ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদ শহরে চলমান তীব্র পানির সংকটের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। নগরীর একটি স্থানীয় মসজিদ ধর্মের ভেদাভেদ না করে হিন্দু ও মুসলিম—সব পরিবারের জন্য পানির ব্যবস্থা খুলে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে।আহমেদাবাদ শহরের একটি এলাকায় পৌরসভার পানির সরবরাহ দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়মিত হয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এই সংকটময় সময়ে এলাকার একটি মসজিদ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের পানির উৎস সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হিন্দু ও মুসলিম পরিবারগুলো মসজিদের ভেতরে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পানির পাত্র ভরছেন। সেখানে নারী, শিশু ও বয়স্কদের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। পুরো উদ্যোগটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।মসজিদ পরিচালনা কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো শর্ত থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, “পানির মতো মৌলিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিবেশী সংকটে থাকলে তাকে সাহায্য করা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি সমাজসেবার কেন্দ্রও।”স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এক নারী বাসিন্দা বলেন, “ওই সময় ধর্ম বা পরিচয়ের কোনো গুরুত্ব ছিল না। আমাদের সন্তান ও বয়স্কদের জন্য পানির ব্যবস্থা হওয়াটাই ছিল সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”এই মানবিক উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে “মানবতার জয়” বলে উল্লেখ করেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দেয় যে সংকটের সময় সহমর্মিতা ও সহযোগিতাই সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মধ্যে আস্থা ও ঐক্য গড়ে তোলে।