ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের চেতনা অপরাজেয়: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, চরম দমন-পীড়ন, ধ্বংস ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের প্রতিরোধ ও পুনর্জাগরণের চেতনাকে অক্ষুণ্ন রেখেছে। ইস্তাম্বুলে এক সাংস্কৃতিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হাজারো মানুষের প্রতি গভীর শোক ও সংহতি প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি গভীর সংহতি জানিয়ে বলেছেন, “সব ধরনের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও ফিলিস্তিনি জনগণ প্রতিরোধ ও জাগরণের চেতনাকে ধরে রেখেছে।”শুক্রবার ইস্তাম্বুল শহরে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন। এরদোগান বলেন, প্রবল শীত, সীমিত সম্পদ ও অবরোধের মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা জীবনের সঙ্গে আঁকড়ে ধরে আছে।তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের স্মরণ করে বলেন, “গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শহীদ হওয়া ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাঁদের জান্নাতবাসী করেন।”এরদোগান বিশেষভাবে গাজায় শিশু ও নারীদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৃষ্টি, কাদা ও তীব্র শীতের মধ্যে তাঁবুতে বসবাস করতে বাধ্য হওয়া শিশু ও মায়েরা ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য তুরস্ক প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বা অস্থায়ী ঘর পাঠাতে চায় এবং এই উদ্যোগে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এসব মানবিক প্রস্তাবের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন।এরদোগান বলেন, “নিজেকে ফেরাউন মনে করা নেতানিয়াহু এসব বিষয়ে একেবারেই আগ্রহী নন এবং এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।”কোরআনের সূরা আলে ইমরানের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘তারা ষড়যন্ত্র করেছে, আর আল্লাহও কৌশল করেছেন; আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী।’ এরদোগান বলেন, এই অবিচারেরও একদিন সময় ও পরিণতি আসবে, ইনশাআল্লাহ।এর আগে একই দিনে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে শহীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪০৯ জন, এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৩০৪ জন।২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে শুরু হওয়া এই অভিযানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার পুনর্গঠনে আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। টানা দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ গাজাকে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।