লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির পুত্র ও আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি এক সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তার নিজস্ব বাসভবনে একদল বন্দুকধারী এই হামলা চালায়। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার ফরাসি আইনজীবী মার্সেল সেকালদি।লিবিয়ার রাজনীতিতে এক সময়কার সবচেয়ে প্রভাবশালী উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে তার নিজ বাড়িতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার আইনজীবী মার্সেল সেকালদি বার্তাসংস্থা এএফপি-কে জানান, চার সদস্যের একটি কমান্ডো দল এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে।সাইফ আল ইসলামের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান আবদুর রহিম লিবিয়ার আল আহারার টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ঘাতকরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে নজরদারি ক্যামেরাগুলো (CCTV) অচল করে দেয়। এরপর তারা সাইফ আল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। যদিও এই হামলার পেছনে কোন গোষ্ঠী বা ব্যক্তি জড়িত, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই সাইফ আল ইসলাম নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরবর্তীকালে তিনি সাধারণ ক্ষমা লাভ করেন।২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনরায় আলোচনায় আসেন। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। লিবিয়া বিশেষজ্ঞ এমাদেদ্দিন বাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ মন্তব্য করেছেন যে, সাইফের এই মৃত্যু লিবিয়ার আসন্ন নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। তিনি আরও জানান, লিবিয়ার একটি বড় অংশ সাইফকে তাদের ত্রাণকর্তা মনে করত, তাই এই হত্যাকাণ্ড দেশটিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।মুয়াম্মার গাদ্দাফির সাবেক মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম এই ঘটনাকে 'বিশ্বাসঘাতকতা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সাইফ একটি ঐক্যবদ্ধ ও সার্বভৌম লিবিয়া গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। দীর্ঘদিন স্থান পরিবর্তন করে জীবনযাপন করা এই নেতার নিরাপত্তা নিয়ে কয়েকদিন আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা, কিন্তু তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।২০১১ সালে ন্যাটোর হস্তক্ষেপে গাদ্দাফি শাসনের পতনের পর থেকে লিবিয়া বর্তমানে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার এবং হাফতার সমর্থিত পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত। সাইফ আল ইসলামের মৃত্যু এই বিভক্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।