ত্রিপুরার উত্তর জেলার কৈলাশহর মহকুমার গৌরনগর ব্লকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়া তিনটি হিন্দু শ্রমজীবী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা পরিবারগুলোকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে এবং খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় যুবক আফতাব আলী। এই সংকটে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'শেখ ফাউন্ডেশনও'।
ত্রিপুরার কৈলাশহর সংলগ্ন গৌরনগর এলাকায় কয়েক দিন আগে বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় দেওল বাউলিসহ স্থানীয় তিনটি হিন্দু শ্রমজীবী পরিবারের বসতঘর। বাগান শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা এই পরিবারগুলোর আসবাবপত্র, জমানো নগদ অর্থ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছু চোখের পলকে ছাই হয়ে যায়। শিশু ও বৃদ্ধসহ ১৪ জন সদস্য নিয়ে পরিবারগুলো তীব্র অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে।
বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে জাত-পাত বা ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে আসেন স্থানীয় মুসলিম যুবক আফতাব আলী। তিনি কালক্ষেপণ না করে নিজের বাড়ির তিনটি ঘর ওই তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ছেড়ে দেন। আফতাব আলী কেবল আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হননি; তিনি পরিবারগুলোর জন্য রান্নার সরঞ্জাম, গ্যাস সিলিন্ডার, বিছানা এবং প্রয়োজনীয় রেশন সামগ্রীর ব্যবস্থাও করেছেন।
এই প্রসঙ্গে আফতাব আলী বলেন, "আমি তাদের কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম না। বিপদের সময় ধর্ম বড় কথা নয়, তারা আমাদের প্রতিবেশী—এটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।"
মানবিকতার এই মিছিলে যোগ দেয় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন শেখ ফাউন্ডেশন। সংগঠনের উপদেষ্টা মকবুল আলীর নেতৃত্বে এক মাস মেয়াদী খাদ্যসামগ্রী, ছোটদের শিক্ষা উপকরণ এবং নতুন পোশাক ভর্তি একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন আব্বাস আলী আল-জালিলে, শেখ জসিমউদ্দিন, তাজ ইসলাম এবং ইয়াহইয়া খানের মতো স্থানীয় তরুণরা।
এলাকাবাসী এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, যেখানে মাঝেমধ্যেই সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার খবর পাওয়া যায়, সেখানে কৈলাশহরের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এখনো ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারের সদস্য আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আগুনে আমরা সব হারিয়েছি ঠিকই, কিন্তু মানুষ ও মনুষ্যত্বকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছি।"
বর্তমানে পরিবারগুলো তাদের ঘর পুনরায় নির্মাণের জন্য সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকলেও, প্রতিবেশীদের এই ভালোবাসা তাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
বিষয় : ভারত

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রিপুরার উত্তর জেলার কৈলাশহর মহকুমার গৌরনগর ব্লকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়া তিনটি হিন্দু শ্রমজীবী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা পরিবারগুলোকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে এবং খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় যুবক আফতাব আলী। এই সংকটে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'শেখ ফাউন্ডেশনও'।
ত্রিপুরার কৈলাশহর সংলগ্ন গৌরনগর এলাকায় কয়েক দিন আগে বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় দেওল বাউলিসহ স্থানীয় তিনটি হিন্দু শ্রমজীবী পরিবারের বসতঘর। বাগান শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা এই পরিবারগুলোর আসবাবপত্র, জমানো নগদ অর্থ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছু চোখের পলকে ছাই হয়ে যায়। শিশু ও বৃদ্ধসহ ১৪ জন সদস্য নিয়ে পরিবারগুলো তীব্র অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে।
বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে জাত-পাত বা ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে আসেন স্থানীয় মুসলিম যুবক আফতাব আলী। তিনি কালক্ষেপণ না করে নিজের বাড়ির তিনটি ঘর ওই তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ছেড়ে দেন। আফতাব আলী কেবল আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হননি; তিনি পরিবারগুলোর জন্য রান্নার সরঞ্জাম, গ্যাস সিলিন্ডার, বিছানা এবং প্রয়োজনীয় রেশন সামগ্রীর ব্যবস্থাও করেছেন।
এই প্রসঙ্গে আফতাব আলী বলেন, "আমি তাদের কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম না। বিপদের সময় ধর্ম বড় কথা নয়, তারা আমাদের প্রতিবেশী—এটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।"
মানবিকতার এই মিছিলে যোগ দেয় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন শেখ ফাউন্ডেশন। সংগঠনের উপদেষ্টা মকবুল আলীর নেতৃত্বে এক মাস মেয়াদী খাদ্যসামগ্রী, ছোটদের শিক্ষা উপকরণ এবং নতুন পোশাক ভর্তি একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন আব্বাস আলী আল-জালিলে, শেখ জসিমউদ্দিন, তাজ ইসলাম এবং ইয়াহইয়া খানের মতো স্থানীয় তরুণরা।
এলাকাবাসী এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, যেখানে মাঝেমধ্যেই সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার খবর পাওয়া যায়, সেখানে কৈলাশহরের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এখনো ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারের সদস্য আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আগুনে আমরা সব হারিয়েছি ঠিকই, কিন্তু মানুষ ও মনুষ্যত্বকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছি।"
বর্তমানে পরিবারগুলো তাদের ঘর পুনরায় নির্মাণের জন্য সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকলেও, প্রতিবেশীদের এই ভালোবাসা তাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন