বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

মুম্বাইয়ের কলেজে বোরকা নিষিদ্ধ: তীব্র বিক্ষোভ, অনশনে ছাত্রীরা

মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে একটি কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের বোরকা পরিধানে নিষেধাজ্ঞা জারি করাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও অনশন শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্কে রূপ নিয়েছে। প্রশাসন অবশ্য একে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই শহরের Vivek Vidyalaya and Junior College–এ চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে মুসলিম ছাত্রীদের বোরকা পরিধানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কলেজ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ, অনশন ও বিক্ষোভ।ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি সপ্তাহে Gallinews–এ প্রকাশিত একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করছেন—কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়ে দিয়েছে যে, নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে বোরকা পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রশাসনের দাবি, পরীক্ষায় নকলের আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত।ছাত্রীরা আরও জানান, তাদের বলা হয়েছে—বোরকা পরতে চাইলে ভর্তি বাতিল করে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে। এই ঘটনায় AIMIM মহিলা শাখার নেত্রী জাহানারা শেখ প্রকাশ্যে আন্দোলনরত ছাত্রীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।বুধবার শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“Hijab is our rights”“Hijab is our dignity”“Hijab is our pride”“Hijab is not a piece of cloth”“Hijab is our identity and Education is our right” এক আন্দোলনরত ছাত্রী বলেন,“আমাদের একটাই দাবি—বোরকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। তারা বলছে বোরকা আর হিজাব আলাদা। মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখাকে তারা হিজাব বলছে। আমরা হিজাব পরেই আসতে চাই, তবুও এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।”আরেক ছাত্রী বলেন,“ভর্তি শুরুর আগেই যদি এই নিয়ম জানানো হতো, তাহলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। এখন হঠাৎ করে জানানো হয়েছে। আমরা কথা বলেছি, কিন্তু এখনো কোনো জবাব পাইনি। নিষেধাজ্ঞা না উঠা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে Student Islamic Organisation (SIO), Maharashtra। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে একে ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ২৫ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে। তাদের অভিযোগ—এই নীতির মাধ্যমে মুসলিম ছাত্রীদের ক্লাসে ঢোকার আগে ধর্মীয় পোশাক খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে, অন্যদিকে ওয়াশরুমে পোশাক বদলাতে বাধ্য করে তাদের অপমান ও শিক্ষার সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।SIO-এর বিবৃতিতে আরও বলা হয়,“এই সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইসলামোফোবিয়ার গন্ধ রয়েছে। এটি শিক্ষাঙ্গনের অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ধ্বংস করছে। অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক নীতি প্রত্যাহার করতে হবে।”অন্যদিকে কলেজ প্রশাসন দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নয়, বরং ‘নিরপেক্ষ একাডেমিক পরিবেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে—বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ,তবে হিজাব ও হেডস্কার্ফ এখনও অনুমোদিত।এছাড়া এই নিয়ম শুধু জুনিয়র কলেজ শাখায় প্রযোজ্য, সিনিয়র কলেজে নয় বলেও জানানো হয়।এদিকে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নিতেশ রানে এই নিষেধাজ্ঞার প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বলেছেন,“হিন্দু রাষ্ট্রে বোরকা চলবে না”—এই মন্তব্যে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন ভারতের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি সত্যিই একাডেমিক নিরপেক্ষতার নামে সংখ্যালঘু মুসলিম নারীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য?

মুম্বাইয়ের কলেজে বোরকা নিষিদ্ধ: তীব্র বিক্ষোভ, অনশনে ছাত্রীরা