শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

পূজায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতির জেরে ত্রিপুরায় মসজিদ ও মুসলিম বসতিতে অগ্নিসংযোগ

ভারতের ত্রিপুরার উনকোটি জেলার কুমারঘাটে আসন্ন মেলা উপলক্ষে পূজার চাঁদা দেওয়া নিয়ে তর্কের জেরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এক মুসলিম ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা চালানোর পর উন্মত্ত জনতা একটি মসজিদ, বেশ কিছু ঘরবাড়ি এবং দোকানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।ত্রিপুরার উনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার সায়দরপাড়া শিমুলতলা এলাকায় শনিবার এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ‘ভৈরব মেলা’র জন্য পূজা কমিটির সদস্যরা মোসাব্বির আলী নামে এক মুসলিম ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। মোসাব্বির আলী ওই পরিমাণ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, যা দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।এর পরপরই একটি উত্তেজিত গোষ্ঠী সংগঠিত হয়ে ওই এলাকার মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, উন্মত্ত জনতা একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মুসলিম মালিকানাধীন অন্তত ডজনখানেক ঘরবাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। রাস্তায় থাকা বেশ কিছু যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন।সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা প্রশাসন কুমারঘাট মহকুমায় 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩'-এর ১৬৩ ধারা (১৪৪ ধারা) জারি করেছে। উনকোটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. তমাল মজুমদার এবং পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, "পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।"এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (TSR) এবং সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া কোনো ধরনের গুজব না ছড়ানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন অভিযোগ করেন যে, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সম্পত্তিতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মসজিদ এবং ঘরবাড়ি কেন লক্ষ্যবস্তু করা হলো? আমরা কি সমান নাগরিক নই?"এদিকে স্থানীয় বিধায়ক ও মন্ত্রী সুধাংশু দাস এই ঘটনাকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর ফ্ল্যাগ মার্চের ফলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

পূজায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতির জেরে ত্রিপুরায় মসজিদ ও মুসলিম বসতিতে অগ্নিসংযোগ