বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

গুজরাটে পুলিশ হেফাজতে ৭০ বছরের মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যু: দাড়ি টানা ও যৌনাঙ্গে আঘাতের অভিযোগ

ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে পুলিশি হেফাজতে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জহির শেখ নামের ওই বৃদ্ধকে ৫০০ কেজি বিফ (গোমাংস) রাখার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। মৃত্যুর আগে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে দাড়ি টানা, যৌনাঙ্গে লাথি মারা এবং টাকা দাবি করার মতো ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।আহমেদাবাদের জুহাপুরা এলাকায় পুলিশি হেফাজতে জহির শেখ (৭০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশি বর্বরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জহির শেখের পরিবারের দাবি, হেফাজতে অমানুষিক নির্যাতনের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গুজরাট পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবক্ষয় ঘটেছিল।বিতর্কের সূত্রপাত গত ৫ মে আহমেদাবাদের ভেজলপুর এলাকার সোনাল সিনেমা রোডের কাছে পুলিশের একটি অভিযানের মাধ্যমে। পুলিশের দাবি, জুহাপুরার নেহা ফ্ল্যাটসের পেছনের একটি খোলা মাঠ থেকে প্রায় ৫২০ কেজি সন্দেহভাজন গবাদি পশুর মাংস (বিফ) উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে একটি জ্যান্ত বাছুর উদ্ধার এবং অবৈধ কসাইখানার সরঞ্জামসহ ৪.৬৬ লক্ষ টাকার মালামাল ও গাড়ি জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও জহির শেখসহ কয়েকজন পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানায়। পরবর্তীতে ১৬ মে অন্য একটি প্রতিরোধমূলক মামলায় পুলিশ জহির শেখকে আটক করে এবং গোমাংস সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং জহির শেখের ছেলে তৌফিক শেখের রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত দুর্বল ও অর্ধ-চেতন অবস্থায় জহির শেখ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করছেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পুলিশ সদস্যরা তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করেছে, তাঁর দাড়ি ধরে টেনেছে এবং যৌনাঙ্গে লাথি মেরেছে। একই সঙ্গে তিনি "অক্ষয়" নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে টাকা দাবি করার অভিযোগও করেন।জহির শেখের আইনজীবী নোমান ঘাঞ্চি অভিযোগ করেন, বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওপর থার্ড-ডিগ্রি টর্চার চালানো হয়েছে। এমনকি পূর্ববর্তী একটি মারধরের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যরা জহির শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একটি "সন্দেহজনক পানীয়" পিতে বাধ্য করেছিল বলেও তিনি দাবি করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে আহমেদাবাদের এসভিপি (SVP) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।আহমেদাবাদ পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ "সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) এ. বি. ভালান্দ জানান, জহির শেখের ডায়াবেটিসসহ পূর্ব থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ছিল। থানায় অবস্থানকালে তাঁর স্ত্রী তাঁর জন্য যে ওষুধ নিয়ে এসেছিলেন, তা তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।পুলিশের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জহির শেখের বিরুদ্ধে অতীতেও অবৈধ পশুজবাই, পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন, দাঙ্গা এবং হামলার একাধিক মামলা ছিল এবং তিনি ‘পাসা’ (PASA) আইনের অধীনেও আটক হয়েছিলেন।জহির শেখের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এসভিপি হাসপাতালের বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ছেলে তৌফিক শেখ আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জি. এস. মালিকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

গুজরাটে পুলিশ হেফাজতে ৭০ বছরের মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যু: দাড়ি টানা ও যৌনাঙ্গে আঘাতের অভিযোগ