ঢাকা    সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা    সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
কওমী টাইমস

আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদন: আমানত ও চাকরি সুরক্ষিত থাকবে

পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত হচ্ছে ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত হচ্ছে ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক

বাংলাদেশের আর্থিক সংকটাপন্ন পাঁচটি বেসরকারি ইসলামি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যাংকের জন্য দুটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে: ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক এবং সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন পায় এবং পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি দেশের ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক কিছু বেসরকারি ব্যাংকে, ঋণ কেলেঙ্কারি ও তারল্য সংকটের মতো গুরুতর আর্থিক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে, অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে ও আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন সত্তা গঠন করবে, সেগুলো হলো:

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (First Security Islami Bank)
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (Global Islami Bank)
  • ইউনিয়ন ব্যাংক (Union Bank)
  • এক্সিম ব্যাংক (Exim Bank)
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (Social Islami Bank)

প্রাথমিকভাবে এই তালিকায় আইসিবি ব্যাংক-এর নাম থাকলেও শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকার কারণে সেটিকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।

এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ফলে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল আমানতকারী ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন না এবং কোনো আমানতকারীও তাঁর আমানত হারাবেন না। এই নিশ্চয়তা আর্থিক খাতে আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

প্রস্তাবিত নতুন ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য একটি সুচিন্তিত মূলধন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত মূলধন হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা, এবং পরিশোধিত মূলধন থাকবে আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

মূলধনের জোগান নিশ্চিত করতে 'বেইল ইন' (Bail-in) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকার আমানতকে মূলধনে রূপান্তর করা হতে পারে। অবশিষ্ট ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার মূলধন হিসেবে সরবরাহ করবে।

প্রাথমিকভাবে একীভূত এই ব্যাংকটি রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকটির মালিকানা বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাংকটি বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।

এই জটিল একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকার গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি আট সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

বিষয় : ইসলামী ব্যাংক ব্যাংক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫


পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত হচ্ছে ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশের আর্থিক সংকটাপন্ন পাঁচটি বেসরকারি ইসলামি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যাংকের জন্য দুটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে: ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক এবং সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন পায় এবং পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি দেশের ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক কিছু বেসরকারি ব্যাংকে, ঋণ কেলেঙ্কারি ও তারল্য সংকটের মতো গুরুতর আর্থিক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে, অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে ও আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন সত্তা গঠন করবে, সেগুলো হলো:

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (First Security Islami Bank)
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (Global Islami Bank)
  • ইউনিয়ন ব্যাংক (Union Bank)
  • এক্সিম ব্যাংক (Exim Bank)
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (Social Islami Bank)

প্রাথমিকভাবে এই তালিকায় আইসিবি ব্যাংক-এর নাম থাকলেও শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকার কারণে সেটিকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।

এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ফলে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল আমানতকারী ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন না এবং কোনো আমানতকারীও তাঁর আমানত হারাবেন না। এই নিশ্চয়তা আর্থিক খাতে আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

প্রস্তাবিত নতুন ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য একটি সুচিন্তিত মূলধন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত মূলধন হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা, এবং পরিশোধিত মূলধন থাকবে আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

মূলধনের জোগান নিশ্চিত করতে 'বেইল ইন' (Bail-in) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকার আমানতকে মূলধনে রূপান্তর করা হতে পারে। অবশিষ্ট ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার মূলধন হিসেবে সরবরাহ করবে।

প্রাথমিকভাবে একীভূত এই ব্যাংকটি রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকটির মালিকানা বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাংকটি বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।

এই জটিল একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকার গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি আট সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৫ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত