উত্তপ্ত বিনোদন অঙ্গন: ভারতীয় চ্যানেল বন্ধের দাবি সোহেল রানার
আইপিএল থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষায় বাংলাদেশে ভারতীয় সকল টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও তারকাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।চলতি বছরের আইপিএলে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর) চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আপত্তির মুখে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে দেশে আইপিএলের সব ধরনের সম্প্রচার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই সরব হয়েছেন ঢালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা সোহেল রানা। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভারতের সাথে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সমতার দাবি তোলেন। তিনি লেখেন, “আমাদের টেলিভিশন যতদিন ভারতে প্রচার করতে পারবে না, ততদিন ভারতের টেলিভিশনও আমাদের দেশে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।”সোহেল রানা কেবল বাণিজ্যিক বৈষম্য নয়, ভারতীয় নাটকের কন্টেন্ট নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, ভারতীয় মেগা সিরিয়ালগুলো বাংলাদেশের পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার ভাষ্যমতে, “ভারতীয় টেলিভিশনের বউ-শাশুড়ির ঝগড়াধর্মী নাটক আমাদের সামাজিক বন্ধন ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।”মুস্তাফিজের সাথে হওয়া এই আচরণকে ‘অবিচার’ হিসেবে দেখছেন দেশের অন্যান্য তারকারাও। অভিনেতা মিশা সওদাগর ও লোকসংগীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতিসহ অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ভারতীয় পণ্য ও বিনোদন বয়কটের ডাক দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রীড়াক্ষেত্রের এই বৈষম্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।