আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসরাইলের বহুল আলোচিত জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ দিন ধরে বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন চরমপন্থী সরকার বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি গড়ে তোলার যে নীতি গ্রহণ করেছে, এই নির্বাচন তার ওপর এক চূড়ান্ত রায় দেবে। এতে একদিকে যেমন ইসরাইলের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের অস্তিত্ব বিলোপের ষড়যন্ত্র আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে।ইসরাইলে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে গভীর সংকট: ঝুঁকির মুখে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাআগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরাইলি জাতীয় নির্বাচন কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকনির্দেশক নয়, বরং দখলদারিত্বের শিকার ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মোড় এনে দিতে যাচ্ছে। উগ্র ডানপন্থী ও ইহুদিবাদী শক্তির মদদপুষ্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকার যেভাবে একের পর এক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।বিচার বিভাগের ওপর করাল গ্রাস ও অভ্যন্তরীণ মেরুকরণনেতানিয়াহু সরকারের বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। নির্বাহী ক্ষমতার ওপর সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির যে সীমা টেনে দেওয়া হয়েছিল, তা ২০২৩ সাল থেকে চলমান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হলে নেতানিয়াহু গোষ্ঠী বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতাকে পুরোপুরি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থী শাসন দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্যোগ নেবে।নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়িও চরম রূপ নিয়েছে। বিরোধী রাজনীতিক ইয়াইর গোলানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু বিতর্কিত অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। গোলান ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার সময় সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেছিলেন। ভিত্তিহীন এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থে ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী একে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদইসরাইলি নির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপের সবচেয়ে বড় মাসুল গুনতে হচ্ছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি জনগণকে। ২০২৩ সালের পর থেকে চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা সামরিক বাহিনীর পাহারায় পশ্চিম তীরে প্রায় ২৫০টি নতুন অবৈধ বসতি ও আউটপোস্ট গড়ে তুলেছে। প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, জমি দখল ও তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে।পরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন বসতি গড়ে তোলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিভিন্ন এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে একটি অখণ্ড ও কার্যকর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যায়।আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নীতিগত বিতর্কইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের এমন বর্বর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও নানা পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার প্রভাব নিয়েও বিভিন্ন মহলে চর্চা হচ্ছে। তবে অনেক মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর দৈনন্দিন নির্যাতন ও সহিংসতা কমাতে এসব প্রতীকী নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।সব মিলিয়ে, আগামী ২৭ অক্টোবরের ভোট কেবল একজন নেতার জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি উগ্র ইহুদিবাদী নীতি ও ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে বেআইনি দখলাভিযান আরও ত্বরান্বিত করবে কিনা, তারই এক আশঙ্কাজনক চূড়ান্ত পরীক্ষা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।