আলজেরিয়ার বিশিষ্ট রাজনৈতিক দল 'ফ্রন্ট ফর জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট'-এর সভাপতি শেখ আবদুল্লাহ জাবাল্লাহ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরোধিতাকারী ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি দেশজুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও নৃশংস অপরাধের প্রেক্ষাপটে সরকার মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের উদ্যোগ নিলে কতিপয় রাজনৈতিক ও নাগরিক গোষ্ঠী এর বিরোধিতা শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে শেখ জাবাল্লাহ এ ধরনের অবস্থানকে ‘শরীয়াহবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ফরাসি শাসন আমলে আলজেরিয়ায় যে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রবেশ করেছে, তা মূল মানবোচিত ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধূলিসাৎ করছে।আলজেরিয়ায় সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও মানবসৃষ্ট নৃশংস অপরাধের পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রপতির এই আইনি পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবাধিকার কর্মীদের কড়া সমালোচনায় মুখর হয়েছেন দেশটির ইসলামপন্থী দল ‘ফ্রন্ট ফর জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর প্রধান শেখ আবদুল্লাহ জাবাল্লাহ।সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত যে উৎস থেকে আসে, তা নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই শীর্ষক একটি দীর্ঘ নিবন্ধে তিনি বিরোধিতাকারীদের যুক্তি খণ্ডন করেন। ঐতিহ্যগত শুধুমাত্র ধর্মীয় বয়ানের বাইরে গিয়ে মিশরের খ্যাতিমান চিন্তাবিদ ড. আবদেল ওয়াহাব আল-মাসিরির আংশিক ও সামগ্রিক ধর্মনিরপেক্ষতা বইয়ের তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে তিনি তার মতামত তুলে ধরেন।শেখ জাবাল্লাহ উল্লেখ করেন, ঘৃণ্য ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের হাত ধরে আলজেরিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষতার আগমন ঘটেছিল এবং ১৯৬২ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই ধারণা শাসনব্যবস্থায় প্রভাব বজায় রেখেছে। তিনি একে সাম্রাজ্যবাদের আনা "সবচেয়ে বড় অভিশাপ" হিসেবে বর্ণনা করেন।তিনি বলেন, আজকের ধর্মনিরপেক্ষতা হলো পশ্চিমা বিশ্বের নতুন ধর্ম। তারা 'গণতন্ত্র', 'মানবাধিকার ও স্বাধীনতা', 'জনগণের হাতে ক্ষমতা', 'সিভিল রাষ্ট্র' এবং 'ক্ষমতার পৃথকীকরণ'-এর মতো বাহ্যিক আকর্ষণীয় ও চটকদার স্লোগানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এটি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব প্রলোভনমূলক ধারণায় বিভ্রান্ত হয়ে আজ অনেক মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।চিন্তাবিদ আল-মাসিরির রেফারেন্স টেনে জাবাল্লাহ আরও বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা কেবল রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করার নাম নয়; বরং মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন থেকে সমস্ত ধর্মীয়, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। ফলে জগতকে কেবল একটি আপেক্ষিক বস্তু হিসেবে দেখা হয়, যেখানে কোনো পবিত্রতার স্থান থাকে না।মৃত্যুদণ্ড বিরোধী মানবাধিকারকর্মীদের প্রশ্নবিদ্ধ করে ইসলামপন্থী এই রাজনীতিক বলেন, "যারা অপরাধীদের ‘জীবনের অধিকার’-এর দোহাই দিয়ে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের দাবি জানাচ্ছেন, তারা আগুনে পুড়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো শত শত নিরীহ মানুষের অধিকারের কথা ভুলে যাচ্ছেন। যে অপরাধীরা পুরো দেশের বন-জঙ্গল, ফসলি জমি ধ্বংস করল এবং শত শত মানুষের জীবন কেড়ে নিল, তাদের অধিকার রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, নাকি যে জনগণ প্রতিবছর এই মানবসৃষ্ট দুর্যোগের শিকার হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ?শেখ জাবাল্লাহ ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শের অনুসারীদের নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি পবিত্র কুরআনের কিসাসের (প্রতিশোধ/ন্যায্যদণ্ড) বিধান উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তির স্বার্থ বা জীবনের চেয়ে পুরো মুসলিম উম্মাহ ও জাতির নিরাপত্তা এবং টিকিয়ে রাখা সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।