ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন ও পেনশনের আদলে এককালীন সহায়তার নির্দেশনা
দেশের মসজিদগুলোর ব্যবস্থাপনা ও ধর্মীয় সেবকদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলেম-ওলামাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত এই নীতিমালায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০০৬ সালের পুরনো নীতিমালা বাতিল করে জারিকৃত এই নতুন বিধান দেশের ধর্মীয় অবকাঠামো পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সক্রিয় তত্ত্বাবধানে এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও খতিবদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময়ের পর এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।বেতন কাঠামো ও গ্রেড বিন্যাস:
নতুন নীতিমালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর সঙ্গে সংগতি রেখে জনবলের গ্রেড নির্ধারণ।এতে বলা হয়েছে:সিনিয়র পেশ ইমাম: ৫ম গ্রেড।পেশ ইমাম: ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ইমাম: ৯ম গ্রেড।প্রধান মুয়াজ্জিন: ১০ম গ্রেড এবং মুয়াজ্জিন: ১১তম গ্রেড।প্রধান খাদিম: ১৫তম এবং খাদিম: ১৬তম গ্রেড।খতিবদের বেতন হবে চুক্তিভিত্তিক। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে।আবাসন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তামসজিদ কমিটিকে সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মরতদের সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো তাদের জন্য মাসিক সঞ্চয় স্কিম এবং চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা বা গ্র্যাচুইটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।ছুটি ও নিয়োগ প্রক্রিয়াএখন থেকে মসজিদের কর্মীরা মাসে ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটি, বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটি পাবেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে ৭ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়োগপত্র ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।আধুনিকায়ন ও নারী নামাজ কক্ষনতুন নীতিমালায় নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া, নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত আলাদা নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মসজিদ কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫ জনে উন্নীত করা হলেও মসজিদের আয়তন ও অবস্থানভেদে এটি পরিবর্তনযোগ্য।চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি যে কোনো জটিলতা নিরসনে কাজ করবে।