বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

মুসলিম বিশ্বের ঐক্যই পারে ইসরায়েলকে চুক্তিতে বাধ্য করতে: আলী আল-কারাদাগি

বিশ্ব মুসলিম উলামা পরিষদের সভাপতি আলী মহিউদ্দিন আল-কারাদাগি বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের অনৈক্য ও রাজনৈতিক বিভাজনই ইসরায়েলকে গাজায় বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনে উৎসাহিত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল দুই বিলিয়ন মুসলিমের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই পারে তেল আবিবকে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য করতে। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।কাতারভিত্তিক বিশ্ব মুসলিম উলামা পরিষদের (IUMS) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সাক্ষাৎকারে আলী আল-কারাদাগি বর্তমান গাজা পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে ইসরায়েল কখনোই তাদের স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি প্রকৃত প্রতিশ্রুতি দেখায়নি। গাজায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন সেই ধারাবাহিক প্রতারণারই অংশ।"কারাদাগি উল্লেখ করেন যে, মুসলিম বিশ্বের ৫৭টি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ তাদের প্রভাব ও চাপ সৃষ্টির ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, "যদি ৫৭টি মুসলিম দেশ ফিলিস্তিন ও আল-কুদস ইস্যুতে এক হতে পারত, তবে ইসরায়েল এই অঞ্চলে এমন ঔদ্ধত্য দেখানোর সাহস পেত না।" তিনি মুসলিম নেতাদের সতর্ক করে বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছে।মানবিক বিপর্যয় ও 'গ্রেটার ইসরায়েল' পরিকল্পনা: গাজায় ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী সহিংসতায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান। কারাদাগি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে নীল নদ থেকে দজলা-ফুরাত নদী পর্যন্ত 'গ্রেটার ইসরায়েল' গড়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পাচ্ছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য সরাসরি হুমকি।গাজার মানবিক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "সেখানে শিশুরা প্রচণ্ড শীত ও অনাহারে মারা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মুসলিম বিশ্বের নৈতিক দায়িত্ব হলো ইসরায়েলকে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধ্য করা।"উল্লেখ্য যে, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪৫১ জন নিহত এবং ১২৫১ জন আহত হয়েছে। অথচ চুক্তিতে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বর্তমানে বিশ্বের ১০ সহস্রাধিক আলেম ও চিন্তাবিদদের প্রতিনিধিত্ব করছে। কারাদাগি ২০২৪ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইসলামের মূল্যবোধ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছেন।

মুসলিম বিশ্বের ঐক্যই পারে ইসরায়েলকে চুক্তিতে বাধ্য করতে: আলী আল-কারাদাগি