দেশবিরোধী প্রচারণায় অর্থ যোগান, পরামর্শ ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা গুলশান থানার মামলায় ক্যাসিনোকাণ্ডের আলোচিত ব্যক্তি সেলিম প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। প্রাথমিক তদন্তে তার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।সোমবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুনুর রশিদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক মামুন সেলিম প্রধানকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেলিম প্রধান নিষিদ্ধঘোষিত এক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য এবং তিনি ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, বরং কৌশলগতভাবে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে দেশবিরোধী প্রচারণা পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২২ অক্টোবর সেলিম প্রধানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে গুলশান-১ এলাকায় “নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ” নামের ব্যানারে কিছু ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে দেশবিরোধী স্লোগান দেন। এ সময় পাঁচজনকে现场ে আটক করা হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করে।সেলিম প্রধান এর আগেও আলোচনায় আসেন ২০১৯ সালের ক্যাসিনোকাণ্ডে। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে গুলশানের বারিধারার “নেক্সাস ক্যাফে প্লেস” রেস্তোরাঁ থেকে তাকে আটজনসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে গুলশান থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। সেই মামলায় তিনি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান।দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন মামলায় ফের আইনের জালে সেলিম প্রধান। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, তার ভূমিকা ও অর্থযোগানের উৎস অনুসন্ধানে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।