কুমিল্লার ঠাকুরপাড়ায় মন্দির ও মসজিদে ককটেল হামলা: আহত ৩
দেশের অন্যতম ধর্মীয় সম্প্রীতির শহর হিসেবে পরিচিত কুমিল্লায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল মন্দির ও মসজিদের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। হামলায় একজন হিন্দু পুরোহিত এবং দুই জন মুসলিম পথচারী ও মুসল্লি আহত হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, "যারা নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উচ্ছৃঙ্খল পোস্ট দিয়ে দেশের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।" প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ মহলকে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা। কুমিল্লা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি শ্যামল সাহাও একই সুর মিলিয়ে বলেন, "সম্প্রীতির শহর কুমিল্লার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।" তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার সময় ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দিরে 'শনি পূজা' চলাকালীন মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত একটি ককটেল সদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী (৫০) বস্তুটিকে লাঠি দিয়ে সরাতে গেলে সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুরোহিতের স্ত্রী ওমা চক্রবর্তী জানান, দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় পাশের বাগানবাড়ি মসজিদের ফটকের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।এই জোড়া হামলায় আহতরা হলেন— মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী, স্থানীয় মুসল্লি আবদুল বারেক ও জিহাদ। আহতদের দ্রুত কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাগরিবের নামাজের পরপরই মসজিদের সামনে বিস্ফোরণ ঘটায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে একটি সাদা ব্যাগ ফেলে যায়, যা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার পরপরই কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এবং র্যাব-১১ এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।