বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

পাকিস্তান-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মোড়: দীর্ঘ বিরতির পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের কূটনৈতিক শীতলতা ও উচ্চপর্যায়ের সফরের অনুপস্থিতি কাটিয়ে পুনরায় সম্পর্ক ঝালাই করতে বৈঠকে বসেছেন পাকিস্তান ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ের মধ্যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৪ জানুয়ারি চার দিনের সফরে পাকিস্তানে পৌঁছান মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল।ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের "পূর্ণ বর্ণালী" (full spectrum) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই সফর প্রমাণ করে যে দুই দেশই তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরায় সচল করতে কতটা আগ্রহী। বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি।উল্লেখ্য যে, ২০১২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির মিয়ানমার সফর এবং ২০১৫ সালে মিয়ানমারের নেতৃত্বের পাকিস্তান সফরের পর দীর্ঘ সময় দুই দেশের মধ্যে এমন উচ্চপর্যায়ের কোনো যোগাযোগ ছিল না।বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ বা 'স্ক্যামিং গ্যাং' মোকাবিলায় সহযোগিতা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অনলাইন জালিয়াতির শিকার হওয়া উভয় দেশের নাগরিকদের আইনি সহায়তা এবং সুরক্ষা দিতে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। কনসুলার সহায়তা সহজতর করার মাধ্যমে এই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। ইশাক দার জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো অমীমাংসিত ইস্যু কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এছাড়া মিয়ানমারে সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া সাধারণ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তান আশা প্রকাশ করে যে, এই নির্বাচন দেশটিতে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতে সহায়ক হবে।মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে তার বক্তব্যে দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ও মিয়ানমার উভয় দেশই ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে ছিল এবং স্বাধীনতার লড়াইয়ে তাদের অভিন্ন অতীত রয়েছে। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি দেশটির জনকের কাছে পরিচয়পত্র জমা দিয়েছিলেন।বর্তমানে দুই দেশই তাদের অপ্রকাশিত সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে কৃষি, শিল্প ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পরিকল্পনা করছে।

পাকিস্তান-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মোড়: দীর্ঘ বিরতির পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক