বই পড়লে মুক্তির পথে এক ধাপ এগোবে বন্দিরা: উজবেকিস্তানের নতুন মানবিক উদ্যোগ
উজবেকিস্তান কারাব্যবস্থায় শিক্ষা ও নৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির সরকার বইপড়াকে শাস্তি সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করে কারাবন্দিদের পুনর্বাসনের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এই উদ্যোগকে মানবিক ও প্রগতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে।উজবেকিস্তানে কারাবন্দিদের শাস্তির মেয়াদ কমানোর ক্ষেত্রে বই পড়াকে সরাসরি প্রণোদনা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিওয়েভ দণ্ডবিধিতে (Criminal Code) কয়েকটি সংশোধনী এনে একটি নতুন অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার আওতায় কারাগারে থাকা বন্দিরা যে প্রতিটি বই পড়বে, তার জন্য তাদের সাজা তিন দিন করে কমানো যাবে।সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য কারাগারের ভেতরে শৃঙ্খলা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দিদের নৈতিক ও মানসিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তবে এটি শর্তসাপেক্ষ। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, বন্দিদের অবশ্যই এমন বই পড়তে হবে যেগুলো “আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধ” গঠনে সহায়ক। শুধু পড়লেই হবে না—প্রতি বছর অন্তত দুইবার এসব বইয়ের ওপর আনুষ্ঠানিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে যাচাইভিত্তিক। কারাগারের ভেতরে গঠিত একটি বিশেষ কমিশন বন্দি প্রকৃতপক্ষে বই পড়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করবে। কমিশন সন্তুষ্ট হলে কারা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বন্দির সাজা হ্রাসের জন্য আদালতে সুপারিশ পাঠাবে। এরপর আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।তবে এই সুবিধার একটি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো বন্দির সাজা বছরে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের বেশি কমানো যাবে না—অর্থাৎ, বছরে সর্বোচ্চ ১০টি বইয়ের সমপরিমাণ সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি বন্দিরাও ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম হলো—যারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত, তারা এই সুবিধার আওতায় পড়বে না। সরকার বলছে, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য নয়।মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বললেও কেউ কেউ বলছেন, “নৈতিক বই” নির্ধারণের মানদণ্ড কী হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে—তা নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই ব্যবস্থা পক্ষপাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।সামগ্রিকভাবে, উজবেকিস্তানের এই উদ্যোগ শাস্তি ব্যবস্থাকে কেবল দমনমূলক না রেখে পুনর্বাসনমুখী করার একটি নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।