বরগুনায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) দাবি করেছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তার দল সারাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তিনি বরগুনা-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের বিজয় নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে ভোটারদের আমূল পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-১ আসনের আমতলী পৌর মুক্ত মঞ্চে আজ শুক্রবার সকালে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, "৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলদারিত্বের মহোৎসব চলছিল, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীরা দিনরাত জেগে মন্দির ও গির্জা পাহারা দিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।" তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আশ্বস্ত করে বলেন, চরমোনাই এলাকায় সংখ্যালঘুরা 'মায়ের কোলের মতো' নিরাপদ থাকে এবং সারাদেশে তারা একই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চান।অন্যান্য রাজনৈতিক দলের উন্নয়নমূলক স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "অনেকে সবুজ বা ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে, কিন্তু আমরা আঠারো কোটি মানুষের মুখে প্রকৃত হাসি ফোটাতে চাই।" তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কেউ যেন ভোটকেন্দ্র দখল বা সন্ত্রাসের পথ বেছে না নেয়। হাতপাখার কর্মীদের শান্ত স্বভাবকে দুর্বলতা না ভাবার জন্য তিনি হুঁশিয়ারি দেন।জনসভায় বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালীউল্লাহ তার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন। তিনি নিজেকে 'শাসক নয়, খাদেম' হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, বিজয়ী হলে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাবেন। তার উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:নদীর ওপর প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ।বরগুনা সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ।তালতলী ও আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মানোন্নয়ন।টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ।জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনসহ জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একযোগে দাবি করেন, বরগুনার এই মাটি থেকেই দক্ষিণাঞ্চলে হাতপাখার বিজয়ের জোয়ার শুরু হবে।