শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

২০১৯ সালের পুরনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল; মণিপুরের তথাকথিত স্বাধীনতার দাবির কোনো ভিত্তি নেই

মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা: সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে আসল সত্য কী?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা: সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে আসল সত্য কী?

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। লন্ডনের একটি সংবাদ সম্মেলনের দৃশ্য সংবলিত এই ভিডিওটি জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচারিত একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণামাত্র।

বিগত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, লন্ডনের একটি কক্ষে দুজন ব্যক্তি ব্যানার হাতে ভারতের ‘দখলদারিত্ব’ থেকে মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা করছেন। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে বর্তমান সময়ের ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে শেয়ার করছেন। কিন্তু ফ্যাক্ট-চেক বা তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এর পেছনের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এসেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এটি মূলত ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ সালের একটি ঘটনার রেকর্ড। ওই সময়ে ইয়াম্বেম বিরেন এবং নারেংবাম সমরজিৎ নামক দুজন ব্যক্তি লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ‘মণিপুর স্টেট কাউন্সিল’-এর প্রতিনিধি দাবি করে একটি ‘নির্বাসিত সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভিডিওর পেছনের ব্যানারেও পরিষ্কারভাবে ২০১৯ সালের তারিখটি দৃশ্যমান।

মণিপুর বর্তমানে ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গরাজ্য হিসেবেই স্বীকৃত। ২০১৯ সালে ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের মণিপুরের মহারাজার প্রতিনিধি দাবি করলেও, তৎকালীন মণিপুরের মহারাজা লেয়শেম্বা সানাজাওবা দ্রুতই তাদের দাবির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। ভারত সরকার বা জাতিসংঘসহ কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এই তথাকথিত ঘোষণাকে কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি।

মণিপুরে গত কয়েক বছর ধরে জাতিগত উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা সত্য। কিন্তু এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পুরনো ও বিচ্ছিন্ন ভিডিও প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ভারতের কোনো দায়িত্বশীল সূত্র বা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যম মণিপুরের স্বাধীনতার দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।

তথ্য বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, ভাইরাল হওয়া পোস্টটি একটি 'ডিজিটাল মিসইনফরমেশন' বা অপপ্রচার। ৫ বছরেরও বেশি পুরনো একটি ভিডিওকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তাই সামাজিক মাধ্যমে কোনো স্পর্শকাতর সংবাদ শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা একান্ত জরুরি।

বিষয় : ভারত মণিপুর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬


মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা: সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে আসল সত্য কী?

প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। লন্ডনের একটি সংবাদ সম্মেলনের দৃশ্য সংবলিত এই ভিডিওটি জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচারিত একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণামাত্র।

বিগত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, লন্ডনের একটি কক্ষে দুজন ব্যক্তি ব্যানার হাতে ভারতের ‘দখলদারিত্ব’ থেকে মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা করছেন। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে বর্তমান সময়ের ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে শেয়ার করছেন। কিন্তু ফ্যাক্ট-চেক বা তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এর পেছনের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এসেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এটি মূলত ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ সালের একটি ঘটনার রেকর্ড। ওই সময়ে ইয়াম্বেম বিরেন এবং নারেংবাম সমরজিৎ নামক দুজন ব্যক্তি লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ‘মণিপুর স্টেট কাউন্সিল’-এর প্রতিনিধি দাবি করে একটি ‘নির্বাসিত সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভিডিওর পেছনের ব্যানারেও পরিষ্কারভাবে ২০১৯ সালের তারিখটি দৃশ্যমান।

মণিপুর বর্তমানে ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গরাজ্য হিসেবেই স্বীকৃত। ২০১৯ সালে ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের মণিপুরের মহারাজার প্রতিনিধি দাবি করলেও, তৎকালীন মণিপুরের মহারাজা লেয়শেম্বা সানাজাওবা দ্রুতই তাদের দাবির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। ভারত সরকার বা জাতিসংঘসহ কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এই তথাকথিত ঘোষণাকে কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি।

মণিপুরে গত কয়েক বছর ধরে জাতিগত উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা সত্য। কিন্তু এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পুরনো ও বিচ্ছিন্ন ভিডিও প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ভারতের কোনো দায়িত্বশীল সূত্র বা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যম মণিপুরের স্বাধীনতার দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।

তথ্য বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, ভাইরাল হওয়া পোস্টটি একটি 'ডিজিটাল মিসইনফরমেশন' বা অপপ্রচার। ৫ বছরেরও বেশি পুরনো একটি ভিডিওকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তাই সামাজিক মাধ্যমে কোনো স্পর্শকাতর সংবাদ শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা একান্ত জরুরি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত