অধিকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা শহরে বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধে থাকা তিন ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন প্রায় ১০০ ইসরায়েলি শান্তিকর্মী। শুক্রবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের পানি, খাবার ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী নিয়ে অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে যেতে দেয়নি। ৯ আগস্ট থেকে তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এ ঘটনায় কুসরায় অবরোধের ২৮ দিন পূর্ণ হয়েছে।অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের ফিলিস্তিনি শহর কুসরায় অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বাধার মুখে পড়েছেন প্রায় ১০০ জন ইসরায়েলি শান্তিকর্মী।ইসরায়েলি বামপন্থী শান্তি আন্দোলন পিস নাউ জানিয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তারা অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য পানি, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে কুসরায় যান। কিন্তু ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করে তাদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেয়।পিস নাউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, কুসরায় অবরোধের ২৮তম দিন চলছে। অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে পানি, খাবার ও সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে প্রায় ১০০ জন কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তবে সেনাবাহিনী তাদের ওই পরিবারগুলোর কাছে যেতে দেয়নি।আন্দোলনটি আরও জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন ফিল্ড কমান্ডার তাদের সাহায্য নিয়ে অবরুদ্ধ বাড়িগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেননি। ওই কমান্ডারের বক্তব্য ছিল, অবরুদ্ধ পরিবারগুলো নিজেরাই এসে সহায়তা নিয়ে যেতে পারবে।তবে পিস নাউ-এর বক্তব্য অনুযায়ী, একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাদের অবরুদ্ধ বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে। ফলে পরিবারগুলো নিজেরা বাইরে এসে ত্রাণ নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছে না।এ অবস্থায় এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পিস নাউ। সংগঠনটি বলেছে, এলাকাটি সামরিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলেও কোনো এক কারণে সেই বিধিনিষেধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না।পিস নাউ-এর অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।২৮ দিনের অবরোধ: ৯ আগস্ট থেকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কুসরায় তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি অবরোধ করে রেখেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর চলাচল সীমিত করে।কুসরা ও এর আশপাশে সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, গেট ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক স্থাপন এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মতো ঘটনাও বেড়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিম তীরেও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও চাপ আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।গত আগস্টে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত কিছু ইসরায়েলিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ: অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের ১৫৬টি বসতি ও ৩৬০টি চৌকিতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন।ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছে, বসতি সম্প্রসারণ, জমি দখল, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মাধ্যমে তাদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চাপ তৈরি করা হচ্ছে।জাতিসংঘ পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।কুসরায় ২৮ দিন ধরে চলা অবরোধ এবং অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।