ফিলিস্তিন আলেম পরিষদ ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন (আনসারুল্লাহ) এবং সংঘাতের অন্যান্য পক্ষগুলোর প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অনর্থক রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিশেষ বিবৃতিতে আলেম পরিষদ স্পষ্ট করেছে যে, গাজা ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনসূচক কোনো পদক্ষেপই ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপর জুলুমকে বৈধতা দিতে পারে না। তারা বলেন, গাজার নিপীড়িত মানুষের জন্য যে ইনসাফ আমরা দাবি করি, ইয়েমেনের নিরীহ বেসামরিক জনগণের জন্যও ঠিক সেই একই ন্যায়বিচার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।গাজা ও ফিলিস্তিনকে সহায়তার নামে রাজনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ ইয়েমেনি জনগণের ওপর অত্যাচার বা সাধারণ মানুষের রক্তপাতের কোনো অজুহাত বা ছাড়পত্র হতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিন আলেম পরিষদ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা ইয়েমেনের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বেসামরিক মানুষের জানমালের সুরক্ষার বিষয়ে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।বিবৃতিতে বলা হয়, "যে শরীয়াহ দখলদার ইহুদিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাকে আবশ্যক করেছে, সেই একই শরীয়াহ একজন মুসলিমের রক্তকে অপর মুসলিমের জন্য হারাম ও পবিত্র ঘোষণা করেছে।" আলেম পরিষদ জোর দিয়ে জানায় যে, ফিলিস্তিনের সুমহান সংগ্রামকে কখনো কোনো সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ওপর হামলার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তারা বলেন, "ফিলিস্তিন কোনোদিন ইয়েমেনের মানুষের ওপর জুলুমের মাধ্যমে বিজয় লাভ করবে না। শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পতাকাকে নিরীহদের ওপর আক্রমণের অজুহাত বানানো শরীয়াহসম্মত নয়।"সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মানদে প্রণালী অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথিদের নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও বেসামরিক বসতিতে হামলার খবর প্রকাশ পাচ্ছে। ইয়েমেন সরকারের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে তাইজ, আল-হুদায়দাহ এবং মারিবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৫০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।অন্যদিকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, হুথিদের এই সামরিক পদক্ষেপগুলোর অন্তত কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সাধারণ নাবিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি আলেম পরিষদ ইয়েমেনিদের জান, মাল ও সম্মানের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক অজুহাতে সাধারণ মানুষ হত্যা, নারী ও শিশুদের ভীতসন্ত্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা উল্লেখ করেন। তারা আনসারুল্লাহ সহ ইয়েমেনের সংঘাতরত সকল পক্ষকে অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন হামলা বন্ধ এবং মসজিদ, ঘরবাড়ি, শরণার্থী শিবির ও বেসামরিক স্থাপনাকে যুদ্ধের আওতামুক্ত রাখার তাগিদ দেন।একই সাথে পরিষদ ইয়েমেনের আলেম সমাজ ও নেতৃবৃন্দকে নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরা এবং সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। বিবৃতির শেষ অংশে বলা হয়, আল্লাহর শরীয়াহই হলো ন্যায়বিচারের একমাত্র মাপকাঠি। যে নিপীড়িত, সে যে-ই হোক না কেন, তাকে সমর্থন করতে হবে; আর যে জালেম, তার হাত ধরতেই হবে—এটিই ইসলামের মূলনীতি।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।