউবের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতিধ্বনি, যা যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ আড়াল করতে সহায়ক।”