টানা দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসন ও ভয়াবহ গণহত্যার ক্ষত নিয়ে অবশেষে একটি শান্ত পরিবেশে পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানাল গাজা উপত্যকার মানুষ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বিমান হামলার ভয় ছাড়াই গাজাবাসী সমবেত হলেন তারাবিহ নামাজে। যদিও অধিকাংশ মসজিদ এখন মাটির সাথে মিশে গেছে, তবুও ধ্বংসস্তূপের ওপরে দাঁড়িয়ে তাদের প্রার্থনা ছিল হারানো শান্তি ফিরে পাওয়ার।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকার জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর সেখানে বড় ধরনের কোনো হামলা ছাড়াই এবার রমজান শুরু হচ্ছে। যদিও মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, তবে সার্বিকভাবে আকাশ এখন যুদ্ধবিমানের গর্জনমুক্ত।
গাজার ঐতিহাসিক ১,৪০০ বছরের পুরনো প্রতীক 'গ্রেট ওমরি মসজিদ'। ইসরায়েলি হামলায় এই প্রাচীন স্থাপনাটির বড় অংশই এখন ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু গাজাবাসীর আবেগ এতটাই প্রবল ছিল যে, সেই আংশিক বিধ্বস্ত মসজিদের ভেতরেই তারা দুই বছর পর প্রথম তারাবিহ আদায় করতে ভিড় জমান।
স্থানীয় বাসিন্দা মুয়াবিয়া জামাল কেশকু বলেন,
"আল্লাহর শুকরিয়া যে আমরা আবার ওমরি মসজিদে তারাবিহ পড়তে পেরেছি। দুই বছর আমরা এখানে আসতে পারিনি, প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। আজ এখানে নামাজ পড়তে পারার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।"
গাজার সরকারি তথ্যমতে, গত দুই বছরের যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার অন্তত ৮৩৫টি মসজিদ সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর অধিকাংশ ব্যবহারের অনুপযোগী। এর ফলে আল-মাওয়াসি অঞ্চলের শরণার্থী শিবিরের অস্থায়ী তাঁবুতে এবং শহরের ধ্বংসপ্রাপ্ত 'আল-কেঞ্জ' মসজিদের খোলা চত্বরেই কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেন হাজার হাজার মানুষ।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২,০৬৩ জনে এবং আহত হয়েছেন ১,৭১,৭২৬ জন। এমনকি ১০ অক্টোবর ২০২৫-এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও বিচ্ছিন্ন হামলায় আরও ৬০৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দীর্ঘ শোকের আবহেই এবারের রমজান গাজাবাসীর কাছে আত্মিক শক্তির এক নতুন পরীক্ষা।
বিগত বছরগুলোর উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও, তাঁবু আর ধ্বংসস্তূপের নামাজে গাজাবাসীর ঐক্য ও ধৈর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা আশা করছেন, এই রমজান তাদের জীবনে স্থায়ী শান্তি ও পুনর্গঠনের বার্তা নিয়ে আসবে।
বিষয় : ফিলিস্তিন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টানা দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসন ও ভয়াবহ গণহত্যার ক্ষত নিয়ে অবশেষে একটি শান্ত পরিবেশে পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানাল গাজা উপত্যকার মানুষ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বিমান হামলার ভয় ছাড়াই গাজাবাসী সমবেত হলেন তারাবিহ নামাজে। যদিও অধিকাংশ মসজিদ এখন মাটির সাথে মিশে গেছে, তবুও ধ্বংসস্তূপের ওপরে দাঁড়িয়ে তাদের প্রার্থনা ছিল হারানো শান্তি ফিরে পাওয়ার।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকার জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর সেখানে বড় ধরনের কোনো হামলা ছাড়াই এবার রমজান শুরু হচ্ছে। যদিও মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, তবে সার্বিকভাবে আকাশ এখন যুদ্ধবিমানের গর্জনমুক্ত।
গাজার ঐতিহাসিক ১,৪০০ বছরের পুরনো প্রতীক 'গ্রেট ওমরি মসজিদ'। ইসরায়েলি হামলায় এই প্রাচীন স্থাপনাটির বড় অংশই এখন ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু গাজাবাসীর আবেগ এতটাই প্রবল ছিল যে, সেই আংশিক বিধ্বস্ত মসজিদের ভেতরেই তারা দুই বছর পর প্রথম তারাবিহ আদায় করতে ভিড় জমান।
স্থানীয় বাসিন্দা মুয়াবিয়া জামাল কেশকু বলেন,
"আল্লাহর শুকরিয়া যে আমরা আবার ওমরি মসজিদে তারাবিহ পড়তে পেরেছি। দুই বছর আমরা এখানে আসতে পারিনি, প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। আজ এখানে নামাজ পড়তে পারার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।"
গাজার সরকারি তথ্যমতে, গত দুই বছরের যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার অন্তত ৮৩৫টি মসজিদ সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর অধিকাংশ ব্যবহারের অনুপযোগী। এর ফলে আল-মাওয়াসি অঞ্চলের শরণার্থী শিবিরের অস্থায়ী তাঁবুতে এবং শহরের ধ্বংসপ্রাপ্ত 'আল-কেঞ্জ' মসজিদের খোলা চত্বরেই কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেন হাজার হাজার মানুষ।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২,০৬৩ জনে এবং আহত হয়েছেন ১,৭১,৭২৬ জন। এমনকি ১০ অক্টোবর ২০২৫-এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও বিচ্ছিন্ন হামলায় আরও ৬০৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দীর্ঘ শোকের আবহেই এবারের রমজান গাজাবাসীর কাছে আত্মিক শক্তির এক নতুন পরীক্ষা।
বিগত বছরগুলোর উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও, তাঁবু আর ধ্বংসস্তূপের নামাজে গাজাবাসীর ঐক্য ও ধৈর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা আশা করছেন, এই রমজান তাদের জীবনে স্থায়ী শান্তি ও পুনর্গঠনের বার্তা নিয়ে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন