শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদে কালেমা খচিত ফলক স্থাপন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্য এবং ইসলামী মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে পবিত্র কালেমা খচিত ফলক স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ফলক স্থাপন করে। বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভাবগাম্ভীর্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যে গৃহীত এ উদ্যোগকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সার্বিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।কুষ্টিয়ায় অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মূল আদর্শ ও ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বার ও কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রাঙ্গণে পবিত্র 'কালেমা' খচিত বিশেষ ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে জানানো হয়, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞানচর্চার যে অনন্য সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে ১৯৭৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল, সেই স্বতন্ত্র পরিচয় ও লক্ষ্যকে দৃশ্যমান করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ও সন্তোষ পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে ফলক স্থাপনের পর এর নান্দনিকতা ও পবিত্রতা রক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও অভিমত তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থীরা।হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক রহমান প্রশাসনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে কালেমা খচিত ফলক স্থাপন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করে যাবে বলে আমরা আশা করি।”অন্যদিকে, স্থাপত্যশৈলীর সামঞ্জস্য ও দৃষ্টিসুখকর বিন্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জোহা। তিনি বলেন, “উদ্যোগটি প্রশংসার দাবিদার হলেও মনোগ্রামটির নকশা গেটের সামগ্রিক স্থাপত্যের সাথে পুরোপুরি মিলছে না। গেট বা প্রবেশপথে এটি আরও পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে স্থাপন করা হলে তা আরও দৃষ্টিনন্দন হতে পারত।”পবিত্র এই কালিমার মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ত্বকী ওয়াসিফ। তিনি উল্লেখ করেন, “উদ্যোগটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ইতিবাচক। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো পবিত্র এই বাক্যের মর্যাদা বজায় রাখা। স্থাপনা তৈরির পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।”এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন-হাদিসসহ ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার বিশাল সুযোগ রয়েছে। ১৯৭৯ সালে সাধারণ ও ইসলামী শিক্ষার চমৎকার সমন্বয়ের লক্ষ্য নিয়েই এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই স্বতন্ত্র পরিচয়, ধর্মীয় মূলবোধ ও ঐতিহ্যকে সর্বসমক্ষে তুলে ধরতেই এই ফলকগুলো স্থাপন করা হলো।”

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদে কালেমা খচিত ফলক স্থাপন