মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

আবহাওয়া

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণে ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোনের ঝুঁকিতে

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, মারাত্মক দাবানল ও প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা পরিবেশ দূষণের যৌথ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝারি মেয়াদের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র (ECMWF)-এর অধীনস্থ ‘কোপার্নিকাস অ্যাটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস’ (CAMS)-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভূপৃষ্ঠের ক্ষতিকর ওজোন গ্যাসের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও দূষণকারী উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্ট এই দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনবহুল এশীয় অঞ্চল, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক বৈশ্বিক হুমকির বার্তা দিচ্ছে।কোপার্নিকাস সার্ভিসের উদ্বেগজনক রিপোর্টইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা CAMS ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলের একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ওজোন গ্যাস (Ground-level Ozone) সরাসরি উৎস থেকে উৎপন্ন হয় না, বরং শিল্পকারখানা, যানবাহন এবং দাবানলের ধোঁয়ার সাথে নির্গত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সূর্যের আলো ও তীব্র তাপমাত্রার উপস্থিতিতে প্রাকৃতিকভাবে বিক্রিয়া করে এই গৌণ দূষক তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিরাপদ বায়ুমণ্ডল নির্দেশিকা অনুসারে, বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ নিরাপদ বায়ুমণ্ডলের মধ্যে বাস করছেন, যেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিষাক্ত ওজোনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন।মহাদেশভিত্তিক বিপর্যয় ও এশিয়ার শোচনীয় অবস্থাCAMS-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওজোন দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার এশিয়া মহাদেশ। শিল্পায়নের ব্যাপক প্রসার, পরিবহনের ধোঁয়া এবং প্রাকৃতিকভাবে নির্গত রাসায়নিক উপাদানের যৌথ প্রভাবে চলতি বছর এশিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার ওজোন দূষণের শিকার হয়েছে। জনঘনত্ব বেশি হওয়ায় এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহসহ উন্নয়নশীল অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।এদিকে ইউরোপে একের পর এক আসা তীব্র তাপদাহের (Heatwave) কারণে মহাদেশটির ৫০ শতাংশ মানুষ ‘খারাপ’ ও ‘খুবই খারাপ’ মাত্রার ওজোন দূষণের সম্মুখীন হয়েছে। উত্তর আমেরিকাতেও দাবানলের কারণে সৃষ্ট বিশাল ধোঁয়ার প্রভাবে মহাদেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বিষাক্ত বায়ুর কবলে পড়ে দিন কাটাচ্ছে।জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর মারাত্মক প্রভাবভূপৃষ্ঠের এই বিষাক্ত ওজোন সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করছে। এর পাশাপাশি বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) এবং কৃষিশস্যের ফলনে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বায়ুমণ্ডলের এই পরিবর্তন খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও COP31 সম্মেলনের আহ্বানECMWF-এর মহাপরিচালক ফ্লোরিয়ান পাপেনবার্গার বলেন, 'বায়ুদূষণ কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা মানে না। দাবানলের ধোঁয়া, বিষাক্ত ওজোন ও মরুভূমির ধূলিঝড় হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন 'COP31'-কে সামনে রেখে বিশ্বনেতাদের এখনই যৌথ ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।'একইসাথে CAMS-এর পরিচালক লরেন্স রুইল জোর দিয়ে বলেন, 'আমাদের বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু, জনস্বাস্থ্য ও জীবিকা একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সাহারার ধূলিঝড় বা বনভূমির দাবানল আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক বায়ুমণ্ডলীয় সুরক্ষা নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।'

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণে ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোনের ঝুঁকিতে