যাকাতের সঠিক ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরেই দারিদ্র্যমুক্ত হবে দেশ: ধর্ম উপদেষ্টা
বাংলাদেশে বিদ্যমান দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত ব্যবস্থাকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যাকাতের সুষ্ঠু আহরণ ও বন্টন নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব। শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘যাকাত কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন তার বক্তব্যে দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের প্রতি শরীয়াহ মোতাবেক যাকাত প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমাদের দেশে যারা সম্পদশালী আছেন, তারা যদি নিয়ম অনুযায়ী যাকাত প্রদান করেন এবং তা যদি পরিকল্পিতভাবে বিতরণ করা হয়, তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি দারিদ্র্যমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, যাকাত ব্যবস্থার সফল প্রয়োগ ঘটলে বিদেশের কাছে হাত পাতার মতো পরনির্ভরশীলতা থেকেও দেশ মুক্তি পাবে।বক্তব্যের এক পর্যায়ে উপদেষ্টা ইসলামের প্রাথমিক যুগের উদাহরণ টেনে বলেন, হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত আদায় ও বন্টন করা হতো। তখন ব্যবস্থাপনা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, যাকাত গ্রহণ করার মতো অভাবী মানুষ খুঁজে পাওয়া যেতো না। বর্তমানে দেশে শরীয়াহ আইনের অনুপস্থিতির কারণে যাকাত ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এখন যাকাত দেওয়া বা না দেওয়া মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে, যা একটি সুশৃঙ্খল অর্থনীতির জন্য অন্তরায়।"দারিদ্র্যকে একটি জাতির জন্য ‘অভিশাপ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, যে রাষ্ট্র দারিদ্র্যের কবলে পড়ে, সে রাষ্ট্র কখনোই বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। একটি শক্তিশালী অর্থনীতিই রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার তাগিদ দেন।মানবিক কার্যক্রম এবং যাকাত ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের জন্য ধর্ম উপদেষ্টা মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলমসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এই কনফারেন্সে আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের প্রায় শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।