বাংলাদেশে আসার পথে পেপ্যাল: দাভোসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সবুজ সংকেত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। তবে নতুন কোনো দেশে কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া থাকায় এখনই চূড়ান্ত দিনক্ষণ বলা সম্ভব হচ্ছে না।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। দাভোস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অর্জিত সাফল্য নিয়ে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।লুৎফে সিদ্দিকী জানান, গত কয়েক মাস ধরে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে পেপ্যাল এখন বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। গত ডিসেম্বর মাসে পেপ্যালের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, উদ্যোক্তা এবং আইটি খাতের অংশীজনদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, "নীতিগতভাবে পেপ্যাল এখন বাংলাদেশে আগ্রহী। দাভোসে তাদের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আমার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, তাদের একটি অভ্যন্তরীণ বোর্ড প্রক্রিয়া এবং বিতর্ক পর্ব থাকে। এই ধাপগুলো পার হওয়ার আগে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায় না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠানটির আস্থা বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে প্রবেশ করলে ফ্রিল্যান্সিং এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।