শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

মওদুদীর আকিদা ও চিন্তাধারা: আলেম সমাজের আপত্তির কারণ

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আ'লা মওদুদীর আকিদা ও চিন্তাধারা নিয়ে আলেম সমাজের একটি অংশের বিভিন্ন আপত্তি রয়েছে। তার রচনাবলির কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নবী-রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম, হাদিস, কোরআনের ব্যাখ্যা, তাকলিদসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।এই লেখায় মওদুদীর বিভিন্ন বই, সাময়িকী ও ভাষণ থেকে উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তার চিন্তাধারা তুলে ধরা হয়েছে। লেখাটির বক্তব্য ও মূল্যায়ন মূল লেখকের নিজস্ব। উদ্ধৃতিগুলোর নির্ভুলতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাইয়ের জন্য মূল গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট সংস্করণ ও পৃষ্ঠা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।মওদুদীর আকিদা ও চিন্তাধারাজামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদুদী যে কারণে আলেম সমাজের একটি অংশের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, সে বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে হয়তো অনেকে ব্যথিত হবেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভাইদের হেয় বা খাটো করার উদ্দেশ্যে আমি মাওলানা মওদুদীর বক্তব্যগুলো এখানে তুলে ধরতে চাই না।আমি মনে করি, তারা এসব বক্তব্য সম্পর্কে কম জানেন অথবা তাঁদের জানার সুযোগ দেওয়া হয় না। কেউ যদি এসব বক্তব্য জেনেও ফেলেন এবং বড়দের কাছে প্রকাশ করেন, তখন তাঁকে বোঝানো হয় যে এগুলো শত্রুদের ষড়যন্ত্র। আবার এমন কথাও বলা হয়, ‘আমরা তো আর মাওলানা মওদুদীকে অনুসরণ করি না কিংবা তার সব কথা মানিও না।’কিন্তু এ কথা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আমি মনে করি। কারণ, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের পাঠ্যসূচিতে মাওলানা মওদুদীর লেখা প্রায় সব বই রয়েছে।উত্তম খাবারের সঙ্গে অতি সামান্য পরিমাণ বিষাক্ত খাবার গ্রহণ করলে বাহ্যিকভাবে তার প্রভাব তেমন অনুভূত না-ও হতে পারে। ধীরে ধীরে সেই বিষাক্ত খাবার সহনীয় হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে মাওলানা মওদুদীর ত্রুটিপূর্ণ বক্তব্য ও কাজগুলোও জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ভাইদের আকিদায় একসময় পরিণত হতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করি।‘তাফহিমুল কোরআন’ নিয়ে আলেম সমাজের আপত্তি তোলায় বর্তমান সংস্করণগুলো থেকে কিছু আপত্তিকর বক্তব্য বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে আমার মতে, এতটুকু যথেষ্ট নয়। তাছাড়া মাওলানা মওদুদী জীবিত থাকাকালে কিংবা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোনো ভুল স্বীকার করে তওবা করা হয়নি।তাই মুসলিম ভাইদের ঈমানের হেফাজতের স্বার্থে বিষয়গুলো তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছি।মওদুদী সাহেবের কথিত ভ্রান্ত আকিদা থেকে মুক্ত হয়ে আহলে সুন্নাতের আকিদা ও মতাদর্শ অনুসরণ করে দ্বীন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেই সফলতা আসবে বলে আমার বিশ্বাস।সমগ্র পৃথিবীর ঈমানদার মুসলমানদের আকিদা হলো, নবী-রাসুলগণ সবাই মাসুম বা নিষ্পাপ। তাঁদের মতো পবিত্র মহামানব আল্লাহর জমিনে, আকাশের নিচে দ্বিতীয় কেউ নেই। এটাই ইসলামী আকিদা।কিন্তু, আবুল আ'লা মওদুদী ইসলামের এই বদ্ধমূল আকিদার ওপর আঘাত করেছেন এবং কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার পরিপন্থী বক্তব্য দিয়ে আম্বিয়ায়ে কেরামের পবিত্র জামাতের প্রতি কলঙ্ক আরোপ করেছেন। তার এসব বক্তব্য কোনো মুসলমানের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।মওদুদীর এসব আকিদা ও বিশ্বাসের কথা জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা এখন প্রকাশ্যে না বললেও মাঝেমধ্যে তাদের অনেক নেতা-কর্মীর মুখে এমন বক্তব্য শুনতে পাওয়া যায়। যেমন, ‘ওরাও তো মানুষ। সে হিসাবে কেউ সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়’ ইত্যাদি।এর অর্থ হলো, মুখে বা জনসমক্ষে প্রকাশ না করলেও বাস্তবে তারা মওদুদীর আদর্শ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।তাহলে আসুন, সংক্ষেপে কয়েকটি বক্তব্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।হজরত দাউদ (আ.) সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'হজরত দাউদ (আ.)-এর কাজের মধ্যে নফস ও অভ্যন্তরীণ কুপ্রবৃত্তির কিছুটা দখল ছিল। অনুরূপভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গেও তার কিছুটা সম্পর্ক ছিল। আর তা ছিল এমন ধরনের কাজ, যা হকপন্থায় শাসনকারী কোনো মানুষের পক্ষেই শোভা পায় না।'সূত্র: তাফহিমুল কোরআন (উর্দু), চতুর্থ খণ্ড, সুরা সাদ, পৃষ্ঠা ৩২৭; প্রথম সংস্করণ, অক্টোবর ১৯৬৬।আরেকটি বক্তব্য:'হজরত দাউদ (আ.) তৎকালীন ইসরাঈলি সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এক বিবাহিতা যুবতীর প্রতি আসক্ত হয়েছিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করার জন্য তার স্বামীর কাছে তালাক দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।'সূত্র: তাফহিমাত, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২; দ্বিতীয় সংস্করণ। নির্বাচিত রচনাবলী (বাংলা), দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৩; আধুনিক প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ, ১৯৯১।হজরত নূহ (আ.) সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'হজরত নূহ (আ.) চিন্তাধারার দিক থেকে দ্বীনের চাহিদা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে জাহেলিয়াতের জযবা স্থান পেয়েছিল।'সূত্র: তাফহিমুল কোরআন, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪৪; তৃতীয় সংস্করণ, ১৯৬৪।হজরত ইউনুস (আ.) সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'হজরত ইউনুস (আ.)-এর কাছ থেকে রিসালাতের দায়িত্ব আদায়ের ব্যাপারে কিছু দুর্বলতা হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত তিনি ধৈর্যহারা হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজের স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।'সূত্র: তাফহিমুল কোরআন, দ্বিতীয় খণ্ড, সুরা ইউনুসের তাফসির, সংশ্লিষ্ট টিকা; তৃতীয় সংস্করণ, ১৯৬৪।হজরত আদম (আ.) সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'হজরত আদম (আ.) মানবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি শয়তানি প্রলোভন থেকে সৃষ্ট তরঙ্গ ও জযবায় আত্মভোলা হয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে আনুগত্যের উচ্চ শিখর থেকে নাফরমানির অতল গহ্বরে গিয়ে পড়েন।'সূত্র: তাফহিমুল কোরআন (উর্দু), তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৩।হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'আল্লাহ তাআলার কাছে কাতর কণ্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুলত্রুটি হয়েছে কিংবা তাতে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে, তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।'সূত্র: তাফহিমুল কোরআন (বাংলা), ১৯তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮০; ওরিয়েন্টাল প্রেস, ঢাকা, ১৯৮০। কোরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা (বাংলা), পৃষ্ঠা ১১২; অষ্টম প্রকাশ, আধুনিক প্রকাশনী, জুন ২০০২।মহানবী (সা.) সম্পর্কে আরও বক্তব্য মওদুদীর'মহানবী (সা.) মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দুর্বলতার বশবর্তী হয়ে গুনাহ করেছিলেন।'সূত্র: তরজমানুল কোরআন, ৮৫তম সংখ্যা, পৃষ্ঠা ২৩০।আরেকটি বক্তব্য:'মহানবী (সা.) নিজে মনগড়া কথা বলেছেন এবং নিজের কথায় নিজেই সন্দেহ পোষণ করেছেন।'সূত্র: তরজমানুল কোরআন, রবিউল আউয়াল সংখ্যা, ১৩৬৫ হিজরি।আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে মওদুদীর আকিদা বক্তব্য'আল্লাহ তা'আলা জালিম। কেননা, যে ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে ব্যভিচারের কারণে আল্লাহর নির্দেশে রজম প্রয়োগ করা নিঃসন্দেহে জুলুম।'সূত্র: তাফহিমাত, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮১।ফেরেশতাদের সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'ফেরেশতারা ওই সব মাখলুকের মতো, যাদের গ্রিক, ভারত ও অন্যান্য অঞ্চলের মুশরিকরা দেব-দেবী হিসেবে নির্ধারণ করেছে।'সূত্র: তাফহিমাত।নবী-রাসুলগণ সম্পর্কে মওদুদীর আকিদামওদুদীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে:'অন্যদের কথা তো স্বতন্ত্র, প্রায়ই পয়গম্বরগণও তাঁদের কুপ্রবৃত্তির মারাত্মক আক্রমণের শিকার হয়েছেন।'সূত্র: তাফহিমাত, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯৫।নবীজি (সা.) সম্পর্কে মওদুদীর আকিদামওদুদীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে:'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের ঊর্ধ্বে নন এবং মানবীয় দুর্বলতা থেকেও মুক্ত নন।'সূত্র: তরজমানুল কোরআন, এপ্রিল ১৯৭৬।এ ছাড়া একই প্রসঙ্গে আগের উদ্ধৃতিটি আবারও উল্লেখ করা হয়েছে:'আল্লাহ তাআলার কাছে কাতর কণ্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুলত্রুটি হয়েছে কিংবা তাতে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে, তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।'সূত্র: তাফহিমুল কোরআন (বাংলা), ১৯তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮০; ওরিয়েন্টাল প্রেস, ঢাকা, ১৯৮০। কোরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা (বাংলা), পৃষ্ঠা ১১২; অষ্টম প্রকাশ, আধুনিক প্রকাশনী, জুন ২০০২।পবিত্র কোরআন সম্পর্কে মওদুদীর আকিদামওদুদীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে:'কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় এ শব্দগুলোর (ইলাহ, রব, দ্বীন, ইবাদত) যে মৌলিক অর্থ প্রচলিত ছিল, পরবর্তী শতকগুলোতে তা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত একেকটি শব্দ ব্যাপকতা হারিয়ে একান্ত সীমিত, বরং অস্পষ্ট অর্থের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে পড়ে।'এর এক পৃষ্ঠা পর তিনি লিখেছেন বলে উদ্ধৃত করা হয়েছে:'এটা সত্য যে, কেবল এই চারটি মৌলিক পরিভাষার তাৎপর্যের ওপর আবরণ পড়ে যাওয়ার কারণেই কোরআনের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি শিক্ষা এবং তার সত্যিকার স্পিরিট দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।'সূত্র: কোরআন কি চার বুনিয়াদি ইসতিলাহে, পৃষ্ঠা ৮-১০।হাদিস সম্পর্কে মওদুদীর আকিদাসহিহ বুখারিতে বর্ণিত হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত সারা (আ.)-এর ঘটনা সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:'এটি একটি মিথ্যা নাটক।'সূত্র: রাসায়েল ও মাসায়েল, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬।হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে তার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:'হাদিস তো কতিপয় মানুষের সূত্রে বর্ণিত হয়ে কতিপয় মানুষের কাছে পৌঁছেছে। কাজেই এসবের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মাতে পারে না। বড়জোর ধারণা জন্মাতে পারে।'সূত্র: তাফহিমাত, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫৬।উসুলে হাদিস সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'এ আধুনিক যুগে পূর্বযুগের বাজে কথা কে শোনে?'সূত্র: তরজমানুল কোরআন, চতুর্থ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ১১১।সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে মওদুদীর আকিদামওদুদীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে:'সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি বলে জানবে না এবং তাঁদের অনুসরণ করবে না।'সূত্র: দস্তুরে জামাতে ইসলামী, পৃষ্ঠা ৭।দাড়ি সম্পর্কে মওদুদীর মতামত'হাদিসে শুধু দাড়ি রাখার হুকুম আছে। সুতরাং পরিমাণ যা-ই হোক, হাদিসের ওপর আমল হয়ে যাবে।'তাকলিদ সম্পর্কে মওদুদীর মতামতমওদুদীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে:'আমার মতে, দ্বীনি ইলমে বুৎপত্তি রাখেন এমন ব্যক্তির জন্য তাকলিদ (মাজহাবের অনুসরণ) শুধু নাজায়েজ ও গুনাহ নয়, বরং এর চেয়েও জঘন্যতম।'সূত্র: রাসায়েল ও মাসায়েল, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪৪।এখানে মওদুদী সাহেবের কথিত ইসলামবিরোধী বক্তব্যের আরও কিছু নমুনা তুলে ধরা হচ্ছে। লেখাটিতে পবিত্র কোরআন, হাদিস এবং মওদুদীর বিভিন্ন লেখা ও ভাষণ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্ধৃতির ভিত্তিতে মওদুদী জেনেশুনে ইসলামের বিকৃতি ঘটানোর অপচেষ্টা করেছেন।আল্লাহ আমাদের এ ধরনের দুরাত্মার খপ্পর থেকে রক্ষা করুন।ধর্ম, শাসন ও কর্তৃত্ব সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'শাসন ও কর্তৃত্ব করার নামই হচ্ছে ধর্ম, শাসনব্যবস্থার আইন হলো শরিয়া এবং উপাসনা হচ্ছে শাসনব্যবস্থার ঐতিহ্যকে অনুসরণ করা।'সূত্র: খুতবা, পৃষ্ঠা ২১৭।ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'লোকে সাধারণত বলে, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ হলো এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, নামাজ, জাকাত, রোজা এবং হজ। আর এগুলোই ইসলাম। এই ভুল ধারণার মধ্যে তারা অনেক দিন ধরে আছে। আসলে এটা একটা বড় বিভ্রান্তি, যা মুসলমানদের পথ ও কর্মকে ধ্বংস করেছে।'সূত্র: কাউসার, ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫১; মওদুদীর ভাষণ থেকে উদ্ধৃত।অথচ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ইসলামের মূল স্তম্ভ পাঁচটি:১. শাহাদাহ বা ঈমানের সাক্ষ্য দেওয়া।২. সালাত বা নামাজ আদায় করা।৩. বাধ্যতামূলক জাকাত প্রদান করা।৪. সাওম বা রোজা পালন করা।৫. হজ পালন করা।সহিহ বুখারির হাদিস সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্যমওদুদী হাদিস শরিফেরও সমালোচনা করেছেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে:'কোনো সত্যবাদী মানুষই এই দাবি করতে পারবেন না যে ৬-৭ হাজার হাদিসের (সহিহ বুখারি শরিফ) সবগুলোই পুরোপুরি ঠিক।'সূত্র: ১৫ মে ১৯৫৫ সালে বরকত হলে মওদুদীর দেওয়া ভাষণ। পরে আল-ইতেশাম পত্রিকায় ২৭ মে ১৯৫৫ ও ৩ জুন ১৯৫৫ তারিখে প্রকাশিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।মুতআ বিয়ে সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্যহজরত মুহাম্মদ (সা.) চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী বিয়ে বা মুতআ হারাম ঘোষণা করেছেন। তবে মওদুদী একটি উদাহরণ দিয়ে এটিকে বৈধ করার চেষ্টা করেছেন বলে লেখক অভিযোগ করেছেন।মওদুদীর বক্তব্য:'ধরুন, সমুদ্রের মাঝে একটি নৌকা ডুবে গেল। একজন পুরুষ ও একজন মহিলা বেঁচে গিয়ে একটি নির্জন দ্বীপে গিয়ে উঠলেন। এ অবস্থায় তাঁদের একসঙ্গে থাকতেই হবে। কিন্তু ইসলামী আইন অনুযায়ী তারা নিকাহ করতে পারবেন না। তাই তাঁদের কাছে একমাত্র যে পথটি খোলা আছে, তা হলো নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে অস্থায়ী বিয়ে করা। যত দিন না তারা লোকালয়ে পৌঁছাতে পারেন বা লোকেরা তাঁদের খুঁজে পায়, তত দিন এ বিয়ে বহাল থাকবে। অস্থায়ী বিয়ে বা মুতআ এ ক্ষেত্রে কিংবা এ ধরনের পরিস্থিতিতে জায়েজ।'সূত্র: তরজমানুল কোরআন, ১৯৫৫, পৃষ্ঠা ৩৭৯।যুদ্ধবন্দি নারীদের সম্পর্কে মওদুদীর মতামতযুদ্ধবন্দি নারীদের বিষয়ে মওদুদীর বক্তব্য:'এমনকি বর্তমান যুগেও যুদ্ধবন্দি নারীদের সৈনিকদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া উচিত এবং সৈনিকদের তাঁদের (নারীদের) ভোগ করার অনুমতি দেওয়া উচিত।'অথচ এর বিপরীতে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ রয়েছে:'অবশেষে যখন তাদেরকে (কাফিরদের) পূর্ণরূপে পরাভূত কর, তখন তাদের শক্ত করে বেঁধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ কর (এবং মুক্তি দাও)।'সূত্র: সুরা মুহাম্মদ, আয়াত ৪।বাল্যবিবাহ সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্য'নাবালিকা মেয়েদের (বয়ঃপ্রাপ্তির আগে) বিয়ে করা যায়। স্বামীরাও তাঁদের সঙ্গে সহবাস করতে পারে।'সূত্র: তাফহিমুল কোরআন, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৭১।হজরত ইউসুফ (আ.) সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্যবিভিন্ন নবী-রাসুল সম্পর্কে মওদুদীর সমালোচনামূলক বক্তব্যের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্যে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সঙ্গে ইতালির শাসক বেনিতো মুসোলিনির তুলনার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।মওদুদীর বক্তব্য:'কিছু মানুষ যে ধারণা পোষণ করে যে তিনি [হজরত ইউসুফ (আ.)] মিসরের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব চেয়েছিলেন শুধু সেখানকার অর্থমন্ত্রী হওয়ার জন্য, তা আদতে ঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন স্বৈরশাসক হতে চেয়েছিলেন। এমতাবস্থায় হজরত ইউসুফ (আ.) যে পদ পান, তা বর্তমানকালের ইতালির মুসোলিনির অবস্থার সমতুল্য।'সূত্র: তাফহিমাত, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২২; পঞ্চম সংস্করণ।হজরত সুলাইমান (আ.)-এর স্ত্রীসংখ্যা সম্পর্কে মওদুদীর বক্তব্যহজরত সুলাইমান (আ.)-এর ১০০ স্ত্রী থাকার বিষয়ে মওদুদীর বক্তব্য:'হয় আবু হুরাইরা (রা.) নবীর কথা শুনতে ভুল করেছেন, অথবা তিনি পুরো ব্যাখ্যা শোনেননি।'সূত্র: রাসায়েল ও মাসায়েল, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭।এখন প্রশ্ন হলো, কোনো সভ্য ও বিবেকবান মানুষ কীভাবে এই ব্যক্তির মতবাদে বিশ্বাস করতে পারেন এবং একে ইসলাম বলে দাবি করতে পারেন?উপরোক্ত আকিদাসমূহ ছাড়াও মাওলানা মওদুদীর আরও অনেক ভ্রান্ত আকিদা রয়েছে। নমুনা হিসেবে এখানে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা হয়েছে।মওদুদী সম্পর্কে আরও জানতে যেসব বই পড়ার পরামর্শ১. ইতিহাসের কাঠগড়ায় হজরত মুয়াবিয়া (রা.), লেখক: জাস্টিস তাকী উসমানী। প্রকাশনা: রশীদ কল্যাণ ট্রাস্ট।২. মাওলানা মওদূদীর সঙ্গে আমার সাহচর্যের ইতিবৃত্ত, লেখক: মাওলানা মনজুর নোমানী (রহ.)। প্রকাশনা: রশীদ কল্যাণ ট্রাস্ট।৩. মওদূদী সাহেব ও ইসলাম, লেখক: মুফতি রশীদ আহমাদ লুধিয়ানভী (রহ.)। প্রাপ্তিস্থান: দারুল উলুম লাইব্রেরি, ৩৭ নর্থব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার।৪. মওদূদীর চিন্তাধারা ও মওদূদী মতবাদ, প্রকাশনা: ইজহারে হক ফাউন্ডেশন। প্রাপ্তিস্থান: দারুল উলুম লাইব্রেরি, ৩৭ নর্থব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার।৫. ফিতনায়ে মওদূদীয়াত, লেখক: মাওলানা যাকারিয়া (রহ.)।৬. ভুল সংশোধন, লেখক: মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)।৭. সতর্কবাণী, লেখক: মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)।৮. হক-বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব, লেখক: আল্লামা আহমদ শফী, হাটহাজারী।৯. ঈমান ও আকিদা, প্রকাশনা: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা।১০. ফতোয়ায়ে দারুল উলুম১১. বিদেশি ও স্বদেশি ফেরাকে বাতেলা।, প্রকাশনা ও প্রাপ্তিস্থান: আল-কাউসার প্রকাশনী, ইসলামী টাওয়ার, বাংলাবাজার, ঢাকা।

মওদুদীর আকিদা ও চিন্তাধারা: আলেম সমাজের আপত্তির কারণ