সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ তালিকা থেকে বাদ দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্বাগত জানাল আরব বিশ্ব
দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের বৈষম্যমূলক ও রাজনৈতিক অচল অবস্থা দূর করে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদসহ (জিসিসি) আরব বিশ্বের প্রধান দেশগুলো। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বভৌমত্ব ও নতুন ভবিষ্যতের বিজয়ে দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।সাবেক স্বৈরাচারী শাসক হাফেজ আল-আসাদের শাসনামলে ১৯৭৯ সালে সিরিয়ার ওপর প্রথম আরোপ করা হয়েছিল এই বিধিনিষেধ। কয়েক দশক ধরে সিরীয়দের বিশ্ব অর্থনীতির মূলধারার বাইরে ঠেলে রাখা এবং তাদের মানবিক দুর্ভোগ বৃদ্ধি করার পর অবশেষে সেই কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সোমবার ও মঙ্গলবার কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে মার্কিন সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপে হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ও ভ্রাতৃত্ববোধ:কুয়েত: কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তটিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি ভ্রাতৃপ্রতিম সিরিয়ার দ্রুত পুনর্গঠন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিশ্বমঞ্চে স্বকীয় স্বাধীন সত্ত্বা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে। সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বিক স্থিতিশীলতার প্রতি কুয়েত অবিচল সমর্থন ব্যক্ত করেছে।কাতার: কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে "একটি ইতিবাচক অগ্রগতি" বলে বর্ণনা করে জানান যে, এটি দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী সিরীয় জনগণের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় বড় অবদান রাখবে।সৌদি আরব: রিয়াদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিরিয়ার নতুন সরকার ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের পথ আরও সুগম হবে।সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই): সংযুক্ত আরব আমিরাত উল্লেখ করেছে যে মার্কিন এই পদক্ষেপে সিরিয়ায় বিদেশী বিনিয়োগের দুয়ার উন্মুক্ত করবে এবং সিরীয়দের অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা প্রদান করবে।জর্ডান ও জিসিসি: জর্ডান এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জসিম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই সিরিয়ার স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য এবং সার্বিক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় মুসলিম বিশ্বকে পাশে থাকার আহ্বান জানান।প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বার্তা: মার্কিন সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর দামেস্কে এক ভিডিও বার্তায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেন, “আজকের সিরিয়া নিজের হাতেই তার বেদনাময় অতীতের কালো অধ্যায় মুছে ফেলে উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের পথে পা বাড়াল। অমানবিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” তিনি সিরিয়ার পাশে দাঁড়ানো বন্ধুপ্রতীম সমস্ত পরাশক্তি ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানান।মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, এ পদক্ষেপের ফলে সিরীয় ভূখণ্ডে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পুনরায় উৎসাহিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে অন্যায্য ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ চক্রান্ত ভেঙে সিরীয় জনগণের স্বাধিকার ও স্বাধীন অর্থনীতির এই পুনর্জাগরণকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।