টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারত-শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে পাকিস্তান
আগামী ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং নানা রাজনৈতিক ও কৌশলগত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যকার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে আইসিসির কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভেন্যু বণ্টন নিয়ে পাকিস্তানের আপত্তির কারণে এই সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে সোমবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জাতীয় স্বার্থ এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের অবস্থানের কথা বিবেচনা করে দল পাঠানোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার হাইব্রিড মডেলের ভেন্যু ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার ওপর জোর দেন এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।এবারের বিশ্বকাপে মোট ২০টি দল ৫৫টি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো ভারতের কলকাতা, মুম্বাই এবং আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, পাকিস্তানের প্রাথমিক পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টির ওপর ভিত্তি করেই পাকিস্তান সরকার তাদের নমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছে।সম্প্রতি আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে অন্য দলকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে প্রতিবাদের আওয়াজ উঠেছিল। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আগে থেকেই জানিয়ে আসছিলেন যে, অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সরকারের এই সবুজ সংকেতের পর পিসিবি এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে লজিস্টিক এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পারবে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান ক্রিকেট বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা পেল। একইসঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে থাকা কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। পিসিবি খুব শীঘ্রই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষ রোডম্যাপ এবং ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সূচি ঘোষণা করবে।