যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমাদের কাছে পৃথিবীকে ১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়ার মতো” পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং তিনি পেন্টাগনকে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, অন্যান্য শক্তিগুলো (রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া) পরীক্ষায় ফিরেছে — তাই যুক্তরাষ্ট্রও পিছিয়ে থাকতে পারে না। তবে কী ধরনের পরীক্ষা — বিস্ফোরক নাকি অ-বিস্ফোরক — তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।ট্রাম্পের বক্তব্য ও উৎস: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিএবিএসের ৬০ মিনিটস প্রোগ্রামে এবং সমাজমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, “আমাদের কাছে অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি পরমাণু অস্ত্র আছে; আমরা এতগুলো অস্ত্র রাখি যে পৃথিবী ১৫০ বার ধ্বংস করা সম্ভব।” একই সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় পরমাণু পরীক্ষা শুরু করতে অফিসিয়ালি নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেন — “অন্যান্য দেশ যদি পরীক্ষা করে, আমরাও করব” মত দাবি করেছেন। পরীক্ষা—বিস্ফোরক না অ-বিস্ফোরক: বিভ্রান্তি: ট্রাম্পের এই ঘোষণায় দ্রুত জটিল প্রশ্ন ওঠে—এখানে কী তিনি বাস্তবিক অর্থে ভূ-চর পরমাণু বিস্ফোরণ (underground nuclear detonations) নির্দেশ দিয়েছেন, নাকি টেকনিক্যাল/নন-ডেটোনেটিভ পরীক্ষার (non-explosive system checks) কথা বলছেন? আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর রিপোর্টে উল্লেখ করা হচ্ছে যে ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি এবং প্রতিক্রিয়াতেও মিশ্র বার্তা এসেছে; রাশিয়া ও চীন সম্পর্কে তাঁর অভিযোগও প্রমাণসমৃদ্ধভাবে উপস্থাপিত হয়নি। এ কারণে বৈশ্বিকভাবে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ে। শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি ব্যাখ্যা: যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি সেক্রেটারি (জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসন সম্পর্কিত বিভাগসহ) পরে বলছেন, সরকার নিরাপদতা বজায় রেখে “ননডিটোনেটিভ” পরীক্ষা বা সিস্টেম যাচাই-পরীক্ষা (explosive nuclear detonation নয়) পর্যবেক্ষণ করছে—অর্থাৎ স্থলভিত্তিক বা উপগ্রহ-নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ এখনই পরিকল্পনায় নেই বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জানিয়েছে। এই ব্যাখ্যা যে জনমানসে সম্পূর্ণ স্থিরতা এনেছে— সেটাও বলা যাবে না; ওপরন্তু বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে যে এই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয় ও পরান্ডনীয় অনুরোধ চলছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নৈতিক-আইনি প্রশ্ন: যদি কোনো দেশ পুনরায় ভূ-চর বা ওপেন-এয়ার পারমাণবিক বিস্ফোরণ চালায়, সেটি গোটা আন্তর্জাতিক অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ স্থিতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে—বিশেষত গ্রহজুড়ে বর্ধিত পরমাণু প্রতিযোগিতা (arms race) ও পরিবেশগত-মানবিক ঝুঁকি নিয়ে। বহু বিশ্লেষক ও কূটনীতিক সতর্ক করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন, পারমাণবিক-পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা (যেমন — বিভিন্ন চুক্তি ও নীতিগত বাধ্যবাধকতা) এবং জাতিসংঘের নীতির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো বিস্ফোরক পরীক্ষা আন্তর্জাতিক অবকাশে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলোর (বিশেষত রাশিয়া ও চীন) কৌশলগত প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। পরিণতি ও সামনে যা দেখা যাবে: ১) প্রশাসনিক স্পষ্টীকরণ: হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন ও এনার্জি দফতর থেকে পরীক্ষার প্রকৃতি—বিস্ফোরক নাকি অ-বিস্ফোরক— স্পষ্টভাবে জানানো না হলে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত থাকবে। এনার্জি সেক্রেটারির কিছু অবস্থান ইতোমধ্যে ‘বিস্ফোরণ নয়’ ইঙ্গিত দিলেও মেলার পর্যাপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ২) আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও প্রতিক্রিয়া: মার্কিন নির্দেশের পর আন্তর্জাতিক কূটনীতি সক্রিয় হবে; অ্যালাইদের উদ্বেগ, জাতিসংঘ ও অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ব্যস্ততা এবং সম্ভাব্য পরামর্শ সভা দেখা যেতে পারে। ৩) অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও নিরস্ত্রীকরণ সংলাপ: ট্রাম্প নিজে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে কথা বলেছেন—কিন্তু একইসঙ্গে পরীক্ষার নির্দেশ দেয়ায় কবে ও কিভাবে নতুন আলোচনার সূচনা হবে, তা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। বিশ্লেষকরা বলছেন—যদি পরীক্ষার সংস্কৃতি পুনরায় জাগ্রত হয়, তা পরমাণু সমীকরণকে আরও জটিল করবে।