আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রাক-সতর্কতা ব্যবস্থা, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিগুলোকে উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) যৌথভাবে বিশ্বের সব সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতি এই প্রাকৃতিক বেতার তরঙ্গ সুরক্ষার আহ্বান জানায়।সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ও স্যাটেলাইট সেবার অভাবনীয় সম্প্রসারণের ফলে আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সংবেদনশীল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) সতর্ক করে বলেছে, প্রাকৃতিক সংকেত মাপার অত্যন্ত দুর্বল ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডগুলো যদি বাণিজ্যিক সিগন্যালের কারণে বিকৃত হয়, তবে জীবন রক্ষাকারী আবহাওয়া সতর্কবার্তা ও প্রাক-দুর্যোগ সংকেতের কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে।জেনেভায় আয়োজিত বিশেষজ্ঞ সম্মেলনে আইটিইউ প্রধান ডরিন বগদান-মার্টিন বলেন, "প্রতি মুহূর্তে মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটগুলো আমাদের বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছে। আবহাওয়া রাডারগুলো দূর থেকে ধেয়ে আসা মারাত্মক ঝড় পর্যবেক্ষণ করে, যা উপকূলীয় ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করে। কোনো ধরনের কৃত্রিম বাধা ছাড়া নিখুঁত স্পেকট্রাম সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা কেবল প্রযুক্তিগত কোনো বিষয় নয়, এটি সরাসরি জননিরাপত্তা ও মানবজীবনের সুরক্ষার বিষয়।"জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে যখন এশিয়া ও আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসহ সমগ্র বৈশ্বিক দক্ষিণ (Global South) ঘন ঘন বন্যা, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও খরার মুখে পড়ছে, তখন দুর্যোগের নিখুঁত পূর্বাভাস পাওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ডব্লিউএমও মহাপরিচালক সেলেস্তে সাউলো বলেন, "মেঘের মধ্যকার জলের ফোঁটা বা বরফের স্ফটিকের আকারের সাথে প্রাকৃতিক তরঙ্গালোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলো প্রাকৃতিক নিয়মেই নির্দিষ্ট সিগন্যাল নির্গমন করে, যার বিকল্প অন্য কোনো কৃত্রিম প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়। এই সংবেদনশীল ব্যান্ডগুলোকে রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব।"যদি এই ফ্রিকোয়েন্সি সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সমাজ কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে উন্নয়নশীল ও ভৌগোলিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলো, যেখানে সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা আবহাওয়া তরঙ্গের ওপরই নির্ভর করে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।